ঢাকা ০২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল কিশোরগঞ্জের স্বাস্থ্যখাতসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ চলছে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম সংসদ থেকে ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা সংসদ থেকে শুরু করতে চাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বাড়ল দেশের রিজার্ভ দায়িত্বের বাইরে কেউ যেন মন্তব্য না করে : প্রধানমন্ত্রী সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চাই যুদ্ধের মধ্যেই সেনাদের জানাজায় লাখো ইরানির ঢল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও অধিকার সবার আগে : ডিএসসিসি প্রশাসক প্রথম অধিবেশন ঘিরে অতিথিদের প্রবেশ ও গাড়ি পার্কিং নির্দেশনা ইরাকের মাটির নীচে ইরানের ‘মিসাইল সিটি’

কিশোরগঞ্জ বিসিক: প্লট বরাদ্দ হলেও শিল্পের দেখা নেই ৩৮ বছরে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৫৯:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩ বার

শিল্প ও কর্মসংস্থানের আশায় দীর্ঘ ৩৮ বছর অপেক্ষার পর এখনো কার্যকর শিল্পাঞ্চলে রূপ পায়নি কিশোরগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী। কাগজ-কলমে একে প্রায় পূর্ণ শিল্পনগরী বলা হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে নেই শিল্পের গতি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ। অব্যবস্থাপনা, সেবার ঘাটতি আর প্রশাসনিক জটিলতায় শিল্পনগরীটি ধীরে ধীরে অনেকটা পরিত্যক্ত শিল্প এলাকায় পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে ২১ একর জমিতে গড়ে ওঠা এ শিল্পনগরীতে ১৫০টি প্লটের প্রায় সবই বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ প্লটে নেই শিল্প কার্যক্রম, কোথাও পরিত্যক্ত ভবন, কোথাও ঝুলছে শুধু নামসর্বস্ব সাইনবোর্ড। নিয়মিত উৎপাদনে রয়েছে খুব অল্প কয়েকটি কারখানা। যে ক’টি কারখানা চালু রয়েছে, তার অনেকটাই মাঝেমধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে এখানে কার্যকরভাবে চালু কারখানার সংখ্যা ১৫-২০টির বেশি নয়। ফলে যেখানে ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকার কথা, সেখানে কাজ করছেন মাত্র ১ হাজার ৩৫৫ জন শ্রমিক। তাদের বড় একটি অংশ আবার একটিমাত্র কারখানার ওপর নির্ভরশীল।

উদ্যোক্তারা বলছেন, প্লটের জন্য সার্ভিস চার্জ নিয়মিত আদায় হলেও সরকারনির্ধারিত মৌলিক সেবা পাওয়া যায় না। ভাঙাচোরা সড়ক, অচল পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শিল্প পরিচালনাকে ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে দিনদুপুরেও চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

বিসিক শিল্পনগরী মালিক সমিতির সভাপতি আজমল খান বলেন, ‘কিশোরগঞ্জে উদ্যোক্তার অভাব নেই, অভাব আছে পরিবেশের। গ্যাস-সংযোগ না থাকায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় টিকে থাকাই কঠিন।’

কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. মুজিবুর রহমান বেলাল বলেন, ‘বিসিক সহযোগিতা না করলে শিল্প গড়ে উঠবে কীভাবে? এখানকার বাস্তবতা উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে। দৃশ্যমান সংস্কার ও কঠোর ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই শিল্পনগরীর ঘুম ভাঙা কঠিন।’

তবে বিসিক শিল্পনগরী কিশোরগঞ্জের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আছাদুজ্জামান আল ফারুক জানান, কিছু শিল্প বন্ধ রয়েছে, সেগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাস, পানি ও ড্রেনেজ সমস্যার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল

কিশোরগঞ্জ বিসিক: প্লট বরাদ্দ হলেও শিল্পের দেখা নেই ৩৮ বছরে

আপডেট টাইম : ০৯:৫৯:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

শিল্প ও কর্মসংস্থানের আশায় দীর্ঘ ৩৮ বছর অপেক্ষার পর এখনো কার্যকর শিল্পাঞ্চলে রূপ পায়নি কিশোরগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী। কাগজ-কলমে একে প্রায় পূর্ণ শিল্পনগরী বলা হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে নেই শিল্পের গতি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ। অব্যবস্থাপনা, সেবার ঘাটতি আর প্রশাসনিক জটিলতায় শিল্পনগরীটি ধীরে ধীরে অনেকটা পরিত্যক্ত শিল্প এলাকায় পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে ২১ একর জমিতে গড়ে ওঠা এ শিল্পনগরীতে ১৫০টি প্লটের প্রায় সবই বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ প্লটে নেই শিল্প কার্যক্রম, কোথাও পরিত্যক্ত ভবন, কোথাও ঝুলছে শুধু নামসর্বস্ব সাইনবোর্ড। নিয়মিত উৎপাদনে রয়েছে খুব অল্প কয়েকটি কারখানা। যে ক’টি কারখানা চালু রয়েছে, তার অনেকটাই মাঝেমধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে এখানে কার্যকরভাবে চালু কারখানার সংখ্যা ১৫-২০টির বেশি নয়। ফলে যেখানে ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকার কথা, সেখানে কাজ করছেন মাত্র ১ হাজার ৩৫৫ জন শ্রমিক। তাদের বড় একটি অংশ আবার একটিমাত্র কারখানার ওপর নির্ভরশীল।

উদ্যোক্তারা বলছেন, প্লটের জন্য সার্ভিস চার্জ নিয়মিত আদায় হলেও সরকারনির্ধারিত মৌলিক সেবা পাওয়া যায় না। ভাঙাচোরা সড়ক, অচল পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শিল্প পরিচালনাকে ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে দিনদুপুরেও চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

বিসিক শিল্পনগরী মালিক সমিতির সভাপতি আজমল খান বলেন, ‘কিশোরগঞ্জে উদ্যোক্তার অভাব নেই, অভাব আছে পরিবেশের। গ্যাস-সংযোগ না থাকায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় টিকে থাকাই কঠিন।’

কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. মুজিবুর রহমান বেলাল বলেন, ‘বিসিক সহযোগিতা না করলে শিল্প গড়ে উঠবে কীভাবে? এখানকার বাস্তবতা উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে। দৃশ্যমান সংস্কার ও কঠোর ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই শিল্পনগরীর ঘুম ভাঙা কঠিন।’

তবে বিসিক শিল্পনগরী কিশোরগঞ্জের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আছাদুজ্জামান আল ফারুক জানান, কিছু শিল্প বন্ধ রয়েছে, সেগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাস, পানি ও ড্রেনেজ সমস্যার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।