ঢাকা ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মদনে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার মিঠামইনে ‘তাজুল’ ইস্যুতে প্রবাসীর স্ট্যাটাস ভাইরাল, এলাকায় তোলপাড় ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে উন্নীতকরণের কাজ চলমান পুলিশে বড় নিয়োগ, কোন জেলায় পদসংখ্যা কত জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ২ আসামির ফাঁসি, ৩ জনের যাবজ্জীবন ইহুদিদের জীবনে কিয়ামতের প্রলয়! তেল আবিব-জেরুজালেম জ্বালিয়ে দেওয়ার শপথ হিজবুল্লাহর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদে বাণিজ্য ঘাটতি ৮ মাসে দুই লাখ কোটি টাকা অতিক্রম শ্রমিক নিয়োগে ‘জিরো কস্ট’ নীতি, মালয়েশিয়ার বাজারে ফিরছে বাংলাদেশ

ভৈরব বিএনপির ইতিহাসে তৃণমূল থেকে উঠে আসা দুই প্রভাবশালী নেতৃত্ব

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:০৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৬৪ বার

Oplus_16908288

কিশোরগঞ্জ জেলা ভৈরব উপজেলা বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে উঠে আসা নেতৃত্বের মধ্যে মরহুম গিয়াসউদ্দিন আহমদ ছিলেন অন্যতম উজ্জ্বল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। শিবপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করা এই বর্ষীয়ান নেতা তৃণমূল রাজনীতি থেকেই নিজেকে গড়ে তোলেন।

তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি দলকে সুসংগঠিত ও গতিশীল রাখেন। সাহসী, স্পষ্টভাষী ও আপসহীন এই নেতা ব্যক্তি ও রাজনৈতিক—উভয় পরিচয়েই ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়।

মরহুম গিয়াসউদ্দিন আহমদের হাত ধরেই ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে রাজনীতিতে আসা অসংখ্য নেতাকর্মী আজও ভৈরব বিএনপির শক্ত ভিত হিসেবে কাজ করছেন। পরবর্তীতে ভৈরব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০২০ সালের ২ জুন এই বর্ষীয়ান নেতা ইন্তেকাল করেন। তবে তাঁর শূন্যতা আজও ভৈরবের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।
ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় পর্যায়ে উত্থান আসাদুজ্জামান আসাদের
ভৈরবের আরেক কৃতি সন্তান আসাদুজ্জামান আসাদ জন্মগ্রহণ করেন উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নে। ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিয়নেই জন্ম হয়েছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের আপসহীন যোদ্ধা রেবতী মোহন বর্মণের।

১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন আসাদুজ্জামান আসাদ। মুহসিন হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়।

মেধা, পরিশ্রম ও সংগঠনিক দক্ষতার কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতায় পরিণত হন। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘আসাদ গ্রুপ’ একসময় ক্যাম্পাস রাজনীতিতে অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে রূপ নেয়।

তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা নাসিরউদ্দিন পিন্টু তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় আস্থাশীল হয়ে আসাদুজ্জামান আসাদকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেন।

১৯৯৯ সালে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে হরতালের পক্ষে মিছিল ও পিকেটিং করার সময় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। ওই সময় বিস্ফোরক আইনে সাজানো মামলায় গ্রেফতারের ঘটনা বিটিভি, একুশে টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে দেশজুড়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

আসাদুজ্জামান আসাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে তৎকালীন ভৈরব উপজেলা বিএনপি সভাপতি মরহুম গিয়াসউদ্দিন আহমদের নির্দেশে ভৈরব উপজেলা, পৌর ও কলেজ শাখা ছাত্রদল হাজী আসমত কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।

পরবর্তীতে নানা প্রতিকূলতা ও অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের শিকার হলেও তিনি দমে যাননি। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রভাবশালী যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে ছাত্রদলের কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় টিম লিডারের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এ সময় ছাত্রদলের অভিভাবক তারেক রহমান-এর কাছ থেকেও প্রশংসা অর্জন করেন তিনি।
ভৈরব উপজেলায় জন্ম নেওয়া এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক তারকা ছাত্রনেতার আগামীর রাজনৈতিক পথচলা আরও সুদৃঢ় ও সফল হোক—এমন প্রত্যাশাই এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের।

সবার আগে বাংলাদেশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মদনে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ভৈরব বিএনপির ইতিহাসে তৃণমূল থেকে উঠে আসা দুই প্রভাবশালী নেতৃত্ব

আপডেট টাইম : ০১:০৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

কিশোরগঞ্জ জেলা ভৈরব উপজেলা বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে উঠে আসা নেতৃত্বের মধ্যে মরহুম গিয়াসউদ্দিন আহমদ ছিলেন অন্যতম উজ্জ্বল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। শিবপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করা এই বর্ষীয়ান নেতা তৃণমূল রাজনীতি থেকেই নিজেকে গড়ে তোলেন।

তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি দলকে সুসংগঠিত ও গতিশীল রাখেন। সাহসী, স্পষ্টভাষী ও আপসহীন এই নেতা ব্যক্তি ও রাজনৈতিক—উভয় পরিচয়েই ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়।

মরহুম গিয়াসউদ্দিন আহমদের হাত ধরেই ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে রাজনীতিতে আসা অসংখ্য নেতাকর্মী আজও ভৈরব বিএনপির শক্ত ভিত হিসেবে কাজ করছেন। পরবর্তীতে ভৈরব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০২০ সালের ২ জুন এই বর্ষীয়ান নেতা ইন্তেকাল করেন। তবে তাঁর শূন্যতা আজও ভৈরবের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।
ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় পর্যায়ে উত্থান আসাদুজ্জামান আসাদের
ভৈরবের আরেক কৃতি সন্তান আসাদুজ্জামান আসাদ জন্মগ্রহণ করেন উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নে। ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিয়নেই জন্ম হয়েছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের আপসহীন যোদ্ধা রেবতী মোহন বর্মণের।

১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন আসাদুজ্জামান আসাদ। মুহসিন হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়।

মেধা, পরিশ্রম ও সংগঠনিক দক্ষতার কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতায় পরিণত হন। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘আসাদ গ্রুপ’ একসময় ক্যাম্পাস রাজনীতিতে অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে রূপ নেয়।

তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা নাসিরউদ্দিন পিন্টু তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় আস্থাশীল হয়ে আসাদুজ্জামান আসাদকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেন।

১৯৯৯ সালে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে হরতালের পক্ষে মিছিল ও পিকেটিং করার সময় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। ওই সময় বিস্ফোরক আইনে সাজানো মামলায় গ্রেফতারের ঘটনা বিটিভি, একুশে টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে দেশজুড়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

আসাদুজ্জামান আসাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে তৎকালীন ভৈরব উপজেলা বিএনপি সভাপতি মরহুম গিয়াসউদ্দিন আহমদের নির্দেশে ভৈরব উপজেলা, পৌর ও কলেজ শাখা ছাত্রদল হাজী আসমত কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।

পরবর্তীতে নানা প্রতিকূলতা ও অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের শিকার হলেও তিনি দমে যাননি। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রভাবশালী যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে ছাত্রদলের কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় টিম লিডারের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এ সময় ছাত্রদলের অভিভাবক তারেক রহমান-এর কাছ থেকেও প্রশংসা অর্জন করেন তিনি।
ভৈরব উপজেলায় জন্ম নেওয়া এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক তারকা ছাত্রনেতার আগামীর রাজনৈতিক পথচলা আরও সুদৃঢ় ও সফল হোক—এমন প্রত্যাশাই এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের।

সবার আগে বাংলাদেশ।