ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নরসিংদী ডিসি অফিসের ‘কোটিপতি পিয়ন’ জিয়ার আমলনামা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩২ বার

Oplus_16908288

নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক (পিয়ন) জিয়ার হোসেন—সরকারি বেতন মাত্র ২০–২৫ হাজার টাকা। অথচ স্থানীয়দের দাবি, আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বিপুল সম্পদের মালিক তিনি। জমি, বহুতল ভবন, বিলাসবহুল বাড়ি—সব মিলিয়ে তার সামর্থ্য সাধারণ কর্মচারীর তুলনায় বহু গুণ বেশি। ফলে জেলা জুড়ে উঠেছে তীব্র প্রশ্ন—চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর হাতে এত সম্পদ এলো কোথা থেকে?

বিলাসদীতে কোটি টাকার ভবন:

স্থানীয় সূত্র জানায়, নরসিংদী শহরের বিলাসদী এলাকায় সাড়ে তিন শতাংশ জমির ওপর প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করছেন জিয়ার। জমিটির বাজারমূল্যও আনুমানিক এক কোটি টাকা বলে দাবি এলাকাবাসীর।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে নির্মাণস্থলের পাশ দিয়ে চলাচলকারী মানুষ দুর্ঘটনার শঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। উপর থেকে ইটপাথর পড়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাদের দাবি।

বেনামি জমি ও গোপন সম্পদ:

বিলাসদীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জিয়ার হোসেনের নামে-বেনামে আরও জমি ক্রয়ের তথ্য দিয়েছেন স্থানীয়রা। কোথাও বহুতল ভবন, কোথাও নতুন ভিত্তিপ্রস্তর—সব মিলিয়ে গোপন সম্পদ বাড়ানোর অভিযোগ দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

এছাড়া শিবপুর উপজেলার দক্ষিণ কারার চর এলাকায় তার একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মিত হয়েছে বলেও জানা গেছে।

নামে-বেনামে ব্যাংকে কোটি টাকা:

অভিযোগে আরও বলা হচ্ছে, বিভিন্ন ব্যাংকে জিয়ার হোসেনের নামে-বেনামে কোটি টাকার আমানত রয়েছে। তবে এসব অর্থের উৎস সম্পর্কে তিনি কখনো কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে পাল্টা মন্তব্য:

বিষয়টি জানতে সাংবাদিকরা জিয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি। বরং বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন—
আমাকে ফোন দেবেন না। আপনারা সংবাদ প্রকাশ করেন, আমার কিছুই হবে না। ডিসি স্যার সব জানে।”

তার এমন মন্তব্য স্থানীয়দের আরও বিস্মিত করেছে।

দুদকের তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর:

সীমিত আয়ের একজন সরকারি কর্মচারী কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুল সম্পদের মালিক হলেন—এ প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। স্থানীয়দের মত, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যদি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করে, তবে জিয়ার হোসেনের অস্বাভাবিক সম্পদের আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

নরসিংদী ডিসি অফিসের ‘কোটিপতি পিয়ন’ জিয়ার আমলনামা

আপডেট টাইম : ০১:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক (পিয়ন) জিয়ার হোসেন—সরকারি বেতন মাত্র ২০–২৫ হাজার টাকা। অথচ স্থানীয়দের দাবি, আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বিপুল সম্পদের মালিক তিনি। জমি, বহুতল ভবন, বিলাসবহুল বাড়ি—সব মিলিয়ে তার সামর্থ্য সাধারণ কর্মচারীর তুলনায় বহু গুণ বেশি। ফলে জেলা জুড়ে উঠেছে তীব্র প্রশ্ন—চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর হাতে এত সম্পদ এলো কোথা থেকে?

বিলাসদীতে কোটি টাকার ভবন:

স্থানীয় সূত্র জানায়, নরসিংদী শহরের বিলাসদী এলাকায় সাড়ে তিন শতাংশ জমির ওপর প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করছেন জিয়ার। জমিটির বাজারমূল্যও আনুমানিক এক কোটি টাকা বলে দাবি এলাকাবাসীর।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে নির্মাণস্থলের পাশ দিয়ে চলাচলকারী মানুষ দুর্ঘটনার শঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। উপর থেকে ইটপাথর পড়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাদের দাবি।

বেনামি জমি ও গোপন সম্পদ:

বিলাসদীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জিয়ার হোসেনের নামে-বেনামে আরও জমি ক্রয়ের তথ্য দিয়েছেন স্থানীয়রা। কোথাও বহুতল ভবন, কোথাও নতুন ভিত্তিপ্রস্তর—সব মিলিয়ে গোপন সম্পদ বাড়ানোর অভিযোগ দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

এছাড়া শিবপুর উপজেলার দক্ষিণ কারার চর এলাকায় তার একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মিত হয়েছে বলেও জানা গেছে।

নামে-বেনামে ব্যাংকে কোটি টাকা:

অভিযোগে আরও বলা হচ্ছে, বিভিন্ন ব্যাংকে জিয়ার হোসেনের নামে-বেনামে কোটি টাকার আমানত রয়েছে। তবে এসব অর্থের উৎস সম্পর্কে তিনি কখনো কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে পাল্টা মন্তব্য:

বিষয়টি জানতে সাংবাদিকরা জিয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি। বরং বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন—
আমাকে ফোন দেবেন না। আপনারা সংবাদ প্রকাশ করেন, আমার কিছুই হবে না। ডিসি স্যার সব জানে।”

তার এমন মন্তব্য স্থানীয়দের আরও বিস্মিত করেছে।

দুদকের তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর:

সীমিত আয়ের একজন সরকারি কর্মচারী কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুল সম্পদের মালিক হলেন—এ প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। স্থানীয়দের মত, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যদি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করে, তবে জিয়ার হোসেনের অস্বাভাবিক সম্পদের আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।