ঢাকা ০৪:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুয়া জার্মান ক্লাব বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা ঢাকা উত্তরে দুই, দক্ষিণে চার নেতা আলোচনায় বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী নয় বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সেরা পরামর্শ’ দিয়েছিলেন: ইশরাক প্রশাসনের নাকের ডগায় অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়ি’ বলে অভয় দেওয়া হয় আমন্ত্রিতদের ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাইবার সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

অষ্টগ্রাম হাওরের সেচ প্রকল্পে ৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ– ইউএনও দিলশাদ জাহান প্রত্যাহার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৩৫:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২৮ বার

Oplus_16908288

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ৭৪টি সেচ প্রকল্পকে ঘিরে ৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা. দিলশাদ জাহানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশে জানানো হয়—তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে এবং ২ ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল অষ্টগ্রাম:

চলতি সেচ মৌসুমে অষ্টগ্রামের ৭৪টি সেচ প্রকল্পে ম্যানেজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই অনিয়ম, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ঘুষ–দুর্নীতির নানা অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুসারে, কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার মদদে ইউএনওর নেতৃত্বাধীন সেচ কমিটি প্রায় চার কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে ম্যানেজার নিয়োগের তালিকা চূড়ান্ত করে।

ভাতশালা বৃহত্তর সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার পদে আবেদনকারী মাহবুব আলম কিসমত এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করলে আদালত উপজেলা সেচ কমিটির বিরুদ্ধে রুল জারি করেন এবং প্রকল্পের কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন।

পরে স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক ফাইজুল হক রাজনকে পুনরায় দায়িত্ব হস্তান্তরের আবেদনও করা হয়। স্থানীয়দের দাবি—রাজন অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রত্না হকের ছেলে।

কৃষকদের বিক্ষোভ–মানববন্ধন:

স্থানীয় কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন, প্রকল্পের বৈঠক শুরুর আগেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কয়েকজনের নাম তালিকায় ঢুকিয়ে রাখা হয়। প্রকৃত কৃষকেরা বাদ পড়েন, ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এ নিয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একের পর এক লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।

সব অভিযোগ উপেক্ষা করে ৬ নভেম্বর ইউএনও অফিসের নোটিশ বোর্ডে হঠাৎ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলে পুরো অষ্টগ্রামে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কোনোরূপ যাচাই–বাছাই, কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা বা কমিটির নিয়মিত সভা ছাড়াই তালিকা প্রকাশের অভিযোগ ওঠে।

১২ নভেম্বর কালের কণ্ঠে “৭৪ সেচ প্রকল্পে ৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনাটি আরও আলোচিত হয়।

আবেদনকারীদের ক্ষোভ:

ম্যানেজার প্রার্থী শিপু চৌধুরী বলেন, “এখানে বেপরোয়া ঘুষ–দুর্নীতি হয়েছে। আবেদনকারীদের থেকে যে টাকা নেওয়া হয়েছে, তার কিছুই এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি।”

তবে ইউএনও দিলশাদ জাহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন—“অভিযোগ পেলে তদন্ত হবে। আমি কোনো অনিয়ম করিনি।”

প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও কৃষকদের দাবি:

প্রশাসন সূত্র জানায়—মাঠ পর্যায়ের অভিযোগ, নথির অসংগতি এবং কৃষকদের আন্দোলন—সব মিলিয়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইউএনওর প্রত্যাহারের খবরে কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ফিরেছে। তবে অনেকে বলেন—“ঘুষের টাকা ফেরত না পেলে আমরা সন্তুষ্ট নই।”
তাদের দাবি—
সেচ প্রকল্পে স্বচ্ছ নিয়োগ
দুর্নীতির পূর্ণ তদন্ত
জড়িত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের বিচার
ভবিষ্যতে কৃষকদের সরাসরি ভোটে ম্যানেজার নিয়োগ

দুদকে অভিযোগ:

ইতোমধ্যে বৃহত্তর কাস্তুল–ভাতশালা সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার প্রার্থী এম আর চৌধুরী শিপু গত ২০ নভেম্বর দুদকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। সেখানে সেচ কমিটির বিরুদ্ধে ঘুষ–দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির তদন্ত দাবি করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল

অষ্টগ্রাম হাওরের সেচ প্রকল্পে ৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ– ইউএনও দিলশাদ জাহান প্রত্যাহার

আপডেট টাইম : ০২:৩৫:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ৭৪টি সেচ প্রকল্পকে ঘিরে ৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা. দিলশাদ জাহানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশে জানানো হয়—তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে এবং ২ ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল অষ্টগ্রাম:

চলতি সেচ মৌসুমে অষ্টগ্রামের ৭৪টি সেচ প্রকল্পে ম্যানেজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই অনিয়ম, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ঘুষ–দুর্নীতির নানা অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুসারে, কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার মদদে ইউএনওর নেতৃত্বাধীন সেচ কমিটি প্রায় চার কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে ম্যানেজার নিয়োগের তালিকা চূড়ান্ত করে।

ভাতশালা বৃহত্তর সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার পদে আবেদনকারী মাহবুব আলম কিসমত এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করলে আদালত উপজেলা সেচ কমিটির বিরুদ্ধে রুল জারি করেন এবং প্রকল্পের কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন।

পরে স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক ফাইজুল হক রাজনকে পুনরায় দায়িত্ব হস্তান্তরের আবেদনও করা হয়। স্থানীয়দের দাবি—রাজন অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রত্না হকের ছেলে।

কৃষকদের বিক্ষোভ–মানববন্ধন:

স্থানীয় কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন, প্রকল্পের বৈঠক শুরুর আগেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কয়েকজনের নাম তালিকায় ঢুকিয়ে রাখা হয়। প্রকৃত কৃষকেরা বাদ পড়েন, ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এ নিয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একের পর এক লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।

সব অভিযোগ উপেক্ষা করে ৬ নভেম্বর ইউএনও অফিসের নোটিশ বোর্ডে হঠাৎ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলে পুরো অষ্টগ্রামে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কোনোরূপ যাচাই–বাছাই, কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা বা কমিটির নিয়মিত সভা ছাড়াই তালিকা প্রকাশের অভিযোগ ওঠে।

১২ নভেম্বর কালের কণ্ঠে “৭৪ সেচ প্রকল্পে ৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনাটি আরও আলোচিত হয়।

আবেদনকারীদের ক্ষোভ:

ম্যানেজার প্রার্থী শিপু চৌধুরী বলেন, “এখানে বেপরোয়া ঘুষ–দুর্নীতি হয়েছে। আবেদনকারীদের থেকে যে টাকা নেওয়া হয়েছে, তার কিছুই এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি।”

তবে ইউএনও দিলশাদ জাহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন—“অভিযোগ পেলে তদন্ত হবে। আমি কোনো অনিয়ম করিনি।”

প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও কৃষকদের দাবি:

প্রশাসন সূত্র জানায়—মাঠ পর্যায়ের অভিযোগ, নথির অসংগতি এবং কৃষকদের আন্দোলন—সব মিলিয়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইউএনওর প্রত্যাহারের খবরে কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ফিরেছে। তবে অনেকে বলেন—“ঘুষের টাকা ফেরত না পেলে আমরা সন্তুষ্ট নই।”
তাদের দাবি—
সেচ প্রকল্পে স্বচ্ছ নিয়োগ
দুর্নীতির পূর্ণ তদন্ত
জড়িত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের বিচার
ভবিষ্যতে কৃষকদের সরাসরি ভোটে ম্যানেজার নিয়োগ

দুদকে অভিযোগ:

ইতোমধ্যে বৃহত্তর কাস্তুল–ভাতশালা সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার প্রার্থী এম আর চৌধুরী শিপু গত ২০ নভেম্বর দুদকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। সেখানে সেচ কমিটির বিরুদ্ধে ঘুষ–দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির তদন্ত দাবি করা হয়েছে।