ঢাকা ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ২৫ নভেম্বর, ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদনের শেষ সময় জানাল ইসি ফুটবলে এবার ‘ইলেকট্রনিক কার্ড’ সাত ইসলামী দলের ঐক্য গড়তে মতবিরোধ কমছে শ্রম আদালতের মামলাজট নিরসনে কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ স্পট পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর, হাসপাতাল-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি কোয়ার্টার তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী প্রাক্তনকে ক্ষমা করতে চান না পরী জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, দিলেন যে ব্যাখ্যা

অষ্টগ্রাম হাওরের সেচ প্রকল্পে ৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ– ইউএনও দিলশাদ জাহান প্রত্যাহার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৩৫:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২৫ বার

Oplus_16908288

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ৭৪টি সেচ প্রকল্পকে ঘিরে ৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা. দিলশাদ জাহানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশে জানানো হয়—তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে এবং ২ ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল অষ্টগ্রাম:

চলতি সেচ মৌসুমে অষ্টগ্রামের ৭৪টি সেচ প্রকল্পে ম্যানেজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই অনিয়ম, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ঘুষ–দুর্নীতির নানা অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুসারে, কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার মদদে ইউএনওর নেতৃত্বাধীন সেচ কমিটি প্রায় চার কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে ম্যানেজার নিয়োগের তালিকা চূড়ান্ত করে।

ভাতশালা বৃহত্তর সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার পদে আবেদনকারী মাহবুব আলম কিসমত এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করলে আদালত উপজেলা সেচ কমিটির বিরুদ্ধে রুল জারি করেন এবং প্রকল্পের কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন।

পরে স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক ফাইজুল হক রাজনকে পুনরায় দায়িত্ব হস্তান্তরের আবেদনও করা হয়। স্থানীয়দের দাবি—রাজন অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রত্না হকের ছেলে।

কৃষকদের বিক্ষোভ–মানববন্ধন:

স্থানীয় কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন, প্রকল্পের বৈঠক শুরুর আগেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কয়েকজনের নাম তালিকায় ঢুকিয়ে রাখা হয়। প্রকৃত কৃষকেরা বাদ পড়েন, ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এ নিয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একের পর এক লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।

সব অভিযোগ উপেক্ষা করে ৬ নভেম্বর ইউএনও অফিসের নোটিশ বোর্ডে হঠাৎ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলে পুরো অষ্টগ্রামে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কোনোরূপ যাচাই–বাছাই, কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা বা কমিটির নিয়মিত সভা ছাড়াই তালিকা প্রকাশের অভিযোগ ওঠে।

১২ নভেম্বর কালের কণ্ঠে “৭৪ সেচ প্রকল্পে ৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনাটি আরও আলোচিত হয়।

আবেদনকারীদের ক্ষোভ:

ম্যানেজার প্রার্থী শিপু চৌধুরী বলেন, “এখানে বেপরোয়া ঘুষ–দুর্নীতি হয়েছে। আবেদনকারীদের থেকে যে টাকা নেওয়া হয়েছে, তার কিছুই এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি।”

তবে ইউএনও দিলশাদ জাহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন—“অভিযোগ পেলে তদন্ত হবে। আমি কোনো অনিয়ম করিনি।”

প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও কৃষকদের দাবি:

প্রশাসন সূত্র জানায়—মাঠ পর্যায়ের অভিযোগ, নথির অসংগতি এবং কৃষকদের আন্দোলন—সব মিলিয়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইউএনওর প্রত্যাহারের খবরে কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ফিরেছে। তবে অনেকে বলেন—“ঘুষের টাকা ফেরত না পেলে আমরা সন্তুষ্ট নই।”
তাদের দাবি—
সেচ প্রকল্পে স্বচ্ছ নিয়োগ
দুর্নীতির পূর্ণ তদন্ত
জড়িত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের বিচার
ভবিষ্যতে কৃষকদের সরাসরি ভোটে ম্যানেজার নিয়োগ

দুদকে অভিযোগ:

ইতোমধ্যে বৃহত্তর কাস্তুল–ভাতশালা সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার প্রার্থী এম আর চৌধুরী শিপু গত ২০ নভেম্বর দুদকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। সেখানে সেচ কমিটির বিরুদ্ধে ঘুষ–দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির তদন্ত দাবি করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ২৫ নভেম্বর, ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদনের শেষ সময় জানাল ইসি

অষ্টগ্রাম হাওরের সেচ প্রকল্পে ৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ– ইউএনও দিলশাদ জাহান প্রত্যাহার

আপডেট টাইম : ০২:৩৫:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ৭৪টি সেচ প্রকল্পকে ঘিরে ৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা. দিলশাদ জাহানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশে জানানো হয়—তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে এবং ২ ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল অষ্টগ্রাম:

চলতি সেচ মৌসুমে অষ্টগ্রামের ৭৪টি সেচ প্রকল্পে ম্যানেজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই অনিয়ম, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ঘুষ–দুর্নীতির নানা অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুসারে, কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার মদদে ইউএনওর নেতৃত্বাধীন সেচ কমিটি প্রায় চার কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে ম্যানেজার নিয়োগের তালিকা চূড়ান্ত করে।

ভাতশালা বৃহত্তর সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার পদে আবেদনকারী মাহবুব আলম কিসমত এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করলে আদালত উপজেলা সেচ কমিটির বিরুদ্ধে রুল জারি করেন এবং প্রকল্পের কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন।

পরে স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক ফাইজুল হক রাজনকে পুনরায় দায়িত্ব হস্তান্তরের আবেদনও করা হয়। স্থানীয়দের দাবি—রাজন অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রত্না হকের ছেলে।

কৃষকদের বিক্ষোভ–মানববন্ধন:

স্থানীয় কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন, প্রকল্পের বৈঠক শুরুর আগেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কয়েকজনের নাম তালিকায় ঢুকিয়ে রাখা হয়। প্রকৃত কৃষকেরা বাদ পড়েন, ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এ নিয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একের পর এক লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।

সব অভিযোগ উপেক্ষা করে ৬ নভেম্বর ইউএনও অফিসের নোটিশ বোর্ডে হঠাৎ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলে পুরো অষ্টগ্রামে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কোনোরূপ যাচাই–বাছাই, কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা বা কমিটির নিয়মিত সভা ছাড়াই তালিকা প্রকাশের অভিযোগ ওঠে।

১২ নভেম্বর কালের কণ্ঠে “৭৪ সেচ প্রকল্পে ৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনাটি আরও আলোচিত হয়।

আবেদনকারীদের ক্ষোভ:

ম্যানেজার প্রার্থী শিপু চৌধুরী বলেন, “এখানে বেপরোয়া ঘুষ–দুর্নীতি হয়েছে। আবেদনকারীদের থেকে যে টাকা নেওয়া হয়েছে, তার কিছুই এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি।”

তবে ইউএনও দিলশাদ জাহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন—“অভিযোগ পেলে তদন্ত হবে। আমি কোনো অনিয়ম করিনি।”

প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও কৃষকদের দাবি:

প্রশাসন সূত্র জানায়—মাঠ পর্যায়ের অভিযোগ, নথির অসংগতি এবং কৃষকদের আন্দোলন—সব মিলিয়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইউএনওর প্রত্যাহারের খবরে কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ফিরেছে। তবে অনেকে বলেন—“ঘুষের টাকা ফেরত না পেলে আমরা সন্তুষ্ট নই।”
তাদের দাবি—
সেচ প্রকল্পে স্বচ্ছ নিয়োগ
দুর্নীতির পূর্ণ তদন্ত
জড়িত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের বিচার
ভবিষ্যতে কৃষকদের সরাসরি ভোটে ম্যানেজার নিয়োগ

দুদকে অভিযোগ:

ইতোমধ্যে বৃহত্তর কাস্তুল–ভাতশালা সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার প্রার্থী এম আর চৌধুরী শিপু গত ২০ নভেম্বর দুদকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। সেখানে সেচ কমিটির বিরুদ্ধে ঘুষ–দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির তদন্ত দাবি করা হয়েছে।