ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

অষ্টগ্রাম হাওরের সেচ প্রকল্পে ৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ– ইউএনও দিলশাদ জাহান প্রত্যাহার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৩৫:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৯৭ বার

Oplus_16908288

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ৭৪টি সেচ প্রকল্পকে ঘিরে ৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা. দিলশাদ জাহানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশে জানানো হয়—তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে এবং ২ ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল অষ্টগ্রাম:

চলতি সেচ মৌসুমে অষ্টগ্রামের ৭৪টি সেচ প্রকল্পে ম্যানেজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই অনিয়ম, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ঘুষ–দুর্নীতির নানা অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুসারে, কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার মদদে ইউএনওর নেতৃত্বাধীন সেচ কমিটি প্রায় চার কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে ম্যানেজার নিয়োগের তালিকা চূড়ান্ত করে।

ভাতশালা বৃহত্তর সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার পদে আবেদনকারী মাহবুব আলম কিসমত এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করলে আদালত উপজেলা সেচ কমিটির বিরুদ্ধে রুল জারি করেন এবং প্রকল্পের কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন।

পরে স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক ফাইজুল হক রাজনকে পুনরায় দায়িত্ব হস্তান্তরের আবেদনও করা হয়। স্থানীয়দের দাবি—রাজন অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রত্না হকের ছেলে।

কৃষকদের বিক্ষোভ–মানববন্ধন:

স্থানীয় কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন, প্রকল্পের বৈঠক শুরুর আগেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কয়েকজনের নাম তালিকায় ঢুকিয়ে রাখা হয়। প্রকৃত কৃষকেরা বাদ পড়েন, ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এ নিয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একের পর এক লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।

সব অভিযোগ উপেক্ষা করে ৬ নভেম্বর ইউএনও অফিসের নোটিশ বোর্ডে হঠাৎ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলে পুরো অষ্টগ্রামে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কোনোরূপ যাচাই–বাছাই, কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা বা কমিটির নিয়মিত সভা ছাড়াই তালিকা প্রকাশের অভিযোগ ওঠে।

১২ নভেম্বর কালের কণ্ঠে “৭৪ সেচ প্রকল্পে ৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনাটি আরও আলোচিত হয়।

আবেদনকারীদের ক্ষোভ:

ম্যানেজার প্রার্থী শিপু চৌধুরী বলেন, “এখানে বেপরোয়া ঘুষ–দুর্নীতি হয়েছে। আবেদনকারীদের থেকে যে টাকা নেওয়া হয়েছে, তার কিছুই এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি।”

তবে ইউএনও দিলশাদ জাহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন—“অভিযোগ পেলে তদন্ত হবে। আমি কোনো অনিয়ম করিনি।”

প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও কৃষকদের দাবি:

প্রশাসন সূত্র জানায়—মাঠ পর্যায়ের অভিযোগ, নথির অসংগতি এবং কৃষকদের আন্দোলন—সব মিলিয়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইউএনওর প্রত্যাহারের খবরে কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ফিরেছে। তবে অনেকে বলেন—“ঘুষের টাকা ফেরত না পেলে আমরা সন্তুষ্ট নই।”
তাদের দাবি—
সেচ প্রকল্পে স্বচ্ছ নিয়োগ
দুর্নীতির পূর্ণ তদন্ত
জড়িত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের বিচার
ভবিষ্যতে কৃষকদের সরাসরি ভোটে ম্যানেজার নিয়োগ

দুদকে অভিযোগ:

ইতোমধ্যে বৃহত্তর কাস্তুল–ভাতশালা সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার প্রার্থী এম আর চৌধুরী শিপু গত ২০ নভেম্বর দুদকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। সেখানে সেচ কমিটির বিরুদ্ধে ঘুষ–দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির তদন্ত দাবি করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

অষ্টগ্রাম হাওরের সেচ প্রকল্পে ৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ– ইউএনও দিলশাদ জাহান প্রত্যাহার

আপডেট টাইম : ০২:৩৫:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ৭৪টি সেচ প্রকল্পকে ঘিরে ৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা. দিলশাদ জাহানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশে জানানো হয়—তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে এবং ২ ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল অষ্টগ্রাম:

চলতি সেচ মৌসুমে অষ্টগ্রামের ৭৪টি সেচ প্রকল্পে ম্যানেজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই অনিয়ম, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ঘুষ–দুর্নীতির নানা অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুসারে, কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার মদদে ইউএনওর নেতৃত্বাধীন সেচ কমিটি প্রায় চার কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে ম্যানেজার নিয়োগের তালিকা চূড়ান্ত করে।

ভাতশালা বৃহত্তর সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার পদে আবেদনকারী মাহবুব আলম কিসমত এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করলে আদালত উপজেলা সেচ কমিটির বিরুদ্ধে রুল জারি করেন এবং প্রকল্পের কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন।

পরে স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক ফাইজুল হক রাজনকে পুনরায় দায়িত্ব হস্তান্তরের আবেদনও করা হয়। স্থানীয়দের দাবি—রাজন অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রত্না হকের ছেলে।

কৃষকদের বিক্ষোভ–মানববন্ধন:

স্থানীয় কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন, প্রকল্পের বৈঠক শুরুর আগেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কয়েকজনের নাম তালিকায় ঢুকিয়ে রাখা হয়। প্রকৃত কৃষকেরা বাদ পড়েন, ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এ নিয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একের পর এক লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।

সব অভিযোগ উপেক্ষা করে ৬ নভেম্বর ইউএনও অফিসের নোটিশ বোর্ডে হঠাৎ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলে পুরো অষ্টগ্রামে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কোনোরূপ যাচাই–বাছাই, কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা বা কমিটির নিয়মিত সভা ছাড়াই তালিকা প্রকাশের অভিযোগ ওঠে।

১২ নভেম্বর কালের কণ্ঠে “৭৪ সেচ প্রকল্পে ৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনাটি আরও আলোচিত হয়।

আবেদনকারীদের ক্ষোভ:

ম্যানেজার প্রার্থী শিপু চৌধুরী বলেন, “এখানে বেপরোয়া ঘুষ–দুর্নীতি হয়েছে। আবেদনকারীদের থেকে যে টাকা নেওয়া হয়েছে, তার কিছুই এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি।”

তবে ইউএনও দিলশাদ জাহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন—“অভিযোগ পেলে তদন্ত হবে। আমি কোনো অনিয়ম করিনি।”

প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও কৃষকদের দাবি:

প্রশাসন সূত্র জানায়—মাঠ পর্যায়ের অভিযোগ, নথির অসংগতি এবং কৃষকদের আন্দোলন—সব মিলিয়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইউএনওর প্রত্যাহারের খবরে কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ফিরেছে। তবে অনেকে বলেন—“ঘুষের টাকা ফেরত না পেলে আমরা সন্তুষ্ট নই।”
তাদের দাবি—
সেচ প্রকল্পে স্বচ্ছ নিয়োগ
দুর্নীতির পূর্ণ তদন্ত
জড়িত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের বিচার
ভবিষ্যতে কৃষকদের সরাসরি ভোটে ম্যানেজার নিয়োগ

দুদকে অভিযোগ:

ইতোমধ্যে বৃহত্তর কাস্তুল–ভাতশালা সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার প্রার্থী এম আর চৌধুরী শিপু গত ২০ নভেম্বর দুদকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। সেখানে সেচ কমিটির বিরুদ্ধে ঘুষ–দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির তদন্ত দাবি করা হয়েছে।