ঢাকা ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

কাঁঠালপাতা বিক্রি করে চলছে সংসার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ১১৭ বার

বিরামপুরে মহাসড়কের পাশের একটি ছোট দোকানেই সাজানো কাঁঠালপাতার স্তূপ। সেই দোকানেই দাঁড়িয়ে ক্রেতাদের ডাক শুনছেন দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল হামিদ। কেউ বলেন, ‘মাস্টার, এক বোঝা পাতা দেন’Ñ এমন ডাক শুনলেই তিনি দ্রুত তুলে দেন তাজা পাতা। দিনের শেষে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলছে তাঁর সংসারের সমস্ত খরচ।

৫৮ বছর বয়সী এই শিক্ষক প্রায় দুই যুগ ধরে বিরামপুর উপজেলার দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের কলাবাগান এলাকায় কাঁঠালপাতা বিক্রি করছেন। অথচ তিনি ২০০২ সালের ১ জুন দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যালয়ে কৃষি বিষয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দিয়েছিলেন। যোগদানের পর এমপিওভুক্তির জন্য ৯ বার আবেদন করলেও প্রতিবারই তা বাতিল হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিদ্যালয়ে পাঠদান করলেও কখনই সরকারি বেতন পাননি তিনি।

আবদুল হামিদের বাড়ি উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় সংসার চালানো দায় হয়ে উঠেছিল। স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ভার সামলাতে বাধ্য হয়ে নিতে হয়েছে কাঁঠালপাতার ব্যবসা। প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয় এ থেকে। তাঁর ভাষায়Ñ ‘শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা আর বিদ্যালয়ের প্রতি মায়া না থাকলে অনেক আগেই সব ছেড়ে দিতাম; কিন্তু ওদের মুখের দিকে তাকালে চলে যেতে মন চায় না।’ বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান করলেও স্কুল থেকে কোনো ভাতা বা আর্থিক সহায়তাও পান না তিনি। তারপরও প্রতিদিন সকালেই স্কুলে যান, ক্লাস নেন এবং বিকালে চলে আসেন মহাসড়কের ধারের দোকানে।

স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে বেতন ছাড়া স্কুলে দায়িত্ব পালন করাটা এক ধরনের ত্যাগ। তাঁরা আশা করেন, দ্রুত তাঁর এমপিও-সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান হবে এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে তাঁর কষ্টের অবসান ঘটবে।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে বেতনহীন থেকে পরিবারের দায়দায়িত্ব সামলাতে সংগ্রাম করলেও হামিদের চোখে এখনও শিক্ষকতার প্রতি অনাবিল ভালোবাসাÑ এটাই তাঁর শক্তি, এটাই তাঁর অনুপ্রেরণা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

কাঁঠালপাতা বিক্রি করে চলছে সংসার

আপডেট টাইম : ১১:০১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

বিরামপুরে মহাসড়কের পাশের একটি ছোট দোকানেই সাজানো কাঁঠালপাতার স্তূপ। সেই দোকানেই দাঁড়িয়ে ক্রেতাদের ডাক শুনছেন দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল হামিদ। কেউ বলেন, ‘মাস্টার, এক বোঝা পাতা দেন’Ñ এমন ডাক শুনলেই তিনি দ্রুত তুলে দেন তাজা পাতা। দিনের শেষে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলছে তাঁর সংসারের সমস্ত খরচ।

৫৮ বছর বয়সী এই শিক্ষক প্রায় দুই যুগ ধরে বিরামপুর উপজেলার দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের কলাবাগান এলাকায় কাঁঠালপাতা বিক্রি করছেন। অথচ তিনি ২০০২ সালের ১ জুন দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যালয়ে কৃষি বিষয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দিয়েছিলেন। যোগদানের পর এমপিওভুক্তির জন্য ৯ বার আবেদন করলেও প্রতিবারই তা বাতিল হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিদ্যালয়ে পাঠদান করলেও কখনই সরকারি বেতন পাননি তিনি।

আবদুল হামিদের বাড়ি উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় সংসার চালানো দায় হয়ে উঠেছিল। স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ভার সামলাতে বাধ্য হয়ে নিতে হয়েছে কাঁঠালপাতার ব্যবসা। প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয় এ থেকে। তাঁর ভাষায়Ñ ‘শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা আর বিদ্যালয়ের প্রতি মায়া না থাকলে অনেক আগেই সব ছেড়ে দিতাম; কিন্তু ওদের মুখের দিকে তাকালে চলে যেতে মন চায় না।’ বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান করলেও স্কুল থেকে কোনো ভাতা বা আর্থিক সহায়তাও পান না তিনি। তারপরও প্রতিদিন সকালেই স্কুলে যান, ক্লাস নেন এবং বিকালে চলে আসেন মহাসড়কের ধারের দোকানে।

স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে বেতন ছাড়া স্কুলে দায়িত্ব পালন করাটা এক ধরনের ত্যাগ। তাঁরা আশা করেন, দ্রুত তাঁর এমপিও-সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান হবে এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে তাঁর কষ্টের অবসান ঘটবে।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে বেতনহীন থেকে পরিবারের দায়দায়িত্ব সামলাতে সংগ্রাম করলেও হামিদের চোখে এখনও শিক্ষকতার প্রতি অনাবিল ভালোবাসাÑ এটাই তাঁর শক্তি, এটাই তাঁর অনুপ্রেরণা।