ঢাকা ১০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

বিএনপি থেকে পাঁচবার বহিষ্কৃত মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান—তার দলে ফেরা কি সম্ভব?

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:৩৯:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • ১১০ বার

বিভিন্ন সময় দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি নিয়মিত আলোচনায় ছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরগঞ্জ–২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনের রাজনীতিতে আবারও আলোচনায় ফিরে এসেছেন তিনি। বিএনপিতে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ এবং বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা বিষয়টি নতুন মাত্রা দিয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে ওই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জালাল উদ্দিনের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

বারবার বহিষ্কার, তবু রাজনীতি ছাড়েননিঃ

১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুইবার কিশোরগঞ্জ–২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আখতারুজ্জামান। জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি। তবে টকশোতে দলের সমালোচনামূলক বক্তব্যের কারণে একাধিকবার কেন্দ্রের রোষানলে পড়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হন।

গচিহাটায় জনসভা—বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিঃ

গত বুধবার কটিয়াদীর গচিহাটা এলাকায় আয়োজিত এক সভায় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। বক্তাদের দাবি—
ভুল হলেও আখতারুজ্জামান রাজনীতি ছাড়েননি। তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি, উন্নত চিকিৎসার দাবি তুলেছেন। তাঁকে দলে ফেরালে প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

সভায় সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন আখতারুজ্জামান। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন—
নির্বাচনকে ঘরে ঘরে পৌঁছাতে হবে। এখন নতুন প্রজন্মের রাজনীতি—আমার রাজনীতি দেশের মানুষের কল্যাণে।
বক্তব্যের শেষে তিনি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে স্লোগান দেন।

স্থানীয় বিএনপির ভিন্নমতঃ

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান বলেন—
আখতারুজ্জামান এখন দলের কেউ নন। তাঁকে নিয়ে অতিরিক্ত ভাবার কিছু নেই।

উপজেলা সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খানের বক্তব্য—
বিএনপি বড় সংগঠন। একজন নেতার সিদ্ধান্তে দলের প্রার্থীর কোনো ক্ষতি হবে না।

দলে ফেরা নিয়ে জল্পনা:

দলের বিভিন্ন সূত্র মনে করে, অতীতে যেমন বহিষ্কারের পর আবার ফেরানো হয়েছে, এবারও পুনর্বহালের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে বলা যাচ্ছে না। দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাঁর সক্রিয়তা স্থানীয় ও কেন্দ্রীয়—দুই পর্যায়েই নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

আখতারুজ্জামান রঞ্জন এর বক্তব্য :

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন—
আমি দলে নেই; কিন্তু রাজনীতিতে আছি। মানুষ চায় আমি আবার দলে ফিরি।

দল থেকে সাড়া না পেলে কী করবেন—এমন প্রশ্নে জানান—
দলীয় পরিচয়ে রাজনীতি না হলে ব্যক্তি পরিচয়ে রাজনীতি চালিয়ে যাব।

কিশোরগঞ্জ–২ আসনে কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন—
প্রার্থী যদি আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, মনোনয়ন হারানোর ঝুঁকি থাকবে না তো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

হোয়াটসঅ্যাপে ‘গেস্ট চ্যাটস’ ফিচার, অ্যাকাউন্ট ছাড়াই করা যাবে মেসেজ

বিএনপি থেকে পাঁচবার বহিষ্কৃত মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান—তার দলে ফেরা কি সম্ভব?

আপডেট টাইম : ০১:৩৯:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

বিভিন্ন সময় দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি নিয়মিত আলোচনায় ছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরগঞ্জ–২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনের রাজনীতিতে আবারও আলোচনায় ফিরে এসেছেন তিনি। বিএনপিতে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ এবং বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা বিষয়টি নতুন মাত্রা দিয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে ওই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জালাল উদ্দিনের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

বারবার বহিষ্কার, তবু রাজনীতি ছাড়েননিঃ

১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুইবার কিশোরগঞ্জ–২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আখতারুজ্জামান। জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি। তবে টকশোতে দলের সমালোচনামূলক বক্তব্যের কারণে একাধিকবার কেন্দ্রের রোষানলে পড়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হন।

গচিহাটায় জনসভা—বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিঃ

গত বুধবার কটিয়াদীর গচিহাটা এলাকায় আয়োজিত এক সভায় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। বক্তাদের দাবি—
ভুল হলেও আখতারুজ্জামান রাজনীতি ছাড়েননি। তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি, উন্নত চিকিৎসার দাবি তুলেছেন। তাঁকে দলে ফেরালে প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

সভায় সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন আখতারুজ্জামান। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন—
নির্বাচনকে ঘরে ঘরে পৌঁছাতে হবে। এখন নতুন প্রজন্মের রাজনীতি—আমার রাজনীতি দেশের মানুষের কল্যাণে।
বক্তব্যের শেষে তিনি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে স্লোগান দেন।

স্থানীয় বিএনপির ভিন্নমতঃ

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান বলেন—
আখতারুজ্জামান এখন দলের কেউ নন। তাঁকে নিয়ে অতিরিক্ত ভাবার কিছু নেই।

উপজেলা সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খানের বক্তব্য—
বিএনপি বড় সংগঠন। একজন নেতার সিদ্ধান্তে দলের প্রার্থীর কোনো ক্ষতি হবে না।

দলে ফেরা নিয়ে জল্পনা:

দলের বিভিন্ন সূত্র মনে করে, অতীতে যেমন বহিষ্কারের পর আবার ফেরানো হয়েছে, এবারও পুনর্বহালের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে বলা যাচ্ছে না। দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাঁর সক্রিয়তা স্থানীয় ও কেন্দ্রীয়—দুই পর্যায়েই নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

আখতারুজ্জামান রঞ্জন এর বক্তব্য :

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন—
আমি দলে নেই; কিন্তু রাজনীতিতে আছি। মানুষ চায় আমি আবার দলে ফিরি।

দল থেকে সাড়া না পেলে কী করবেন—এমন প্রশ্নে জানান—
দলীয় পরিচয়ে রাজনীতি না হলে ব্যক্তি পরিচয়ে রাজনীতি চালিয়ে যাব।

কিশোরগঞ্জ–২ আসনে কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন—
প্রার্থী যদি আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, মনোনয়ন হারানোর ঝুঁকি থাকবে না তো।