ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
৩০০ কর্মকর্তার সমন্বয়ে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি গঠন করল ইসি সুদানে সন্ত্রাসী হামলায় হতাহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিচয় জানাল আইএসপিআর সুষ্ঠু ভোটে বড় চ্যালেঞ্জ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেশেই আছেন ওসমান হাদির ওপর হামলাকারী মূল আসামি: ডিএমপি ‘মনে হলো মাথায় বাজ পড়েছে’, হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়া নিয়ে প্রতিক্রিয়া সিইসি’র এবার রাজধানীতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন মেয়ের কথায় কীভাবে ১৮ কেজি কমালেন বাঁধন রাজাকারের ঘৃণাস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ, লক্ষ্যভেদে মিলছে পুরস্কার ডিমের উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি, দামে পতন: লোকসান বাড়ছে খামারিদের মাঠের বাইরে আমি একজন অলস মানুষ

নির্বাচনের পর ব্যবসা–বাণিজ্যে গতি আসবে কতটা — বিশ্লেষণে তোফায়েল কবীর খান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৪৮:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫১ বার

Oplus_16908288

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ব্যবসা–বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে—সে বিষয়ে বিশদ বিশ্লেষণ দিয়েছেন অর্থনীতি বিশ্লেষক তোফায়েল কবীর খান। ATN News-এর জনপ্রিয় টকশো “Biz Talk”–এ তিনি বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ই নির্ধারণ করবে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য খাত পুনরুদ্ধারের গতি।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনীতির গতি ফেরানো কঠিন:

তোফায়েল কবির আলোচনায় বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিনিয়োগ প্রবাহ, ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন সক্ষমতা পূর্বের তুলনায় বেশ কমে গেছে। ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার, অনিশ্চয়তা, জটিল নীতিমালা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা—সব মিলিয়ে উদ্যোক্তারা অপেক্ষারত অবস্থায় আছেন।

তোফায়েল কবীর খান আরো বলেন,
“নির্বাচনের পর যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয় এবং ব্যবসা করার পরিবেশ উন্নত করা যায়, তাহলে বিনিয়োগকারীরা আবার নতুন করে পরিকল্পনায় ফিরবেন।”

ব্যাংকিং খাতে সংস্কার জরুরি:

তার মতে, উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা উচ্চ সুদহার ও ঋণপ্রাপ্তির জটিলতা। ১৩–১৫ শতাংশ এমনকি এর বেশি সুদে ব্যবসা সম্প্রসারণ বা নতুন উদ্যোগ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন—ব্যাংকগুলোতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা, অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঋণ বিতরণে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হলে অর্থনীতির চাকা আরও দ্রুত ঘুরবে।

বৈদেশিক বিনিয়োগ ফিরবে নীতিগত স্বচ্ছতায়:

টকশোতে আলোচনায় উঠে আসে বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) কমে যাওয়ার বিষয়ও। তোফায়েল কবীর খান বলেন—বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদেশি কোম্পানিগুলো প্রথমে দেখে দেশের স্থিতিশীলতা, নীতির ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহিতা। এসব ক্ষেত্রে উন্নতি হলেই FDI বাড়বে।

উন্নয়ন প্রকল্পেও গতি আনতে হবে:

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প পরিকল্পিত গতিতে এগোয়নি। প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়, প্রশাসনিক জটিলতা ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন ধীর হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ব্যবসা ও সার্বিক অর্থনীতিতে।

আশাবাদী তোফায়েল—‘সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে গতি ফিরবে’:

শেষদিকে ব্যবসায়িক তোফায়েল কবির খান  বলেন,
“নির্বাচনের পর যদি সরকার ব্যবসায়বান্ধব নীতি গ্রহণ করে, অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা কমায় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে মনোযোগ দেয়—তাহলে অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু নির্বাচন হলেই পরিস্থিতি বদলে যাবে—এমনটা ভাবলে ভুল হবে। নীতিগত পরিবর্তন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা—এই তিনটি ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

৩০০ কর্মকর্তার সমন্বয়ে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি গঠন করল ইসি

নির্বাচনের পর ব্যবসা–বাণিজ্যে গতি আসবে কতটা — বিশ্লেষণে তোফায়েল কবীর খান

আপডেট টাইম : ০৩:৪৮:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ব্যবসা–বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে—সে বিষয়ে বিশদ বিশ্লেষণ দিয়েছেন অর্থনীতি বিশ্লেষক তোফায়েল কবীর খান। ATN News-এর জনপ্রিয় টকশো “Biz Talk”–এ তিনি বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ই নির্ধারণ করবে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য খাত পুনরুদ্ধারের গতি।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনীতির গতি ফেরানো কঠিন:

তোফায়েল কবির আলোচনায় বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিনিয়োগ প্রবাহ, ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন সক্ষমতা পূর্বের তুলনায় বেশ কমে গেছে। ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার, অনিশ্চয়তা, জটিল নীতিমালা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা—সব মিলিয়ে উদ্যোক্তারা অপেক্ষারত অবস্থায় আছেন।

তোফায়েল কবীর খান আরো বলেন,
“নির্বাচনের পর যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয় এবং ব্যবসা করার পরিবেশ উন্নত করা যায়, তাহলে বিনিয়োগকারীরা আবার নতুন করে পরিকল্পনায় ফিরবেন।”

ব্যাংকিং খাতে সংস্কার জরুরি:

তার মতে, উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা উচ্চ সুদহার ও ঋণপ্রাপ্তির জটিলতা। ১৩–১৫ শতাংশ এমনকি এর বেশি সুদে ব্যবসা সম্প্রসারণ বা নতুন উদ্যোগ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন—ব্যাংকগুলোতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা, অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঋণ বিতরণে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হলে অর্থনীতির চাকা আরও দ্রুত ঘুরবে।

বৈদেশিক বিনিয়োগ ফিরবে নীতিগত স্বচ্ছতায়:

টকশোতে আলোচনায় উঠে আসে বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) কমে যাওয়ার বিষয়ও। তোফায়েল কবীর খান বলেন—বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদেশি কোম্পানিগুলো প্রথমে দেখে দেশের স্থিতিশীলতা, নীতির ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহিতা। এসব ক্ষেত্রে উন্নতি হলেই FDI বাড়বে।

উন্নয়ন প্রকল্পেও গতি আনতে হবে:

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প পরিকল্পিত গতিতে এগোয়নি। প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়, প্রশাসনিক জটিলতা ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন ধীর হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ব্যবসা ও সার্বিক অর্থনীতিতে।

আশাবাদী তোফায়েল—‘সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে গতি ফিরবে’:

শেষদিকে ব্যবসায়িক তোফায়েল কবির খান  বলেন,
“নির্বাচনের পর যদি সরকার ব্যবসায়বান্ধব নীতি গ্রহণ করে, অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা কমায় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে মনোযোগ দেয়—তাহলে অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু নির্বাচন হলেই পরিস্থিতি বদলে যাবে—এমনটা ভাবলে ভুল হবে। নীতিগত পরিবর্তন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা—এই তিনটি ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।