ঢাকা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
৩০০ কর্মকর্তার সমন্বয়ে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি গঠন করল ইসি সুদানে সন্ত্রাসী হামলায় হতাহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিচয় জানাল আইএসপিআর সুষ্ঠু ভোটে বড় চ্যালেঞ্জ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেশেই আছেন ওসমান হাদির ওপর হামলাকারী মূল আসামি: ডিএমপি ‘মনে হলো মাথায় বাজ পড়েছে’, হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়া নিয়ে প্রতিক্রিয়া সিইসি’র এবার রাজধানীতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন মেয়ের কথায় কীভাবে ১৮ কেজি কমালেন বাঁধন রাজাকারের ঘৃণাস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ, লক্ষ্যভেদে মিলছে পুরস্কার ডিমের উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি, দামে পতন: লোকসান বাড়ছে খামারিদের মাঠের বাইরে আমি একজন অলস মানুষ

কিশোরগঞ্জ- হোসেনপুর-কিশোরগঞ্জ সদর, বাজিতপুর ও নিকলী আসন বিএনপির মনোনয়ন স্থগিতে তীব্র অসন্তোষ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:২১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪৫ বার

কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও কিশোরগঞ্জ-১ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসন স্থগিত রাখা হয়েছে। এতে দুটি আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন নিশ্চিতের দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই এ দুই আসনে বিক্ষোভ-সমাবেশ করছেন সমর্থকরা।

জানা যায়, জেলার ছয়টি নির্বাচনি আসনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া)-এ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে প্রার্থী করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. এম ওসমান ফারুককে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম)-এ পদ স্থগিত বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব ও কুলিয়ারচর)-এ কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। স্থগিত রাখা হয় কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) ও কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর ও নিকলী)। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ-১ থেকে ২০০৭ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ ও জাজেজ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নু। আর কিশোরগঞ্জ-৫ থেকে ২০১৮ সালের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এবার কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ৯ জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনায় রয়েছেন-জেলা বিএনপির সহসভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা ব্যারিস্টার আতিকুর রহমান ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা আ ঈ ম ওয়ালী উল্লাহ রাব্বানী। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ-৫ মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহসভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। সম্প্রতি বিএনপি ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে এ দুই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তারা দুই আসনে দ্রুত প্রার্থী ঘোষণার দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ মিছিল ও সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, ত্যাগী ও যোগ্য প্রার্থীকে যেন অল্প সময়ের মধ্যে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সাবেক এজিএস মো. দেলোয়ার হোসেন দিলু বলেন, আমাদের লোকজন এ আসনে (কিশোরগঞ্জ-১) দলীয় প্রার্থী ঘোষণার দাবিতে পছন্দের নেতার পক্ষে মিছিল-সমাবেশ, শোডাউন করছে। আমাদের দাবি, বিগত স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের আমলে যারা হামলা-মামলা, নিপীড়ন-নির্যাতন উপেক্ষা করে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন, এমন ত্যাগী নেতাদের মধ্য থেকে যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে অবিলম্বে প্রার্থী ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় দলীয় বিরোধ-বিভক্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন বলেন, চরম দুর্দিনে যে বিএনপি নেতা দলের আদেশ মেনে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পাশে ছিলেন, তেমন ব্যক্তিকে দলীয় প্রার্থী করতে হবে। তিনি বলেন, আসনটি শরিক দলের কাউকে দেওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। তাই দলীয় প্রার্থীর দাবিতে এখানে বিক্ষোভ-সমাবেশ, এমনকি রেলপথ অবরোধ করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নেতাকর্মীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

৩০০ কর্মকর্তার সমন্বয়ে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি গঠন করল ইসি

কিশোরগঞ্জ- হোসেনপুর-কিশোরগঞ্জ সদর, বাজিতপুর ও নিকলী আসন বিএনপির মনোনয়ন স্থগিতে তীব্র অসন্তোষ

আপডেট টাইম : ০৩:২১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও কিশোরগঞ্জ-১ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসন স্থগিত রাখা হয়েছে। এতে দুটি আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন নিশ্চিতের দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই এ দুই আসনে বিক্ষোভ-সমাবেশ করছেন সমর্থকরা।

জানা যায়, জেলার ছয়টি নির্বাচনি আসনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া)-এ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে প্রার্থী করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. এম ওসমান ফারুককে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম)-এ পদ স্থগিত বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব ও কুলিয়ারচর)-এ কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। স্থগিত রাখা হয় কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) ও কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর ও নিকলী)। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ-১ থেকে ২০০৭ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ ও জাজেজ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নু। আর কিশোরগঞ্জ-৫ থেকে ২০১৮ সালের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এবার কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ৯ জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনায় রয়েছেন-জেলা বিএনপির সহসভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা ব্যারিস্টার আতিকুর রহমান ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা আ ঈ ম ওয়ালী উল্লাহ রাব্বানী। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ-৫ মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহসভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। সম্প্রতি বিএনপি ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে এ দুই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তারা দুই আসনে দ্রুত প্রার্থী ঘোষণার দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ মিছিল ও সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, ত্যাগী ও যোগ্য প্রার্থীকে যেন অল্প সময়ের মধ্যে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সাবেক এজিএস মো. দেলোয়ার হোসেন দিলু বলেন, আমাদের লোকজন এ আসনে (কিশোরগঞ্জ-১) দলীয় প্রার্থী ঘোষণার দাবিতে পছন্দের নেতার পক্ষে মিছিল-সমাবেশ, শোডাউন করছে। আমাদের দাবি, বিগত স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের আমলে যারা হামলা-মামলা, নিপীড়ন-নির্যাতন উপেক্ষা করে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন, এমন ত্যাগী নেতাদের মধ্য থেকে যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে অবিলম্বে প্রার্থী ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় দলীয় বিরোধ-বিভক্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন বলেন, চরম দুর্দিনে যে বিএনপি নেতা দলের আদেশ মেনে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পাশে ছিলেন, তেমন ব্যক্তিকে দলীয় প্রার্থী করতে হবে। তিনি বলেন, আসনটি শরিক দলের কাউকে দেওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। তাই দলীয় প্রার্থীর দাবিতে এখানে বিক্ষোভ-সমাবেশ, এমনকি রেলপথ অবরোধ করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নেতাকর্মীরা।