ঢাকা ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
এভারকেয়ার হাসপাতালে চলছে চিকিৎসা ওসমান হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক যুগে যুগে ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিম প্রতিনিধি ফিরে দেখা ২০২৫ – বিজয়ের মাস ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন ওসমান হাদিকে দেখতে গিয়ে কাঁদলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ মেসির সঙ্গে দেখা করবেন বলিউড বাদশাহ ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন নির্দেশনা চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হাতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে : জামায়াত আমির কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে : সেনাপ্রধান পাশ্ববর্তী রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা গেল কয়েকমাসে অন্তত ৮০ জনকে দেশের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করিয়েছে মিশরে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি বিচারক

মুসলমানদের জন্য সুরক্ষিত স্থাপনা চীনা সরকারের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৫৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৮ বার

চীনের গুয়াংজু শহরের জিফাংবেই লু এলাকার সেই প্রাচীন মসজিদে আজও প্রতিধ্বনিত হয় আজানের ধ্বনি। মসজিদের নীরব প্রাঙ্গণে ইতিহাস যেন ফিসফিসিয়ে বলে- ‘এখানেই শায়িত আছেন সেই প্রখ্যাত সাহাবী, যিনি চীনে এসে প্রথম ইসলামের আলো প্রজ্বলিত করেছিলেন।’

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংজু শহরের জিফাংবেই লু এলাকায় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র নিদর্শন আজও সংরক্ষিত আছে- মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় সাহাবী হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর কবর। ইসলাম প্রচারের সুবাদে তিনি চীনে আগমন করেন এবং এখানেই ইন্তেকাল করেন। তাঁর কবরটি আজও চীনের মুসলমানদের কাছে এক গভীর শ্রদ্ধা ও ইসলামের প্রতি অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু।

বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথম দিককার সাহাবীদের অন্যতম। তিনি শুধু মহানবী (সা.)-এর আত্মীয়ই নন, বরং ইসলামী দাওয়াত ও কূটনৈতিক অভিযানে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী একজন সাহাবী। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টাব্দ ৬১৬ সালের কাছাকাছি সময়ে তিনি ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে চীনে আগমন করেন। তাঁর প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমেই চীনে ইসলামের সূচনা ঘটে বলে স্থানীয় মুসলমানদের বিশ্বাস। মাজার প্রাঙ্গণে রয়েছে একটি বৃহৎ ও প্রাচীন মসজিদ, যা গুয়াংজুর সবচেয়ে বড় মসজিদ হিসেবেও পরিচিত। মসজিদটি কেবল নামাজের স্থান নয়, বরং শতাব্দী প্রাচীন ইসলামি ঐতিহ্যের জীবন্ত সাক্ষ্য।
চীন সরকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় আবেগ ও অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মসজিদ ও সাহাবীর কবর দু’টিকেই বিশেষ সুরক্ষিত স্থাপনা হিসেবে শত শত বছর ধরে সংরক্ষণ করে আসছে। প্রতিদিন শত শত স্থানীয় ও বিদেশি দর্শনার্থী এখানে আসেন নামাজ আদায় ও সাহাবীর কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে।

গত ৪ নভেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল প্রাচীর দিয়ে ঘেরা মাজার প্রাঙ্গণ প্রাকৃতিক অপরূপ ফল ও ফুল গাছে সমৃদ্ধ সবুজ অরণ্যে ঘেরা। প্রবেশদ্বারের দেয়ালে চীনা ভাষায় সোনালি অক্ষরে খোদাই করা আছে হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর জীবনী ও তাঁর ইসলাম প্রচারের কৃতিত্ব। প্রবেশপথ অতিক্রম করতেই দেখা যায়, প্রশস্ত ওজুখানা- যেখানে দর্শনার্থীরা ওজু সেরে কবরস্থান অথবা মসজিদের দিকে দিকে এগিয়ে যান। এর কিছুদূর পরেই রয়েছে সাহাবীর কয়েকজন সহচরের কবরস্থান। আর সেখান থেকে কয়েক কদম দূরে হাতের ডান পাশে অবস্থিত মূল কবর, যা একটি ছোট ঘরের মধ্যে সোনালি রঙের গিলাফে আবৃত। কবরস্থানে নির্দেশনা দেয়া আছে যেন কবরস্থানে কেউ নামাজ না পড়ে বা সিজদা না দেয়। নামাজ পড়তে হলে যেতে হবে ১শ’ গজ দূরে মসজিদ প্রাঙ্গণে। কবরস্থানে প্রবেশ করে শুধুমাত্র দোয়া দরুদ পড়ে দোয়া করা যাবে।

মুসল্লিরা সাধারণত প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করে ফরজ বা নফল নামাজ আদায় করেন, এরপর বিনম্রভাবে কবর জিয়ারত করে দোয়া করেন। পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে বিরাজ করছে এক প্রশান্ত ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
ঐতিহ্যগত বিশ্বাস অনুযায়ী, হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর মাধ্যমেই চীনে ইসলামের সূচনা ঘটে। তাঁর আমলে ইসলামের শান্তি, ন্যায় ও মানবতার বাণী ধীরে ধীরে গুয়াংজু ও পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর প্রচার-প্রচেষ্টার ফলেই পরবর্তী সময়ে চীনে বহু মসজিদ, মাদরাসা ও ইসলামি সংস্কৃতি বিকশিত হয়।
গুয়াংজুর স্থানীয় মুসলমানরা সাহাবির কবরস্থানটিকে তাঁদের ধর্মীয় ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কেন্দ্র হিসেবে মানেন। শুধু মুসলিম নয়, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষও ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এখানে আসেন। আলাপকালে কবরস্থানের একজন খাদেম বলেন, চীনা প্রশাসন স্থাপনাটিকে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণ করেছে, যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ইসলামের ঐতিহাসিক শিকড় সম্পর্কে জানতে পারে।

সরেজমিনে মসজিদ ও কবরস্থানে পরিদর্শনকালে বেশ কয়েকজন বিদেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সাথে কথা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আগত মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, চীনের গুয়াংজুতে এসেছি ব্যবসার কাজে। বছরে কয়েকবারই আসি। তবে এখানে এলে কখনও সাহাবি হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর কবরস্থান জিয়ারত না করে যাই না। তিনি জানান, জোহরের নামাজ আদায় করে তিনি কবরস্থানে প্রবেশ করে দোয়া-দরুদ পড়ে আল্লাহর দরবারে পানাহ চান এবং সাহাবির উসিলায় চীনের মুসলমানদের জন্য শান্তি কামনা করেন। ইন্দোনেশিয়া থেকে আগত এক দম্পতি জানান, তারা গুয়াংজুতে এসেছেন শুধুমাত্র এ কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে। তারা বলেন, এখানে আসার পর মনে খুব শান্তি পাচ্ছি। একজন সাহাবির কবর জিয়ারত করে মনে এত প্রশান্তি লাগতে পারে কখনও ভাবিনি। মসজিদ প্রাঙ্গণে কয়েকজন ভিক্ষুকেরও দেখা মেলে। তাদের মধ্যে বয়স্ক একজনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, উইঘুরের বাসিন্দা তিনি। মসজিদ ও কবরস্থান প্রাঙ্গণে ভিক্ষা করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন।

চীনের গুয়াংজু শহরে হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর কবরস্থান শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং এটি ইসলামের বৈশ্বিক প্রসার ও আন্তঃসংস্কৃতিক সম্প্রীতির এক জীবন্ত প্রতীক। সংরক্ষিত এ স্থানটি মুসলমানদের হৃদয়ে এক অনন্ত আলো জ্বালিয়ে রেখেছে- যা মনে করিয়ে দেয়, ইসলাম শুধুমাত্র আরব বিশ্বের ধর্ম নয়, বরং সারা পৃথিবীর মানবতার জন্য শান্তি ও সত্যের বার্তা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

এভারকেয়ার হাসপাতালে চলছে চিকিৎসা ওসমান হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক

মুসলমানদের জন্য সুরক্ষিত স্থাপনা চীনা সরকারের

আপডেট টাইম : ০২:৫৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

চীনের গুয়াংজু শহরের জিফাংবেই লু এলাকার সেই প্রাচীন মসজিদে আজও প্রতিধ্বনিত হয় আজানের ধ্বনি। মসজিদের নীরব প্রাঙ্গণে ইতিহাস যেন ফিসফিসিয়ে বলে- ‘এখানেই শায়িত আছেন সেই প্রখ্যাত সাহাবী, যিনি চীনে এসে প্রথম ইসলামের আলো প্রজ্বলিত করেছিলেন।’

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংজু শহরের জিফাংবেই লু এলাকায় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র নিদর্শন আজও সংরক্ষিত আছে- মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় সাহাবী হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর কবর। ইসলাম প্রচারের সুবাদে তিনি চীনে আগমন করেন এবং এখানেই ইন্তেকাল করেন। তাঁর কবরটি আজও চীনের মুসলমানদের কাছে এক গভীর শ্রদ্ধা ও ইসলামের প্রতি অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু।

বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথম দিককার সাহাবীদের অন্যতম। তিনি শুধু মহানবী (সা.)-এর আত্মীয়ই নন, বরং ইসলামী দাওয়াত ও কূটনৈতিক অভিযানে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী একজন সাহাবী। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টাব্দ ৬১৬ সালের কাছাকাছি সময়ে তিনি ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে চীনে আগমন করেন। তাঁর প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমেই চীনে ইসলামের সূচনা ঘটে বলে স্থানীয় মুসলমানদের বিশ্বাস। মাজার প্রাঙ্গণে রয়েছে একটি বৃহৎ ও প্রাচীন মসজিদ, যা গুয়াংজুর সবচেয়ে বড় মসজিদ হিসেবেও পরিচিত। মসজিদটি কেবল নামাজের স্থান নয়, বরং শতাব্দী প্রাচীন ইসলামি ঐতিহ্যের জীবন্ত সাক্ষ্য।
চীন সরকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় আবেগ ও অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মসজিদ ও সাহাবীর কবর দু’টিকেই বিশেষ সুরক্ষিত স্থাপনা হিসেবে শত শত বছর ধরে সংরক্ষণ করে আসছে। প্রতিদিন শত শত স্থানীয় ও বিদেশি দর্শনার্থী এখানে আসেন নামাজ আদায় ও সাহাবীর কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে।

গত ৪ নভেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল প্রাচীর দিয়ে ঘেরা মাজার প্রাঙ্গণ প্রাকৃতিক অপরূপ ফল ও ফুল গাছে সমৃদ্ধ সবুজ অরণ্যে ঘেরা। প্রবেশদ্বারের দেয়ালে চীনা ভাষায় সোনালি অক্ষরে খোদাই করা আছে হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর জীবনী ও তাঁর ইসলাম প্রচারের কৃতিত্ব। প্রবেশপথ অতিক্রম করতেই দেখা যায়, প্রশস্ত ওজুখানা- যেখানে দর্শনার্থীরা ওজু সেরে কবরস্থান অথবা মসজিদের দিকে দিকে এগিয়ে যান। এর কিছুদূর পরেই রয়েছে সাহাবীর কয়েকজন সহচরের কবরস্থান। আর সেখান থেকে কয়েক কদম দূরে হাতের ডান পাশে অবস্থিত মূল কবর, যা একটি ছোট ঘরের মধ্যে সোনালি রঙের গিলাফে আবৃত। কবরস্থানে নির্দেশনা দেয়া আছে যেন কবরস্থানে কেউ নামাজ না পড়ে বা সিজদা না দেয়। নামাজ পড়তে হলে যেতে হবে ১শ’ গজ দূরে মসজিদ প্রাঙ্গণে। কবরস্থানে প্রবেশ করে শুধুমাত্র দোয়া দরুদ পড়ে দোয়া করা যাবে।

মুসল্লিরা সাধারণত প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করে ফরজ বা নফল নামাজ আদায় করেন, এরপর বিনম্রভাবে কবর জিয়ারত করে দোয়া করেন। পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে বিরাজ করছে এক প্রশান্ত ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
ঐতিহ্যগত বিশ্বাস অনুযায়ী, হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর মাধ্যমেই চীনে ইসলামের সূচনা ঘটে। তাঁর আমলে ইসলামের শান্তি, ন্যায় ও মানবতার বাণী ধীরে ধীরে গুয়াংজু ও পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর প্রচার-প্রচেষ্টার ফলেই পরবর্তী সময়ে চীনে বহু মসজিদ, মাদরাসা ও ইসলামি সংস্কৃতি বিকশিত হয়।
গুয়াংজুর স্থানীয় মুসলমানরা সাহাবির কবরস্থানটিকে তাঁদের ধর্মীয় ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কেন্দ্র হিসেবে মানেন। শুধু মুসলিম নয়, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষও ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এখানে আসেন। আলাপকালে কবরস্থানের একজন খাদেম বলেন, চীনা প্রশাসন স্থাপনাটিকে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণ করেছে, যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ইসলামের ঐতিহাসিক শিকড় সম্পর্কে জানতে পারে।

সরেজমিনে মসজিদ ও কবরস্থানে পরিদর্শনকালে বেশ কয়েকজন বিদেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সাথে কথা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আগত মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, চীনের গুয়াংজুতে এসেছি ব্যবসার কাজে। বছরে কয়েকবারই আসি। তবে এখানে এলে কখনও সাহাবি হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর কবরস্থান জিয়ারত না করে যাই না। তিনি জানান, জোহরের নামাজ আদায় করে তিনি কবরস্থানে প্রবেশ করে দোয়া-দরুদ পড়ে আল্লাহর দরবারে পানাহ চান এবং সাহাবির উসিলায় চীনের মুসলমানদের জন্য শান্তি কামনা করেন। ইন্দোনেশিয়া থেকে আগত এক দম্পতি জানান, তারা গুয়াংজুতে এসেছেন শুধুমাত্র এ কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে। তারা বলেন, এখানে আসার পর মনে খুব শান্তি পাচ্ছি। একজন সাহাবির কবর জিয়ারত করে মনে এত প্রশান্তি লাগতে পারে কখনও ভাবিনি। মসজিদ প্রাঙ্গণে কয়েকজন ভিক্ষুকেরও দেখা মেলে। তাদের মধ্যে বয়স্ক একজনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, উইঘুরের বাসিন্দা তিনি। মসজিদ ও কবরস্থান প্রাঙ্গণে ভিক্ষা করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন।

চীনের গুয়াংজু শহরে হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর কবরস্থান শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং এটি ইসলামের বৈশ্বিক প্রসার ও আন্তঃসংস্কৃতিক সম্প্রীতির এক জীবন্ত প্রতীক। সংরক্ষিত এ স্থানটি মুসলমানদের হৃদয়ে এক অনন্ত আলো জ্বালিয়ে রেখেছে- যা মনে করিয়ে দেয়, ইসলাম শুধুমাত্র আরব বিশ্বের ধর্ম নয়, বরং সারা পৃথিবীর মানবতার জন্য শান্তি ও সত্যের বার্তা।