ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান সাবেক ছাত্রদল নেতা আনম উল্লাহ সানি সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা

মানুষ-পাখির মিলেমিশে সংসার কর বাড়ি এখন পাখির রাজ্য

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৭৮ বার

রাজবাড়ীর সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামের কর বাড়িতে এখন অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য। সারাদিন কিচিরমিচির ধ্বনি, গাছের ডালে ডালে নড়াচড়াÑ সব মিলিয়ে পুরো এলাকা যেন এক পাখির রাজ্য। উঁচু গাছের ডালে বাসা বেঁধেছে হাজার হাজার শামুক খৈল পাখি। নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে এখানে প্রজননও করছে তারা।

গত শনিবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কর বাড়ির বড় বড় গাছ পাখির বাসায় ভরে গেছে। গাছের সবুজ পাতা যেন সাদা পালকে ঢাকা। রাজবাড়ী শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের এই গ্রাম এখন অতিথি পাখির এক স্বর্গভূমি।

বাড়ির মালিক আকাশ কর বলেন, প্রথমে কয়েকটা পাখি এসেছিল। এখন তো শতাধিক গাছে কমপক্ষে ২০ হাজার শামুক খৈল, পানকৌড়ি আর নানা জাতের পাখি বাসা বেঁধেছে। পাশের খাল, ধানক্ষেত আর জমির শামুক-ঝিনুক খেয়েই ওরা বাঁচে। এই দৃশ্য প্রতিদিনই মন ভরে দেয়।

গ্রামবাসীর ভালোবাসায় বড় হচ্ছে এই পাখিগুলো। তারা যেন বুঝে গেছে মানুষের ভেতরেও আছে মমতা। তাই ভয় পায় না, মানুষের হাতের কাছেই গড়ে তোলে নিজের সংসার। গ্রামেরই দর্শনার্থী রবিউল রবি বলেন, “এত পাখি একসঙ্গে কখনও দেখিনি। সকাল-বিকাল ওদের কিচিরমিচির শুনে মনে হয় প্রকৃতিই যেন গান গাইছে। এখন এই গ্রাম সবাই ‘পাখির গ্রাম’ বলেই চেনে।” তবে এই স্বর্গরাজ্যে এখন কিছু দুষ্টচক্রের নজর পড়েছে। বিকাল থেকে সন্ধ্যার পর টর্চলাইট জ্বালিয়ে কিংবা পাথর ছুড়ে পাখিদের বিরক্ত করছে তারা। আবার কখনও দেখা যাচ্ছে, পাখি শিকারিরাও ঘোরাঘুরি করছে এলাকায়। আরাম ঘর জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি লিটন

চক্রবর্তী বলেন, যদি কোনো পাখি অসুস্থ হয়, আমরা বিনামূল্যে চিকিৎসা দিই। এগুলো আমাদের প্রকৃতিরই অংশ। ওদের বাঁচানো মানে প্রকৃতিকে বাঁচানো।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানান, অতিথি পাখিদের এই আশ্রয়কে পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলা হবে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগকে নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কেউ যেন পাখিদের বিরক্ত না করে, সেজন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পাখিরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শিবরামপুরের কর বাড়ি তাই এখন শুধু একটি বাড়ি নয়, এ যেন প্রকৃতির আশ্রয় ও জীবনের উচ্ছ্বাস আর মানুষ ও প্রাণের এক মায়াময় সহাবস্থান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান সাবেক ছাত্রদল নেতা আনম উল্লাহ সানি

মানুষ-পাখির মিলেমিশে সংসার কর বাড়ি এখন পাখির রাজ্য

আপডেট টাইম : ১০:৩৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

রাজবাড়ীর সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামের কর বাড়িতে এখন অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য। সারাদিন কিচিরমিচির ধ্বনি, গাছের ডালে ডালে নড়াচড়াÑ সব মিলিয়ে পুরো এলাকা যেন এক পাখির রাজ্য। উঁচু গাছের ডালে বাসা বেঁধেছে হাজার হাজার শামুক খৈল পাখি। নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে এখানে প্রজননও করছে তারা।

গত শনিবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কর বাড়ির বড় বড় গাছ পাখির বাসায় ভরে গেছে। গাছের সবুজ পাতা যেন সাদা পালকে ঢাকা। রাজবাড়ী শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের এই গ্রাম এখন অতিথি পাখির এক স্বর্গভূমি।

বাড়ির মালিক আকাশ কর বলেন, প্রথমে কয়েকটা পাখি এসেছিল। এখন তো শতাধিক গাছে কমপক্ষে ২০ হাজার শামুক খৈল, পানকৌড়ি আর নানা জাতের পাখি বাসা বেঁধেছে। পাশের খাল, ধানক্ষেত আর জমির শামুক-ঝিনুক খেয়েই ওরা বাঁচে। এই দৃশ্য প্রতিদিনই মন ভরে দেয়।

গ্রামবাসীর ভালোবাসায় বড় হচ্ছে এই পাখিগুলো। তারা যেন বুঝে গেছে মানুষের ভেতরেও আছে মমতা। তাই ভয় পায় না, মানুষের হাতের কাছেই গড়ে তোলে নিজের সংসার। গ্রামেরই দর্শনার্থী রবিউল রবি বলেন, “এত পাখি একসঙ্গে কখনও দেখিনি। সকাল-বিকাল ওদের কিচিরমিচির শুনে মনে হয় প্রকৃতিই যেন গান গাইছে। এখন এই গ্রাম সবাই ‘পাখির গ্রাম’ বলেই চেনে।” তবে এই স্বর্গরাজ্যে এখন কিছু দুষ্টচক্রের নজর পড়েছে। বিকাল থেকে সন্ধ্যার পর টর্চলাইট জ্বালিয়ে কিংবা পাথর ছুড়ে পাখিদের বিরক্ত করছে তারা। আবার কখনও দেখা যাচ্ছে, পাখি শিকারিরাও ঘোরাঘুরি করছে এলাকায়। আরাম ঘর জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি লিটন

চক্রবর্তী বলেন, যদি কোনো পাখি অসুস্থ হয়, আমরা বিনামূল্যে চিকিৎসা দিই। এগুলো আমাদের প্রকৃতিরই অংশ। ওদের বাঁচানো মানে প্রকৃতিকে বাঁচানো।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানান, অতিথি পাখিদের এই আশ্রয়কে পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলা হবে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগকে নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কেউ যেন পাখিদের বিরক্ত না করে, সেজন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পাখিরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শিবরামপুরের কর বাড়ি তাই এখন শুধু একটি বাড়ি নয়, এ যেন প্রকৃতির আশ্রয় ও জীবনের উচ্ছ্বাস আর মানুষ ও প্রাণের এক মায়াময় সহাবস্থান।