ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ইটনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্র্যাক সদস্যদের মাঝে হাঁসের বাচ্চা ও সবজি বীজ বিতরণ তালবাহানায় আটকে গভর্নিং বডি নির্বাচন, প্রশ্নের মুখে আইডিয়াল কর্তৃপক্ষ অবহেলায় অনেক স্কুলের অবকাঠামোর বেহাল দশা: জুবাইদা রহমান গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০২৬ দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করা হবে পুরস্কারের গাড়ি মাকে উপহার দেবেন তাওহীদ হৃদয় ইসলামী ব্যাংকে নতুন প্রশাসক নিয়োগ জিয়াউর রহমানের জীবন ও দর্শন নিয়ে গবেষণার আহ্বান ফখরুলের পাখির চোখে সীমান্ত পাহারার ছক, কঠোর নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবরে আনন্দিত পরীমণি

পোশাক রপ্তানি বাড়ছে ইউরোপে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৯১ বার
গত এক দশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫৮ শতাংশের বেশি। ইউরোপের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০১৫ সালে যেখানে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ১১.৫৪ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের, ২০২৪ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১৮.২৮ বিলিয়ন ইউরোতে।

অন্যদিকে ইউরোপের সামগ্রিক পোশাক আমদানি একই সময়ে বেড়েছে মাত্র ২০.৪৭ শতাংশ। এই প্রবণতা বলছে, ইউরোপে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে এবং দেশটি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন আর শুধু কম খরচের উৎস নয়, আমরা টেকসই উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব কারখানা ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছি।’মহামারির ধাক্কা ও পুনরুদ্ধার : ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ইউরোপে রপ্তানি করে ১৪.৯৬ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পোশাক। কিন্তু পরের বছর, অর্থাৎ ২০২০ সালে কভিড-১৯-এর প্রভাবে তা কমে দাঁড়ায় ১২.৩২ বিলিয়ন ইউরোতে। হ্রাসের হার ছিল ১৭.৬৪ শতাংশ।

তবে সেখানে থেমে থাকেনি বাংলাদেশ। পরবর্তী চার বছরে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের রপ্তানি বেড়েছে ৪৮.৩৪ শতাংশ, যা ইউরোপের পোশাক আমদানি বৃদ্ধির চেয়ে দ্বিগুণ। ইউরোপের মোট পোশাক আমদানিও ২০২০ সালে কমে গিয়েছিল ১৪.৩১ শতাংশ। তবে ২০২৪ সালে তা পুনরায় ঘুরে দাঁড়িয়ে পৌঁছেছে ৮৫.৫৬ বিলিয়ন ইউরোতে।
পণ্যের গুণগত মান ও কারখানার পরিবেশ : বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানার দেশ। বর্তমানে দুই শর বেশি গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে, যার অনেকগুলোই বিশ্বের সেরা গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেট অর্জন করেছে।

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ক্রেতারা এখন শুধু দামের দিকে নয়, পরিবেশ ও সামাজিক দায়িত্বের দিকটাও গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এগিয়ে।’ তিনি আরো জানান, ইইউর ‘এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ)’ বাণিজ্য সুবিধার আওতায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা পাওয়া চলমান থাকায় এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা : বিশ্ব অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ তার সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আরো রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্বব্যাপী যখন সরবরাহ চেইনে স্বচ্ছতা ও টেকসই উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, তখন বাংলাদেশ এসব ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে—এমনটাই বলছে পরিসংখ্যান।

বাংলাদেশি পোশাকশিল্প এরই মধ্যে বিশ্বে ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছে। টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনকে কেন্দ্র করে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা বজায় রাখতে পারলে ইউরোপসহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরো দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইটনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্র্যাক সদস্যদের মাঝে হাঁসের বাচ্চা ও সবজি বীজ বিতরণ

পোশাক রপ্তানি বাড়ছে ইউরোপে

আপডেট টাইম : ১০:১৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
গত এক দশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫৮ শতাংশের বেশি। ইউরোপের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০১৫ সালে যেখানে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ১১.৫৪ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের, ২০২৪ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১৮.২৮ বিলিয়ন ইউরোতে।

অন্যদিকে ইউরোপের সামগ্রিক পোশাক আমদানি একই সময়ে বেড়েছে মাত্র ২০.৪৭ শতাংশ। এই প্রবণতা বলছে, ইউরোপে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে এবং দেশটি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন আর শুধু কম খরচের উৎস নয়, আমরা টেকসই উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব কারখানা ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছি।’মহামারির ধাক্কা ও পুনরুদ্ধার : ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ইউরোপে রপ্তানি করে ১৪.৯৬ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পোশাক। কিন্তু পরের বছর, অর্থাৎ ২০২০ সালে কভিড-১৯-এর প্রভাবে তা কমে দাঁড়ায় ১২.৩২ বিলিয়ন ইউরোতে। হ্রাসের হার ছিল ১৭.৬৪ শতাংশ।

তবে সেখানে থেমে থাকেনি বাংলাদেশ। পরবর্তী চার বছরে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের রপ্তানি বেড়েছে ৪৮.৩৪ শতাংশ, যা ইউরোপের পোশাক আমদানি বৃদ্ধির চেয়ে দ্বিগুণ। ইউরোপের মোট পোশাক আমদানিও ২০২০ সালে কমে গিয়েছিল ১৪.৩১ শতাংশ। তবে ২০২৪ সালে তা পুনরায় ঘুরে দাঁড়িয়ে পৌঁছেছে ৮৫.৫৬ বিলিয়ন ইউরোতে।
পণ্যের গুণগত মান ও কারখানার পরিবেশ : বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানার দেশ। বর্তমানে দুই শর বেশি গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে, যার অনেকগুলোই বিশ্বের সেরা গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেট অর্জন করেছে।

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ক্রেতারা এখন শুধু দামের দিকে নয়, পরিবেশ ও সামাজিক দায়িত্বের দিকটাও গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এগিয়ে।’ তিনি আরো জানান, ইইউর ‘এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ)’ বাণিজ্য সুবিধার আওতায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা পাওয়া চলমান থাকায় এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা : বিশ্ব অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ তার সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আরো রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্বব্যাপী যখন সরবরাহ চেইনে স্বচ্ছতা ও টেকসই উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, তখন বাংলাদেশ এসব ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে—এমনটাই বলছে পরিসংখ্যান।

বাংলাদেশি পোশাকশিল্প এরই মধ্যে বিশ্বে ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছে। টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনকে কেন্দ্র করে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা বজায় রাখতে পারলে ইউরোপসহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরো দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষ।