ঢাকা ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী ওএসডি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তিন যুগ পর ভোটগ্রহণ অধিবেশন ডাকা হবে না: চিফ হুইপ ম্যানেজিং কমিটির হাতে যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্রদল সভাপতি বললেন ‘গুজব’ ঢাকায় ‘র’ প্রধানের রহস্যজনক সফর আদালতে আসেননি পরীমনি, মাদক মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল ‘ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধাতে আসবেন না’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন বিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংকের মালিকানা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার, আচরণবিধি চূড়ান্ত করল ইসি

পোশাক রপ্তানি বাড়ছে ইউরোপে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১০৫ বার
গত এক দশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫৮ শতাংশের বেশি। ইউরোপের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০১৫ সালে যেখানে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ১১.৫৪ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের, ২০২৪ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১৮.২৮ বিলিয়ন ইউরোতে।

অন্যদিকে ইউরোপের সামগ্রিক পোশাক আমদানি একই সময়ে বেড়েছে মাত্র ২০.৪৭ শতাংশ। এই প্রবণতা বলছে, ইউরোপে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে এবং দেশটি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন আর শুধু কম খরচের উৎস নয়, আমরা টেকসই উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব কারখানা ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছি।’মহামারির ধাক্কা ও পুনরুদ্ধার : ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ইউরোপে রপ্তানি করে ১৪.৯৬ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পোশাক। কিন্তু পরের বছর, অর্থাৎ ২০২০ সালে কভিড-১৯-এর প্রভাবে তা কমে দাঁড়ায় ১২.৩২ বিলিয়ন ইউরোতে। হ্রাসের হার ছিল ১৭.৬৪ শতাংশ।

তবে সেখানে থেমে থাকেনি বাংলাদেশ। পরবর্তী চার বছরে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের রপ্তানি বেড়েছে ৪৮.৩৪ শতাংশ, যা ইউরোপের পোশাক আমদানি বৃদ্ধির চেয়ে দ্বিগুণ। ইউরোপের মোট পোশাক আমদানিও ২০২০ সালে কমে গিয়েছিল ১৪.৩১ শতাংশ। তবে ২০২৪ সালে তা পুনরায় ঘুরে দাঁড়িয়ে পৌঁছেছে ৮৫.৫৬ বিলিয়ন ইউরোতে।
পণ্যের গুণগত মান ও কারখানার পরিবেশ : বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানার দেশ। বর্তমানে দুই শর বেশি গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে, যার অনেকগুলোই বিশ্বের সেরা গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেট অর্জন করেছে।

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ক্রেতারা এখন শুধু দামের দিকে নয়, পরিবেশ ও সামাজিক দায়িত্বের দিকটাও গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এগিয়ে।’ তিনি আরো জানান, ইইউর ‘এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ)’ বাণিজ্য সুবিধার আওতায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা পাওয়া চলমান থাকায় এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা : বিশ্ব অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ তার সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আরো রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্বব্যাপী যখন সরবরাহ চেইনে স্বচ্ছতা ও টেকসই উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, তখন বাংলাদেশ এসব ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে—এমনটাই বলছে পরিসংখ্যান।

বাংলাদেশি পোশাকশিল্প এরই মধ্যে বিশ্বে ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছে। টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনকে কেন্দ্র করে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা বজায় রাখতে পারলে ইউরোপসহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরো দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের

পোশাক রপ্তানি বাড়ছে ইউরোপে

আপডেট টাইম : ১০:১৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
গত এক দশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫৮ শতাংশের বেশি। ইউরোপের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০১৫ সালে যেখানে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ১১.৫৪ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের, ২০২৪ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১৮.২৮ বিলিয়ন ইউরোতে।

অন্যদিকে ইউরোপের সামগ্রিক পোশাক আমদানি একই সময়ে বেড়েছে মাত্র ২০.৪৭ শতাংশ। এই প্রবণতা বলছে, ইউরোপে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে এবং দেশটি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন আর শুধু কম খরচের উৎস নয়, আমরা টেকসই উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব কারখানা ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছি।’মহামারির ধাক্কা ও পুনরুদ্ধার : ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ইউরোপে রপ্তানি করে ১৪.৯৬ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পোশাক। কিন্তু পরের বছর, অর্থাৎ ২০২০ সালে কভিড-১৯-এর প্রভাবে তা কমে দাঁড়ায় ১২.৩২ বিলিয়ন ইউরোতে। হ্রাসের হার ছিল ১৭.৬৪ শতাংশ।

তবে সেখানে থেমে থাকেনি বাংলাদেশ। পরবর্তী চার বছরে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের রপ্তানি বেড়েছে ৪৮.৩৪ শতাংশ, যা ইউরোপের পোশাক আমদানি বৃদ্ধির চেয়ে দ্বিগুণ। ইউরোপের মোট পোশাক আমদানিও ২০২০ সালে কমে গিয়েছিল ১৪.৩১ শতাংশ। তবে ২০২৪ সালে তা পুনরায় ঘুরে দাঁড়িয়ে পৌঁছেছে ৮৫.৫৬ বিলিয়ন ইউরোতে।
পণ্যের গুণগত মান ও কারখানার পরিবেশ : বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানার দেশ। বর্তমানে দুই শর বেশি গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে, যার অনেকগুলোই বিশ্বের সেরা গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেট অর্জন করেছে।

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ক্রেতারা এখন শুধু দামের দিকে নয়, পরিবেশ ও সামাজিক দায়িত্বের দিকটাও গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এগিয়ে।’ তিনি আরো জানান, ইইউর ‘এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ)’ বাণিজ্য সুবিধার আওতায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা পাওয়া চলমান থাকায় এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা : বিশ্ব অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ তার সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আরো রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্বব্যাপী যখন সরবরাহ চেইনে স্বচ্ছতা ও টেকসই উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, তখন বাংলাদেশ এসব ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে—এমনটাই বলছে পরিসংখ্যান।

বাংলাদেশি পোশাকশিল্প এরই মধ্যে বিশ্বে ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছে। টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনকে কেন্দ্র করে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা বজায় রাখতে পারলে ইউরোপসহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরো দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষ।