ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী ওএসডি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তিন যুগ পর ভোটগ্রহণ অধিবেশন ডাকা হবে না: চিফ হুইপ ম্যানেজিং কমিটির হাতে যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্রদল সভাপতি বললেন ‘গুজব’ ঢাকায় ‘র’ প্রধানের রহস্যজনক সফর আদালতে আসেননি পরীমনি, মাদক মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল ‘ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধাতে আসবেন না’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন বিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংকের মালিকানা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার, আচরণবিধি চূড়ান্ত করল ইসি

আদানিকে বাঁচাতেই মোদির নীরবতা: রাহুল গান্ধীর অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৩৪ বার

যুক্তরাষ্ট্রে আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি তদন্তের কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘কঠোর অবস্থান’ নিতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী।

এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‌‌‘প্রধানমন্ত্রী মোদি ট্রাম্পের হুমকির পরও তার সামনে কথা বলছেন না। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে আদানির বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলছে। ওই তদন্তে মোদি, আদানি এবং রাশিয়ার তেলের লেনদেন নিয়ে আর্থিক সম্পর্ক ফাঁস হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।’

রাহুল গান্ধীর দাবি, এই তদন্তের কারণেই মোদির ‘হাত বাঁধা’। তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত মোদি সরকারের দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অভিযোগ, আদানি গ্রুপ ভারত সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও চুক্তি পেতে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ঘুষ দিয়েছে। ২০২০ সালে আদানি গ্রুপ একটি বৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প জিতে নেয়। পরে ওই প্রকল্পে সমস্যা দেখা দিলে, অভিযোগ রয়েছে, আদানি স্থানীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে চুক্তি চালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

এই ঘটনা সংক্রান্ত আলাপচারিতা হোয়াটসঅ্যাপে আদানির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় সাগর আদানি ও অপর একটি কোম্পানি আজুর পাওয়ারের প্রধানের মধ্যে হয়েছে বলেও আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া, ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের ২০২৩ সালের প্রতিবেদনের পর আদানির বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগে তদন্ত চালাচ্ছে। আদানি গ্রুপ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ করার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনার মাধ্যমে ‘যুদ্ধযন্ত্রে জ্বালানি’ দিচ্ছে।

আদানি গ্রুপ বর্তমানে বিদ্যুৎ, সিমেন্ট, খনিজ, বিমানবন্দর, মিডিয়া, খাদ্যসহ বহু খাতে সক্রিয়। আদানি এক সময় প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রচারে প্রাইভেট জেট সরবরাহ করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, মিডিয়া হাউজ এনডিটিভি-র ‘শত্রুভাবাপন্ন অধিগ্রহণ’ ঘটিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।

এদিকে, জুন ২০২৫-এ আদানি তার কোম্পানির বার্ষিক সভায় বলেন, ‘আমাদের কেউই মার্কিন দুর্নীতিবিরোধী আইনের অধীনে অভিযুক্ত হননি।’ তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘যতই চাপ আসুক, আদানি গ্রুপ কখনও পিছপা হয়নি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের

আদানিকে বাঁচাতেই মোদির নীরবতা: রাহুল গান্ধীর অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৬:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রে আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি তদন্তের কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘কঠোর অবস্থান’ নিতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী।

এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‌‌‘প্রধানমন্ত্রী মোদি ট্রাম্পের হুমকির পরও তার সামনে কথা বলছেন না। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে আদানির বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলছে। ওই তদন্তে মোদি, আদানি এবং রাশিয়ার তেলের লেনদেন নিয়ে আর্থিক সম্পর্ক ফাঁস হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।’

রাহুল গান্ধীর দাবি, এই তদন্তের কারণেই মোদির ‘হাত বাঁধা’। তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত মোদি সরকারের দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অভিযোগ, আদানি গ্রুপ ভারত সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও চুক্তি পেতে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ঘুষ দিয়েছে। ২০২০ সালে আদানি গ্রুপ একটি বৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প জিতে নেয়। পরে ওই প্রকল্পে সমস্যা দেখা দিলে, অভিযোগ রয়েছে, আদানি স্থানীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে চুক্তি চালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

এই ঘটনা সংক্রান্ত আলাপচারিতা হোয়াটসঅ্যাপে আদানির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় সাগর আদানি ও অপর একটি কোম্পানি আজুর পাওয়ারের প্রধানের মধ্যে হয়েছে বলেও আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া, ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের ২০২৩ সালের প্রতিবেদনের পর আদানির বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগে তদন্ত চালাচ্ছে। আদানি গ্রুপ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ করার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনার মাধ্যমে ‘যুদ্ধযন্ত্রে জ্বালানি’ দিচ্ছে।

আদানি গ্রুপ বর্তমানে বিদ্যুৎ, সিমেন্ট, খনিজ, বিমানবন্দর, মিডিয়া, খাদ্যসহ বহু খাতে সক্রিয়। আদানি এক সময় প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রচারে প্রাইভেট জেট সরবরাহ করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, মিডিয়া হাউজ এনডিটিভি-র ‘শত্রুভাবাপন্ন অধিগ্রহণ’ ঘটিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।

এদিকে, জুন ২০২৫-এ আদানি তার কোম্পানির বার্ষিক সভায় বলেন, ‘আমাদের কেউই মার্কিন দুর্নীতিবিরোধী আইনের অধীনে অভিযুক্ত হননি।’ তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘যতই চাপ আসুক, আদানি গ্রুপ কখনও পিছপা হয়নি।’