ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজারো মামলার জটে আটকা শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

এনসিপির পদযাত্রা উপলক্ষে ‘স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত’, প্রধান শিক্ষকের দুই রকম বক্তব্য

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:৫২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
  • ৯০ বার

নেত্রকোনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা উপলক্ষে পুলিশ লাইনস স্কুল দুই দিন বন্ধ রাখার নোটিশ দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে নিজেদের দেওয়া নোটিশকেই ‘ফেক’ বলে দাবি করছে সেই স্কুল কর্তৃপক্ষ। এতে সমালোচনা আরও বেড়ে যায়। অনেকে আগের নোটিশ ও পরের নোটিশ দুটো একত্রে করেও ফেসবুকে পোস্ট করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনায় এনসিপির পদযাত্রাকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। আগামী রোববার দুপুরে শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় পুরোনো কালেক্টরেট মাঠে পথসভা করবে দলটি। এই উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা দিতে তৎপর রয়েছে।

এনসিপির এই পদযাত্রা উপলক্ষে জেলা পুলিশ পরিচালিত শহরের কুড়পাড় এলাকায় পুলিশ লাইনস স্কুল দুই দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ওই বিদ্যালয়ে এনসিপির কর্মসূচি উপলক্ষে আসা পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করবেন বলে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি নোটিশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার একপর্যায়ে আজ শুক্রবার সকালে একটি ‘প্রতিবাদলিপি’ দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, আগের নোটিশটি সঠিক নয়। রোব ও সোমবার বিদ্যালয়ে যথারীতি ক্লাস হবে।

এর আগে গতকাল প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেক স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আগামী রোববার এনসিপির পদযাত্রা উপলক্ষে নেত্রকোনায় আসা পুলিশ ফোর্স এই বিদ্যালয়ে অবস্থান করবে। সে জন্য রোব ও সোমবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। আগামী মঙ্গলবার থেকে যথারীতি ক্লাস ও পরীক্ষা চলবে। ২৭ তারিখের পরীক্ষা ২৯ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে। নোটিশটি যথারীতি বিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়।

এরপর গতকাল দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে নোটিশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ নেটিজেনরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। অনেকেই লিখেছেন, এভাবে একটি রাজনৈতিক দলের সমাবেশের কারণে বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ রাখা উচিত নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেক আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোবাইল ফোনে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এনসিপির সমাবেশ উপলক্ষে বাইরে থেকে বাড়তি পুলিশ আসবে, তাদের পুলিশ লাইনস স্কুলে থাকতে দেওয়া হবে। তাই বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে প্রায় ১০টির মতো বড় শ্রেণিকক্ষ আছে। আশা করি, থাকার সমস্যা হবে না।’ তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়টিতে শিশুশ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ২৫০ জন শিক্ষার্থীকে ১৬ জন শিক্ষক পাঠদান করেন।

তবে সমালোচনার মুখে আজ বেলা ১১টার পর নতুন করে একটি ‘প্রতিবাদলিপি’ দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এই প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, এনসিপির নেত্রকোনায় আগমন উপলক্ষে একটি বিভ্রান্তিমূলক নোটিশ একটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছে। এটি স্কুলের বিরুদ্ধে দূরভিসন্দিমূলক ও বিভ্রান্তিকর একটি ষড়যন্ত্র। প্রকৃতপক্ষে এটি সঠিক নয়। আগামী রোব ও সোমবার যথারীতি বিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা চলবে।

এই প্রতিবাদলিপির বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেক আজ দুপুর ১২টার দিকে বলেন, আগের নোটিশটি ‘ফেক’ ছিল। আগেরটিতে তাঁর স্বাক্ষর ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। এখানে কীভাবে কী হয়েছে, তিনি বুঝতে পারেননি। কোনো ধরনের চাপের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথাও অস্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও নেত্রকোনা-২ আসন থেকে এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ফাহিম রহমান খান পাঠান বলেন, ‘এটি একটি ষড়যন্ত্র বলে মনে হচ্ছে। আমাদের বিব্রত করার জন্যই কোনো একটা চক্র ইচ্ছেকৃতভাবেই এসব করছে। অন্যান্য জেলার মতো আমরাও শুধু সভা সমাবেশ করার আগে প্রশাসনের কাছে আইনি নিরাপত্তা চেয়েছি। পুলিশ লাইনস স্কুলের সঙ্গে এনসিপির কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের সঙ্গে আমাদের কারও পরিচয়ও নেই। এনসিপির প্রোগ্রাম উপলক্ষে পুলিশ লাইনস স্কুল বন্ধ করতে পারে না। আর করলে এর দায় একান্তই স্কুল কর্তৃপক্ষের। এনসিপির প্রোগ্রাম উপলক্ষে কেউ কোনো প্রতিষ্ঠান, কাজকর্ম বন্ধ রাখলে তার দায় এনসিপি নেবে না। আপনারা যতভাবেই এ নিয়ে যাচাই–বাছাই করুন, এর সঙ্গে এনসিপির কোনো সম্পৃক্ততা পাবেন না। এটি নিছক একটি ষড়যন্ত্র। তদন্ত করে এটি বের করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদোন্নতিপ্রাপ্ত) সাহেব আলী পাঠান এ বিষয়ে বলেন, ‘পুলিশ লাইনস স্কুলে পুলিশ অবস্থান করবে বলে পরীক্ষা স্থগিত ও বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে—বিষয়টা সঠিক নয়। এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াতে হয়তো বলা হচ্ছে। স্কুল সঠিক নিয়মেই চলবে। আর বাইরে থেকে আসা ৬৬ জন পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনসেই রাখা হবে।’

প্রসঙ্গত, এনসিপির দলীয় সূত্র ও পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জে এনসিপির পথসভা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এরপর কক্সবাজারে এনসিপির এক নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চকরিয়ায় মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয়। এর পর থেকে দলটি যেখানে সমাবেশ করছে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আগামী রোববার নেত্রকোনায় দলটির সমাবেশ ঘিরে চার শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বাইরে থেকে ৬৬ জন পুলিশ সদস্যকে আনা হবে। তাঁদের থাকার জন্যই নেত্রকোনা পুলিশ লাইনস স্কুল বন্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করা হয়েছিল। তবে এখন জানা যাচ্ছে, নোটিশটি ভুয়া!

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

এনসিপির পদযাত্রা উপলক্ষে ‘স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত’, প্রধান শিক্ষকের দুই রকম বক্তব্য

আপডেট টাইম : ০৭:৫২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫

নেত্রকোনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা উপলক্ষে পুলিশ লাইনস স্কুল দুই দিন বন্ধ রাখার নোটিশ দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে নিজেদের দেওয়া নোটিশকেই ‘ফেক’ বলে দাবি করছে সেই স্কুল কর্তৃপক্ষ। এতে সমালোচনা আরও বেড়ে যায়। অনেকে আগের নোটিশ ও পরের নোটিশ দুটো একত্রে করেও ফেসবুকে পোস্ট করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনায় এনসিপির পদযাত্রাকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। আগামী রোববার দুপুরে শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় পুরোনো কালেক্টরেট মাঠে পথসভা করবে দলটি। এই উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা দিতে তৎপর রয়েছে।

এনসিপির এই পদযাত্রা উপলক্ষে জেলা পুলিশ পরিচালিত শহরের কুড়পাড় এলাকায় পুলিশ লাইনস স্কুল দুই দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ওই বিদ্যালয়ে এনসিপির কর্মসূচি উপলক্ষে আসা পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করবেন বলে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি নোটিশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার একপর্যায়ে আজ শুক্রবার সকালে একটি ‘প্রতিবাদলিপি’ দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, আগের নোটিশটি সঠিক নয়। রোব ও সোমবার বিদ্যালয়ে যথারীতি ক্লাস হবে।

এর আগে গতকাল প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেক স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আগামী রোববার এনসিপির পদযাত্রা উপলক্ষে নেত্রকোনায় আসা পুলিশ ফোর্স এই বিদ্যালয়ে অবস্থান করবে। সে জন্য রোব ও সোমবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। আগামী মঙ্গলবার থেকে যথারীতি ক্লাস ও পরীক্ষা চলবে। ২৭ তারিখের পরীক্ষা ২৯ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে। নোটিশটি যথারীতি বিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়।

এরপর গতকাল দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে নোটিশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ নেটিজেনরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। অনেকেই লিখেছেন, এভাবে একটি রাজনৈতিক দলের সমাবেশের কারণে বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ রাখা উচিত নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেক আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোবাইল ফোনে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এনসিপির সমাবেশ উপলক্ষে বাইরে থেকে বাড়তি পুলিশ আসবে, তাদের পুলিশ লাইনস স্কুলে থাকতে দেওয়া হবে। তাই বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে প্রায় ১০টির মতো বড় শ্রেণিকক্ষ আছে। আশা করি, থাকার সমস্যা হবে না।’ তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়টিতে শিশুশ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ২৫০ জন শিক্ষার্থীকে ১৬ জন শিক্ষক পাঠদান করেন।

তবে সমালোচনার মুখে আজ বেলা ১১টার পর নতুন করে একটি ‘প্রতিবাদলিপি’ দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এই প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, এনসিপির নেত্রকোনায় আগমন উপলক্ষে একটি বিভ্রান্তিমূলক নোটিশ একটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছে। এটি স্কুলের বিরুদ্ধে দূরভিসন্দিমূলক ও বিভ্রান্তিকর একটি ষড়যন্ত্র। প্রকৃতপক্ষে এটি সঠিক নয়। আগামী রোব ও সোমবার যথারীতি বিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা চলবে।

এই প্রতিবাদলিপির বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেক আজ দুপুর ১২টার দিকে বলেন, আগের নোটিশটি ‘ফেক’ ছিল। আগেরটিতে তাঁর স্বাক্ষর ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। এখানে কীভাবে কী হয়েছে, তিনি বুঝতে পারেননি। কোনো ধরনের চাপের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথাও অস্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও নেত্রকোনা-২ আসন থেকে এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ফাহিম রহমান খান পাঠান বলেন, ‘এটি একটি ষড়যন্ত্র বলে মনে হচ্ছে। আমাদের বিব্রত করার জন্যই কোনো একটা চক্র ইচ্ছেকৃতভাবেই এসব করছে। অন্যান্য জেলার মতো আমরাও শুধু সভা সমাবেশ করার আগে প্রশাসনের কাছে আইনি নিরাপত্তা চেয়েছি। পুলিশ লাইনস স্কুলের সঙ্গে এনসিপির কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের সঙ্গে আমাদের কারও পরিচয়ও নেই। এনসিপির প্রোগ্রাম উপলক্ষে পুলিশ লাইনস স্কুল বন্ধ করতে পারে না। আর করলে এর দায় একান্তই স্কুল কর্তৃপক্ষের। এনসিপির প্রোগ্রাম উপলক্ষে কেউ কোনো প্রতিষ্ঠান, কাজকর্ম বন্ধ রাখলে তার দায় এনসিপি নেবে না। আপনারা যতভাবেই এ নিয়ে যাচাই–বাছাই করুন, এর সঙ্গে এনসিপির কোনো সম্পৃক্ততা পাবেন না। এটি নিছক একটি ষড়যন্ত্র। তদন্ত করে এটি বের করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদোন্নতিপ্রাপ্ত) সাহেব আলী পাঠান এ বিষয়ে বলেন, ‘পুলিশ লাইনস স্কুলে পুলিশ অবস্থান করবে বলে পরীক্ষা স্থগিত ও বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে—বিষয়টা সঠিক নয়। এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াতে হয়তো বলা হচ্ছে। স্কুল সঠিক নিয়মেই চলবে। আর বাইরে থেকে আসা ৬৬ জন পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনসেই রাখা হবে।’

প্রসঙ্গত, এনসিপির দলীয় সূত্র ও পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জে এনসিপির পথসভা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এরপর কক্সবাজারে এনসিপির এক নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চকরিয়ায় মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয়। এর পর থেকে দলটি যেখানে সমাবেশ করছে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আগামী রোববার নেত্রকোনায় দলটির সমাবেশ ঘিরে চার শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বাইরে থেকে ৬৬ জন পুলিশ সদস্যকে আনা হবে। তাঁদের থাকার জন্যই নেত্রকোনা পুলিশ লাইনস স্কুল বন্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করা হয়েছিল। তবে এখন জানা যাচ্ছে, নোটিশটি ভুয়া!