ঢাকা ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গাজায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ অব্যাহত, তীব্র খাদ্য সংকটে ফিলিস্তিনিরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:২৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
  • ৫ বার

ইসরায়েলি বাহিনী ঈদুল ফিতরের ছুটির তৃতীয় দিনেও গাজায় বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। এতে কমপক্ষে ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৮৩ জন। এর ফলে এই উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার ৪০০ জনে পৌঁছেছে।

এদিকে সহায়তা বন্ধ থাকায় গাজায় চরম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

আলজাজিরার সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) পরিচালিত ২৫টি সহ গাজার সমস্ত বেকারি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, কারণ ইসরায়েলি অবরোধ ৩১তম দিন ধরে অব্যাহত রয়েছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দীর্ঘতম অবরোধ।

শত শত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী, সৈন্যদের সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ডুমা গ্রামে আক্রমণ করেছে, কমপক্ষে পাঁচজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে।

দীর্ঘ ১৫ মাস সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তারপর প্রায় দুই মাস গাজায় কম-বেশি শান্তি বজায় ছিল; কিন্তু গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে মার্চ মাসের তৃতীয় গত সপ্তাহ থেকে ফের গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

ফিলিস্তিনিরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করলেও তাদের কাছে আনন্দ করার কিছুই ছিল না। কারণ খাদ্যের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের কোনও শেষ নেই।

ঈদ সাধারণত একটি আনন্দময় উৎসব, যেখানে পরিবারগুলো একত্রিত হয়ে ভোজের আয়োজন করে এবং শিশুদের জন্য নতুন পোশাক কেনে। কিন্তু গাজার ২২ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি এখন শুধুই বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় ওসিএইচএ জানিয়েছে, মার্চ ১৮ থেকে ২৪ পর্যন্ত এক সপ্তাহে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজায় ৮২ শতাংশ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

‘জরুরি সরঞ্জাম সংগ্রহ বা বেকারিতে জ্বালানি সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে গেছে,’ বলে জানিয়েছে ওসিএইচএ।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে গাজায় কোনো ত্রাণ প্রবেশ করেনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

গাজায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ অব্যাহত, তীব্র খাদ্য সংকটে ফিলিস্তিনিরা

আপডেট টাইম : ১০:২৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫

ইসরায়েলি বাহিনী ঈদুল ফিতরের ছুটির তৃতীয় দিনেও গাজায় বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। এতে কমপক্ষে ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৮৩ জন। এর ফলে এই উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার ৪০০ জনে পৌঁছেছে।

এদিকে সহায়তা বন্ধ থাকায় গাজায় চরম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

আলজাজিরার সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) পরিচালিত ২৫টি সহ গাজার সমস্ত বেকারি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, কারণ ইসরায়েলি অবরোধ ৩১তম দিন ধরে অব্যাহত রয়েছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দীর্ঘতম অবরোধ।

শত শত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী, সৈন্যদের সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ডুমা গ্রামে আক্রমণ করেছে, কমপক্ষে পাঁচজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে।

দীর্ঘ ১৫ মাস সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তারপর প্রায় দুই মাস গাজায় কম-বেশি শান্তি বজায় ছিল; কিন্তু গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে মার্চ মাসের তৃতীয় গত সপ্তাহ থেকে ফের গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

ফিলিস্তিনিরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করলেও তাদের কাছে আনন্দ করার কিছুই ছিল না। কারণ খাদ্যের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের কোনও শেষ নেই।

ঈদ সাধারণত একটি আনন্দময় উৎসব, যেখানে পরিবারগুলো একত্রিত হয়ে ভোজের আয়োজন করে এবং শিশুদের জন্য নতুন পোশাক কেনে। কিন্তু গাজার ২২ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি এখন শুধুই বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় ওসিএইচএ জানিয়েছে, মার্চ ১৮ থেকে ২৪ পর্যন্ত এক সপ্তাহে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজায় ৮২ শতাংশ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

‘জরুরি সরঞ্জাম সংগ্রহ বা বেকারিতে জ্বালানি সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে গেছে,’ বলে জানিয়েছে ওসিএইচএ।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে গাজায় কোনো ত্রাণ প্রবেশ করেনি।