ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরব কি এবার এক দিন আগেই ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৪৪:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল ২০২৫
  • ৮ বার
সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের দিনক্ষণ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলেই পরদিন মাসটির শুরুর দিনে উদযাপিত হয় ঈদুল ফিতর। তবে এবার সৌদি আরবে শাওয়াল মাসের চাঁদ আদৌ দেখে ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত রবিবার প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামিক চন্দ্র ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সৌদি আরব চাঁদ দেখার আগেই ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করেছে।

এক দিন আগেই ঈদ উদযাপন শুরু করেছে দেশটি। এমন বিতর্কের মধ্যে দেশটির পক্ষ থেকে কাফফারা দেওয়ার কথাও উঠছে।তবে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এবার শনিবার চাঁদ দেখার কথা জানিয়ে রবিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করার ঘোষণা দেয় সৌদি আরব।

তাদের সঙ্গে আরো কয়েকটি দেশ রবিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করে। তবে অন্য দেশগুলো ঈদ উদযাপন করে সোমবার।মিসর, জর্দান, সিরিয়াসহ বেশ কয়েকটি সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ সৌদি আরবের ঘোষণার পরও সোমবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানও সোমবার ঈদুল ফিতরের প্রথম দিন হিসেবে উদযাপনের ঘোষণা দেয়।

পাশাপাশি ওমানের ইবাদি ধর্মীয় কর্তৃপক্ষও সোমবার ঈদ উদযাপন করে।অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং বিশেষজ্ঞ রবিবার ঈদুল ফিতর হতে পারে—এই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলছেন, আগের দিন শনিবার চাঁদ দেখা অসম্ভব।

আবুধাবিভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে পূর্ব গোলার্ধ থেকে শনিবার চাঁদ দেখা অসম্ভব ছিল।

সৌদি জ্যোতির্বিদ বদর আল-ওমাইরা মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজকে বলেন, ‘শনিবার সূর্যগ্রহণের কারণে চাঁদ দেখা অসম্ভব ছিল।

কারণ এর পর কয়েক ঘণ্টা ধরে চাঁদ দেখা সম্ভব হয় না।’যুক্তরাজ্যের মুসলিমদের চাঁদ দেখা সংক্রান্ত দল ‘নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ গত সপ্তাহে দ্য নিউ আরবকে বলেছিলেন যে ‘ইসলামিক মাসগুলো চাঁদের নতুন পর্যায়ে শুরু হয়—এমন একটি ধারণা প্রচলিত আছে; এটি আসলে ভ্রান্ত ধারণা। বাস্তবে ইসলামিক মাস চাঁদের নতুন পর্যায়ের পরবর্তী পর্যায়ে শুরু হয়।’

কিছু আরব দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ সৌদি আরবকে অনুসরণ করে। সৌদি আরবে ইসলামের দুটি পবিত্র স্থান মক্কা এবং মদিনা অবস্থিত। যার ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেই মনে করছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের কারণে লাখো মুসলমান এক দিন আগেই রোজা রাখা বন্ধ করেছেন।

২০১১ সালে এমন খবর বের হয়েছিল যে সৌদি আরবের চাঁদ পর্যবেক্ষণকারী কর্তৃপক্ষ আকাশে শনি গ্রহকে চাঁদ ভেবেছিল। ২০১৯ সালে আবারও এমন ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ দুবারই এ ঘটনা প্রত্যাখ্যান করেছে।

চাঁদ দেখা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি বিষয়গুলো মাঝে মাঝে বিতর্ক এবং বিভিন্ন ব্যাখ্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিছু দেশ জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব-নিকাশ এবং টেলিস্কোপের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে। অন্যরা চাঁদ দেখতে খালি চোখ ব্যবহার করে।

ইসলামের অসংখ্য বিষয়ের মতো চাঁদ দেখা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহার মতো ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ উৎসব শুরু হওয়ার দিনক্ষণের ঘোষণার সময় প্রায়ই বিতর্ক দেখা দেয়। কিছু দেশ জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত গণনা এবং টেলিস্কোপের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও অন্যরা জোর দিয়ে বলে যে এটি খালি চোখে দেখা উচিত।

সূত্র : দ্য নিউ আরব

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

সৌদি আরব কি এবার এক দিন আগেই ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে

আপডেট টাইম : ০৯:৪৪:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল ২০২৫
সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের দিনক্ষণ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলেই পরদিন মাসটির শুরুর দিনে উদযাপিত হয় ঈদুল ফিতর। তবে এবার সৌদি আরবে শাওয়াল মাসের চাঁদ আদৌ দেখে ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত রবিবার প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামিক চন্দ্র ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সৌদি আরব চাঁদ দেখার আগেই ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করেছে।

এক দিন আগেই ঈদ উদযাপন শুরু করেছে দেশটি। এমন বিতর্কের মধ্যে দেশটির পক্ষ থেকে কাফফারা দেওয়ার কথাও উঠছে।তবে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এবার শনিবার চাঁদ দেখার কথা জানিয়ে রবিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করার ঘোষণা দেয় সৌদি আরব।

তাদের সঙ্গে আরো কয়েকটি দেশ রবিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করে। তবে অন্য দেশগুলো ঈদ উদযাপন করে সোমবার।মিসর, জর্দান, সিরিয়াসহ বেশ কয়েকটি সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ সৌদি আরবের ঘোষণার পরও সোমবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানও সোমবার ঈদুল ফিতরের প্রথম দিন হিসেবে উদযাপনের ঘোষণা দেয়।

পাশাপাশি ওমানের ইবাদি ধর্মীয় কর্তৃপক্ষও সোমবার ঈদ উদযাপন করে।অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং বিশেষজ্ঞ রবিবার ঈদুল ফিতর হতে পারে—এই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলছেন, আগের দিন শনিবার চাঁদ দেখা অসম্ভব।

আবুধাবিভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে পূর্ব গোলার্ধ থেকে শনিবার চাঁদ দেখা অসম্ভব ছিল।

সৌদি জ্যোতির্বিদ বদর আল-ওমাইরা মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজকে বলেন, ‘শনিবার সূর্যগ্রহণের কারণে চাঁদ দেখা অসম্ভব ছিল।

কারণ এর পর কয়েক ঘণ্টা ধরে চাঁদ দেখা সম্ভব হয় না।’যুক্তরাজ্যের মুসলিমদের চাঁদ দেখা সংক্রান্ত দল ‘নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ গত সপ্তাহে দ্য নিউ আরবকে বলেছিলেন যে ‘ইসলামিক মাসগুলো চাঁদের নতুন পর্যায়ে শুরু হয়—এমন একটি ধারণা প্রচলিত আছে; এটি আসলে ভ্রান্ত ধারণা। বাস্তবে ইসলামিক মাস চাঁদের নতুন পর্যায়ের পরবর্তী পর্যায়ে শুরু হয়।’

কিছু আরব দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ সৌদি আরবকে অনুসরণ করে। সৌদি আরবে ইসলামের দুটি পবিত্র স্থান মক্কা এবং মদিনা অবস্থিত। যার ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেই মনে করছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের কারণে লাখো মুসলমান এক দিন আগেই রোজা রাখা বন্ধ করেছেন।

২০১১ সালে এমন খবর বের হয়েছিল যে সৌদি আরবের চাঁদ পর্যবেক্ষণকারী কর্তৃপক্ষ আকাশে শনি গ্রহকে চাঁদ ভেবেছিল। ২০১৯ সালে আবারও এমন ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ দুবারই এ ঘটনা প্রত্যাখ্যান করেছে।

চাঁদ দেখা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি বিষয়গুলো মাঝে মাঝে বিতর্ক এবং বিভিন্ন ব্যাখ্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিছু দেশ জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব-নিকাশ এবং টেলিস্কোপের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে। অন্যরা চাঁদ দেখতে খালি চোখ ব্যবহার করে।

ইসলামের অসংখ্য বিষয়ের মতো চাঁদ দেখা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহার মতো ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ উৎসব শুরু হওয়ার দিনক্ষণের ঘোষণার সময় প্রায়ই বিতর্ক দেখা দেয়। কিছু দেশ জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত গণনা এবং টেলিস্কোপের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও অন্যরা জোর দিয়ে বলে যে এটি খালি চোখে দেখা উচিত।

সূত্র : দ্য নিউ আরব