ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
এক শ্রেণির রাজনৈতিক দল সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা করছে : মির্জা আব্বাস হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপন, ভয়ঙ্কর পরিণতির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ইরানে হামলা করে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি নষ্ট করছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র: উ. কোরিয়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে লাগবে না এবার শিক্ষাগত যোগ্যতা অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নতুন সংসদের যাত্রা শুরু স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নিয়ে সিদ্ধান্ত আজ ববি হাজ্জাজের আসনে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামুনুল হক গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় অবনতির শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র তদবিরের জন্য ‎কর্মস্থল ছেড়ে মন্ত্রণালয়ে না যেতে আইজিপির নির্দেশ প্রয়াত স্ত্রী ইকরাকে নিয়ে আলভীর বিস্ফোরক দাবি

দশমিনায় মালচিং পদ্ধতিতে করলা ও শসা চাষে সাফল্য

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৬:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫
  • ১১৯ বার

পটুয়াখালীর দশমিনায় প্রথমবারের মতো মালচিং পদ্ধতিতে করলা ও শসা চাষ করে অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্ব দশমিনা গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী নারী কৃষি উদ্যোক্তা খাদিজা বেগম (২৮)। স্বল্প খরচে অধিক উৎপাদন, কীটনাশকমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব এই চাষপদ্ধতি উপজেলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

দশমিনায় মালচিং পদ্ধতিতে শাকসবজি চাষ আগে হলেও করলা ও শসার বাণিজ্যিক উৎপাদন এবারই প্রথম। স্মলহোল্ডার অ্যাগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি) ও আরএআইএনএস প্রকল্পের সহায়তায় খাদিজা পেয়েছেন বীজ, সার, মালচিং পেপার, স্প্রে মেশিন ও নগদ আর্থিক সহায়তা।

মালচিং পদ্ধতির সুবিধা ও উৎপাদন বৃদ্ধির রহস্য

এ পদ্ধতিতে মাটি প্রস্তুত করে বিশেষ পলিথিন দিয়ে ঢেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে ফুটো করে চারা রোপণ করা হয়। ফলে আগাছা জন্মায় না, পানির সাশ্রয় ও রোগবালাই কম হয়। কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়া জৈব সার দিয়ে নিরাপদ সবজি উৎপাদন সম্ভব, যা স্বাস্থ্যসম্মত ও লাভজনক।

খাদিজার বিনিয়োগ ও লাভজনক ফলন

খাদিজা জানান, ১ একর জমির মধ্যে ৫০ শতকে করলা ও ৫০ শতকে শসা চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা, যার মধ্যে ৪০ হাজার টাকা কৃষি বিভাগের সহায়তা। নিজের খরচ হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে ৭০-৮০ মণ শসা বিক্রি করে ৪০ হাজার টাকা আয় করেছেন। পাশাপাশি ৭ মণ করলা বিক্রি করে পেয়েছেন ২০ হাজার টাকা। তিনি আশা করছেন, আগামী মাসে আরও ২৫ মণ করলা বিক্রি করে প্রায় ৭০ হাজার টাকা আয় করবেন। যার ফলে লাভ হবে ১ লাখ টাকার বেশি।

নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা

খাদিজার স্বামী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিজের কৃষিকাজে সারা দিনের ব্যস্ততার মধ্যেও স্ত্রীর এমন উদ্যোগে খুব চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা, কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শে উৎপাদনে তেমন বেগ পেতে হয়নি।’

দশমিনা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী কামরুল জানান, মালচিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজি গুণগত মানে উন্নত হওয়ায় দ্রুত বিক্রি হয়। খাদিজার সফলতা দেখে অন্য নারীরাও কৃষিকাজে আগ্রহী হচ্ছেন।

কৃষি বিভাগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ বলেন, ‘মালচিং পদ্ধতি কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। এটি ব্যবহার করে কৃষকেরা যেকোনো সবজি ও ফল আবাদ করতে পারবেন। এটি সিজনে ও অফ সিজনে সবজি উৎপাদনের আধুনিক কৌশল, যা কৃষকের খরচ কমিয়ে লাভ বাড়ায়।’

মো. জাফর আহমেদ জানান, খাদিজার মতো অন্য নারীরাও কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে এগিয়ে আসবেন, যা কৃষিতে নারীদের ভূমিকা সুদৃঢ় করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

এক শ্রেণির রাজনৈতিক দল সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা করছে : মির্জা আব্বাস

দশমিনায় মালচিং পদ্ধতিতে করলা ও শসা চাষে সাফল্য

আপডেট টাইম : ১১:১৬:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫

পটুয়াখালীর দশমিনায় প্রথমবারের মতো মালচিং পদ্ধতিতে করলা ও শসা চাষ করে অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্ব দশমিনা গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী নারী কৃষি উদ্যোক্তা খাদিজা বেগম (২৮)। স্বল্প খরচে অধিক উৎপাদন, কীটনাশকমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব এই চাষপদ্ধতি উপজেলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

দশমিনায় মালচিং পদ্ধতিতে শাকসবজি চাষ আগে হলেও করলা ও শসার বাণিজ্যিক উৎপাদন এবারই প্রথম। স্মলহোল্ডার অ্যাগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি) ও আরএআইএনএস প্রকল্পের সহায়তায় খাদিজা পেয়েছেন বীজ, সার, মালচিং পেপার, স্প্রে মেশিন ও নগদ আর্থিক সহায়তা।

মালচিং পদ্ধতির সুবিধা ও উৎপাদন বৃদ্ধির রহস্য

এ পদ্ধতিতে মাটি প্রস্তুত করে বিশেষ পলিথিন দিয়ে ঢেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে ফুটো করে চারা রোপণ করা হয়। ফলে আগাছা জন্মায় না, পানির সাশ্রয় ও রোগবালাই কম হয়। কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়া জৈব সার দিয়ে নিরাপদ সবজি উৎপাদন সম্ভব, যা স্বাস্থ্যসম্মত ও লাভজনক।

খাদিজার বিনিয়োগ ও লাভজনক ফলন

খাদিজা জানান, ১ একর জমির মধ্যে ৫০ শতকে করলা ও ৫০ শতকে শসা চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা, যার মধ্যে ৪০ হাজার টাকা কৃষি বিভাগের সহায়তা। নিজের খরচ হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে ৭০-৮০ মণ শসা বিক্রি করে ৪০ হাজার টাকা আয় করেছেন। পাশাপাশি ৭ মণ করলা বিক্রি করে পেয়েছেন ২০ হাজার টাকা। তিনি আশা করছেন, আগামী মাসে আরও ২৫ মণ করলা বিক্রি করে প্রায় ৭০ হাজার টাকা আয় করবেন। যার ফলে লাভ হবে ১ লাখ টাকার বেশি।

নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা

খাদিজার স্বামী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিজের কৃষিকাজে সারা দিনের ব্যস্ততার মধ্যেও স্ত্রীর এমন উদ্যোগে খুব চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা, কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শে উৎপাদনে তেমন বেগ পেতে হয়নি।’

দশমিনা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী কামরুল জানান, মালচিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজি গুণগত মানে উন্নত হওয়ায় দ্রুত বিক্রি হয়। খাদিজার সফলতা দেখে অন্য নারীরাও কৃষিকাজে আগ্রহী হচ্ছেন।

কৃষি বিভাগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ বলেন, ‘মালচিং পদ্ধতি কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। এটি ব্যবহার করে কৃষকেরা যেকোনো সবজি ও ফল আবাদ করতে পারবেন। এটি সিজনে ও অফ সিজনে সবজি উৎপাদনের আধুনিক কৌশল, যা কৃষকের খরচ কমিয়ে লাভ বাড়ায়।’

মো. জাফর আহমেদ জানান, খাদিজার মতো অন্য নারীরাও কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে এগিয়ে আসবেন, যা কৃষিতে নারীদের ভূমিকা সুদৃঢ় করবে।