ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তরুণীকে মদের বারে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প নিয়ে সুসংবাদ দিলেন পানি সম্পদমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে জাহাজ চলাচল প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের

‘ঘুম ভাঙে গুলির শব্দে’

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৫৪:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬
  • ৪০৫ বার

গেল সপ্তাহে জম্মু ও কাশ্মিরের সেনাঘাঁটিতে রক্তাক্ত হামলার পর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পাশাপাশি হয়রাণি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপকভাবে। এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করে কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ব্যাপক সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতের অভিযোগ পাকিস্তান অস্বীকার করলেও তলে তলে পাকিস্তান যে কোনো হামলা মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

এছাড়া পাকিস্তান তাদের সামরিক বাহিনীকেও সতর্কাবস্থায় রেখেছে। সীমান্তজুড়ে থেমে থেমে গুলির শব্দ আর বিকট শব্দ করে জঙ্গি বিমানের উড়ে যাওয়াসহ গোটা বিষয়টি নিয়ে সীমান্তে বসবাসকারী নাগরিকদের জীবন এখন হুমকির মুখে। সীমান্তের এই যুদ্ধাবস্থা ওখানকার মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে বিবিসি কথা বলেছে সীমান্তে বসবাসকারী আবিদা নামে এক তরুণীর সঙ্গে।

স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী আবিদা বলেন, ‘আমি কাশ্মিরের উরির একটি গ্রামে বাস করি। আমাদের গ্রামের নাম বালকোট। এখান থেকে পাকিস্তানের দূরত্ব দুই কিলোমিটার। প্রায়ই আমরা ঘুম থেকে জেগে উঠি সীমান্তে গোলাগুলির শব্দে। এটি খবু ভীতিজনক ব্যাপার। কখন রোদ উঠবে, বৃষ্টি নামবে তা যেমন আমরা বলতে পারি না, ঠিক তেমনি কখন গুলি বর্ষণ শুরু হয় তা আমরা বলতে পারি না।’

আবিদা আরও বলেন, ‘আমরা যখন স্কুলের উদ্দেশে বের হই; তখন বলতে পারি না জীবন নিয়ে ঘরে ফিরতে পারব কি না। আমাদের শিশুরা এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে বড় হচ্ছে। এখানে আমাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই।

‘এখানে নিজেদের নিরাপত্তা নিজেদের দিতে হয়। আগামীকাল কি ঘটবে কেউ বলতে পারে না। এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়েছে তা এককথায় খুবই কঠিন। ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ি ফিরে আসাটাই বিশাল চ্যালেঞ্জ। আমাদের বসতভিটায় আমাদের বাড়িতে প্রবেশের জন্য আমাদেরকে অনুমতি নিতে হয়। তাহলে বুঝুন আমরা কি পরিস্থিতিতে আছি। গত তিন মাস ধরে পরিস্থিতি খুব খারাপ পর্যায়ে চলে গেছে। মাঝে মাঝে মনে এখানে না থাকাটাই সবচেয়ে ভালো।’

আবিদা আরও বলেন, ‘এভাবে চলতে পারে না। যেভাবেই হোক এই পরিস্থিতির সমাধান হওয়া উচিত। এখানকার সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তাদের এই বিষয়ে শান্তি আলোচনা করা উচিত।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণীকে মদের বারে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে

‘ঘুম ভাঙে গুলির শব্দে’

আপডেট টাইম : ১২:৫৪:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬

গেল সপ্তাহে জম্মু ও কাশ্মিরের সেনাঘাঁটিতে রক্তাক্ত হামলার পর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পাশাপাশি হয়রাণি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপকভাবে। এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করে কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ব্যাপক সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতের অভিযোগ পাকিস্তান অস্বীকার করলেও তলে তলে পাকিস্তান যে কোনো হামলা মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

এছাড়া পাকিস্তান তাদের সামরিক বাহিনীকেও সতর্কাবস্থায় রেখেছে। সীমান্তজুড়ে থেমে থেমে গুলির শব্দ আর বিকট শব্দ করে জঙ্গি বিমানের উড়ে যাওয়াসহ গোটা বিষয়টি নিয়ে সীমান্তে বসবাসকারী নাগরিকদের জীবন এখন হুমকির মুখে। সীমান্তের এই যুদ্ধাবস্থা ওখানকার মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে বিবিসি কথা বলেছে সীমান্তে বসবাসকারী আবিদা নামে এক তরুণীর সঙ্গে।

স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী আবিদা বলেন, ‘আমি কাশ্মিরের উরির একটি গ্রামে বাস করি। আমাদের গ্রামের নাম বালকোট। এখান থেকে পাকিস্তানের দূরত্ব দুই কিলোমিটার। প্রায়ই আমরা ঘুম থেকে জেগে উঠি সীমান্তে গোলাগুলির শব্দে। এটি খবু ভীতিজনক ব্যাপার। কখন রোদ উঠবে, বৃষ্টি নামবে তা যেমন আমরা বলতে পারি না, ঠিক তেমনি কখন গুলি বর্ষণ শুরু হয় তা আমরা বলতে পারি না।’

আবিদা আরও বলেন, ‘আমরা যখন স্কুলের উদ্দেশে বের হই; তখন বলতে পারি না জীবন নিয়ে ঘরে ফিরতে পারব কি না। আমাদের শিশুরা এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে বড় হচ্ছে। এখানে আমাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই।

‘এখানে নিজেদের নিরাপত্তা নিজেদের দিতে হয়। আগামীকাল কি ঘটবে কেউ বলতে পারে না। এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়েছে তা এককথায় খুবই কঠিন। ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ি ফিরে আসাটাই বিশাল চ্যালেঞ্জ। আমাদের বসতভিটায় আমাদের বাড়িতে প্রবেশের জন্য আমাদেরকে অনুমতি নিতে হয়। তাহলে বুঝুন আমরা কি পরিস্থিতিতে আছি। গত তিন মাস ধরে পরিস্থিতি খুব খারাপ পর্যায়ে চলে গেছে। মাঝে মাঝে মনে এখানে না থাকাটাই সবচেয়ে ভালো।’

আবিদা আরও বলেন, ‘এভাবে চলতে পারে না। যেভাবেই হোক এই পরিস্থিতির সমাধান হওয়া উচিত। এখানকার সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তাদের এই বিষয়ে শান্তি আলোচনা করা উচিত।’