ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শোকার্তদের ভিড়ে জনসমুদ্র হয়ে পড়েছিল তেহরান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:২৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪
  • ১২ বার

ইরানের সদ্যঃপ্রয়াত প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হওয়া মানুষের ভিড়ে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আজাদী স্কয়ার পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত প্রেসিডেন্ট রাইসিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল বুধবার সেখানে শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। সেখানে রাইসির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে সর্বস্তরের মানুষ।

এর আগে স্থানীয় সময় গতকাল সকালে সেখানে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ানসহ নিহত ৯ জনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় নেতৃত দেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।  জানাজা শেষে মোনাজাতে খামেনি আরবিতে বলেন, ‘হে আল্লাহ, আমরা তাঁর মধ্যে ভালো গুণ ছাড়া অন্য কিছু কখনোই দেখিনি।’ এ সময় খামেনির পাশে দাঁড়ানো ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবারকে কাঁদতে দেখা যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, প্রেসিডেন্ট রাইসিকে তেহরানে ‘অগণিত মানুষ’ শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

তেহরানে রাইসির জানাজায় অংশ নেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়া এবং লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর উপপ্রধান নাঈম কাসেম। প্রয়াত প্রেসিডেন্টকে শ্রদ্ধা জানিয়ে টানানো নানা ব্যানারে ছেয়ে গেছে তেহরান। দূর-দূরান্ত থেকে প্রয়াত প্রেসিডেন্টকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে এসেছে সর্বস্তরের মানুষ।

প্রয়াত প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে গতকাল বিকেলে তেহরানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

সেখানে ৪০ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ বিদেশি প্রতিনিধির অংশগ্রহণের কথা ছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা গতকাল এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রয়াত প্রেসিডেন্টের স্মরণসভায় ১০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, ২০টি দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন স্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর প্রথম তাবরিজে রাইসি ও তাঁর হেলিকপ্টারের সহযাত্রীদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর প্রেসিডেন্ট রাইসিসহ বাকিদের মরদেহ তাবরিজ থেকে কেন্দ্রীয় শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হয়। কোম শহরে রাইসি পড়াশোনা করেছেন।

কোমে দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাইসি ও তাঁর সঙ্গীদের মরদেহ তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দর থেকে বিমানে করে রাজধানীতে নিয়ে আসা হয়।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহিয়ানসহ নিহত আরো সাতজনের জানাজা একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে আজ বৃহস্পতিবার রাইসিকে দাফন করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

শোকার্তদের ভিড়ে জনসমুদ্র হয়ে পড়েছিল তেহরান

আপডেট টাইম : ১০:২৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪

ইরানের সদ্যঃপ্রয়াত প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হওয়া মানুষের ভিড়ে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আজাদী স্কয়ার পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত প্রেসিডেন্ট রাইসিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল বুধবার সেখানে শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। সেখানে রাইসির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে সর্বস্তরের মানুষ।

এর আগে স্থানীয় সময় গতকাল সকালে সেখানে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ানসহ নিহত ৯ জনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় নেতৃত দেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।  জানাজা শেষে মোনাজাতে খামেনি আরবিতে বলেন, ‘হে আল্লাহ, আমরা তাঁর মধ্যে ভালো গুণ ছাড়া অন্য কিছু কখনোই দেখিনি।’ এ সময় খামেনির পাশে দাঁড়ানো ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবারকে কাঁদতে দেখা যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, প্রেসিডেন্ট রাইসিকে তেহরানে ‘অগণিত মানুষ’ শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

তেহরানে রাইসির জানাজায় অংশ নেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়া এবং লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর উপপ্রধান নাঈম কাসেম। প্রয়াত প্রেসিডেন্টকে শ্রদ্ধা জানিয়ে টানানো নানা ব্যানারে ছেয়ে গেছে তেহরান। দূর-দূরান্ত থেকে প্রয়াত প্রেসিডেন্টকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে এসেছে সর্বস্তরের মানুষ।

প্রয়াত প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে গতকাল বিকেলে তেহরানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

সেখানে ৪০ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ বিদেশি প্রতিনিধির অংশগ্রহণের কথা ছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা গতকাল এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রয়াত প্রেসিডেন্টের স্মরণসভায় ১০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, ২০টি দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন স্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর প্রথম তাবরিজে রাইসি ও তাঁর হেলিকপ্টারের সহযাত্রীদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর প্রেসিডেন্ট রাইসিসহ বাকিদের মরদেহ তাবরিজ থেকে কেন্দ্রীয় শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হয়। কোম শহরে রাইসি পড়াশোনা করেছেন।

কোমে দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাইসি ও তাঁর সঙ্গীদের মরদেহ তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দর থেকে বিমানে করে রাজধানীতে নিয়ে আসা হয়।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহিয়ানসহ নিহত আরো সাতজনের জানাজা একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে আজ বৃহস্পতিবার রাইসিকে দাফন করা হবে।