ঢাকা ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান বিজ্ঞান, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন ভাবনার এক প্রজ্ঞাবান রাষ্ট্রনায়কের জীবনকথা নতুন ভাইরাস তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে এআই! বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা ‘আপনি কি গুপ্ত আওয়ামী লীগ’, জবাবে যা বললেন রুমিন ফারহানা কঠিন বিপদে বা দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে যে ৩ আমল বেশি বেশি করবেন টাঙ্গুয়ার হাওরে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু দেশে ভারি বৃষ্টির সতর্কবার্তা, ১০ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে অপপ্রচার, সতর্ক করল পুলিশ বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ‘গরিবের এসি বাড়ি’ ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল জনতার, কোনো রাজনৈতিক দলের নয় : ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এক দিনের সফরে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পিস টিভি বন্ধের পর কি জঙ্গি তৎপরতা থামবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৫:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ জুলাই ২০১৬
  • ৫৫২ বার

গুলশান হামলাকারীদের দু’জন ভারতের বিতর্কিত বক্তা ড. জাকির নায়েকের টুইটার-অনুসারী ছিলেন৷ তাঁর বক্তব্য ধারাবাহিকভাবে পিস টিভিতে প্রচার হয়, যাতে জঙ্গি তৎপরতায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার মতো উপাদান আছে বলে মনে করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী৷
গুলশান হামলার পর শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের অদূরেও হামলা হয়ে গেছে বাংলাদেশে৷ আর এ সব হামলার পর থেকেই ড. নায়েকের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদকে মদত দেয়ার অভিযোগ উঠেছে৷ সোমবার এ কারণে বাংলাদেশে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, চলছে তদন্তও৷
জঙ্গি তৎপরতা রোধে আরো কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তঃমন্ত্রণালয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু৷ এরমধ্যে রয়েছে জুমার নামাজের ওপর নজরদারি, ঢাকার গুলাশান এলকায় অনুমোদনহীন হোটেল, রেস্টুরেন্ট, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া, নিখোঁজ তরুণদের তথ্য সংগ্রহ এবং কোনো ছাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে তা রিপোর্ট করা৷
বাংলাদেশে পিস টিভির অনুষ্ঠান বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাষায়ই দেখা যেত৷ তাছাড়া পিস টিভির বাংলা অনুষ্ঠান মূলত ঢাকা শহরে তৈরি করেই সম্প্রচারের জন্য পাঠানো হতো৷ তারা ডাউন লিংক-এর অনুমোদন নিয়ে অনুষ্ঠান তৈরির কাজও করে আসছিল৷ এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশের কিছু ইসলামি চিন্তাবিদ৷ তারা আবার পিস টিভির বক্তাও৷ তাই এবার সম্প্রচার বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে যারা অবৈধভাবে এখানে অনুষ্ঠান বানিয়ে দেশের বাইরে পাঠচ্ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়৷
তবে শুধুমাত্র পিস টিভি-র সম্প্রচার বন্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা কতটুকু বন্ধ করা যাবে, তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া অ্যান্ড ফিল্ম স্ট্যাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সফিউল আলম ভূঁইয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘জঙ্গি তৎপরতার নানা ফ্রন্ট থাকে৷ মিলিটারি, ট্রেনিং, রিক্রুটমেন্ট, অর্থ, অপারেশন, মিডিয়া প্রভৃতি৷ পিস টিভির কোনো বক্তব্য যদি বাংলাদেশের তরুণদের কাউকে উদ্ধুদ্ধ করে থাকে, তাহলে সরকার ব্যবস্থা নিতেই পারে৷
আমরা জানতে পেরেছি, গুলশান হামলার দুই তরুণ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জাকির নায়েকের অনুসারী ছিল৷ তবে বিষয়টি আরো তদন্ত করে দেখতে হবে৷”
তাঁর কথায়, ‘‘পিস টিভি বন্ধ করলেই বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা প্রতিহত করা যাবে না৷ এটা যে পর্যায়ে গেছে, তাতে সর্বপ্রথম প্রয়োজন আমাদের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানো৷ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠক্রমের দিকে নজর দেয়া আর বের করা এ পর্যন্ত কত তরুণ জঙ্গিদের দলে ভিড়েছে৷ দু-এক দিনে এ কাজ করা যাবে না৷ এর জন্য জঙ্গিবিরোধী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে৷”
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ও জঙ্গি বিষয়ক গবেষক নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কোনো কিছুর প্রচার বা সম্প্রচার বন্ধ করে জঙ্গি তৎপরতা বন্ধ সম্ভব নয়৷ বরং প্রয়োজন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম শুরু করা৷ সেজন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক পরিববেশ৷”
তিনি আরো বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে হয়ত সাময়িকভাবে জঙ্গি দমন করা যায়৷ কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এটা সম্ভব নয়৷”
এদিকে পিস টিভি বন্ধ নিয়ে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক চলছে৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারকারীরা দৃশ্যত পিস টিভি বন্ধের ব্যাপারে দু’ভাগে ভাগ হয়ে পড়েছেন৷ তারা পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত প্রকাশ করছেন৷
প্রসঙ্গত, ভারতে প্রথম পিস টিভি বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হলেও, এখনো তা কার্যকর হয়নি৷ অথচ বাংলাদেশ তার আগেই এখানে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দিল৷

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান বিজ্ঞান, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন ভাবনার এক প্রজ্ঞাবান রাষ্ট্রনায়কের জীবনকথা

পিস টিভি বন্ধের পর কি জঙ্গি তৎপরতা থামবে

আপডেট টাইম : ১১:৪৫:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ জুলাই ২০১৬

গুলশান হামলাকারীদের দু’জন ভারতের বিতর্কিত বক্তা ড. জাকির নায়েকের টুইটার-অনুসারী ছিলেন৷ তাঁর বক্তব্য ধারাবাহিকভাবে পিস টিভিতে প্রচার হয়, যাতে জঙ্গি তৎপরতায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার মতো উপাদান আছে বলে মনে করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী৷
গুলশান হামলার পর শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের অদূরেও হামলা হয়ে গেছে বাংলাদেশে৷ আর এ সব হামলার পর থেকেই ড. নায়েকের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদকে মদত দেয়ার অভিযোগ উঠেছে৷ সোমবার এ কারণে বাংলাদেশে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, চলছে তদন্তও৷
জঙ্গি তৎপরতা রোধে আরো কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তঃমন্ত্রণালয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু৷ এরমধ্যে রয়েছে জুমার নামাজের ওপর নজরদারি, ঢাকার গুলাশান এলকায় অনুমোদনহীন হোটেল, রেস্টুরেন্ট, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া, নিখোঁজ তরুণদের তথ্য সংগ্রহ এবং কোনো ছাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে তা রিপোর্ট করা৷
বাংলাদেশে পিস টিভির অনুষ্ঠান বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাষায়ই দেখা যেত৷ তাছাড়া পিস টিভির বাংলা অনুষ্ঠান মূলত ঢাকা শহরে তৈরি করেই সম্প্রচারের জন্য পাঠানো হতো৷ তারা ডাউন লিংক-এর অনুমোদন নিয়ে অনুষ্ঠান তৈরির কাজও করে আসছিল৷ এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশের কিছু ইসলামি চিন্তাবিদ৷ তারা আবার পিস টিভির বক্তাও৷ তাই এবার সম্প্রচার বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে যারা অবৈধভাবে এখানে অনুষ্ঠান বানিয়ে দেশের বাইরে পাঠচ্ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়৷
তবে শুধুমাত্র পিস টিভি-র সম্প্রচার বন্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা কতটুকু বন্ধ করা যাবে, তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া অ্যান্ড ফিল্ম স্ট্যাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সফিউল আলম ভূঁইয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘জঙ্গি তৎপরতার নানা ফ্রন্ট থাকে৷ মিলিটারি, ট্রেনিং, রিক্রুটমেন্ট, অর্থ, অপারেশন, মিডিয়া প্রভৃতি৷ পিস টিভির কোনো বক্তব্য যদি বাংলাদেশের তরুণদের কাউকে উদ্ধুদ্ধ করে থাকে, তাহলে সরকার ব্যবস্থা নিতেই পারে৷
আমরা জানতে পেরেছি, গুলশান হামলার দুই তরুণ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জাকির নায়েকের অনুসারী ছিল৷ তবে বিষয়টি আরো তদন্ত করে দেখতে হবে৷”
তাঁর কথায়, ‘‘পিস টিভি বন্ধ করলেই বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা প্রতিহত করা যাবে না৷ এটা যে পর্যায়ে গেছে, তাতে সর্বপ্রথম প্রয়োজন আমাদের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানো৷ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠক্রমের দিকে নজর দেয়া আর বের করা এ পর্যন্ত কত তরুণ জঙ্গিদের দলে ভিড়েছে৷ দু-এক দিনে এ কাজ করা যাবে না৷ এর জন্য জঙ্গিবিরোধী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে৷”
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ও জঙ্গি বিষয়ক গবেষক নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কোনো কিছুর প্রচার বা সম্প্রচার বন্ধ করে জঙ্গি তৎপরতা বন্ধ সম্ভব নয়৷ বরং প্রয়োজন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম শুরু করা৷ সেজন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক পরিববেশ৷”
তিনি আরো বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে হয়ত সাময়িকভাবে জঙ্গি দমন করা যায়৷ কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এটা সম্ভব নয়৷”
এদিকে পিস টিভি বন্ধ নিয়ে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক চলছে৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারকারীরা দৃশ্যত পিস টিভি বন্ধের ব্যাপারে দু’ভাগে ভাগ হয়ে পড়েছেন৷ তারা পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত প্রকাশ করছেন৷
প্রসঙ্গত, ভারতে প্রথম পিস টিভি বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হলেও, এখনো তা কার্যকর হয়নি৷ অথচ বাংলাদেশ তার আগেই এখানে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দিল৷