ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এক মাসেই দুবার বাড়ল বিদ্যুতের দাম, বাড়বে অন্যান্য খরচও

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ মার্চ ২০২৩
  • ৭২ বার

বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ সামলাতে এ বছর প্রতি মাসে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করছে সরকার। এরই ধারবাহিকতায় একমাসের ব্যবধানে গ্রাহক পর্যায়ে আরেক দফা বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। নিয়মিত মূল্য সমন্বয়ের অংশ হিসেবে এ দফায় আরও ৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ইউনিট প্রতি গড়ে ৩৯ পয়সা করে বাড়ল।

এ নিয়ে চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই তিন দফায় বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানো হলো। নতুন বর্ধিত দাম বিল মাস মার্চ থেকে কার্যকর হবে। তবে খুচায় বাড়লেও পাইকারিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি।

বিষয়টি নিশ্চত করে বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তবে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের জন্য তা বিভিন্ন হারে কার্যকর হবে।’

সরকারের নির্বাহী আদেশে মঙ্গলবার রাতে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপণ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী লাইফলাইন গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৪ টাকা ১৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৩৫, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৮৫ পয়সা এবং ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের ৬ টাকা ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের ৬ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৯৫ পয়সা, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটের জন্য ৬ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৩৪ পয়সা, ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৯৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৫১ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের ওপরে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল ১২ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩ টাকা ২৬ পয়সা করা হয়েছে।

আবাসিক গ্রাহক ছাড়াও বেড়েছে সব ধরনের বিদ্যুতের দাম। এরমধ্যে কৃষি, ধর্মীয়, দাতব্য, হাসপাতাল, রাস্তার বাতি, পানির পাম্প, ক্ষুদ্র শিল্প, শিল্প, বাণিজ্য, ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনের বিদ্যুতের দাম বেড়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকার, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ১৩ নং আইন) এর ধারা ৩৪ক-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, ভর্তুকি সমন্বয়ের লক্ষ্যে, জনস্বার্থে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘দেশের সব পাইকারি বিদ্যুৎ কেনে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সেটি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর কাছে কম দামে সরবরাহ করা হয়। এতে ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসানের মুখে রয়েছে পিডিবি। সরকার বড় আকারে ভর্তুকি দিচ্ছে। পিডিবি যতটা লোকসান দিচ্ছে সে তুলনায় গ্রাহক পর্যায়ে সামান্যই দাম বেড়েছে।’

গত জানুয়ারিতে দু’দফায় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ে। প্রথম দফায় ১২ জানুয়ারি ও দ্বিতীয় দফায় ২৯ জানুয়ারি দাম বাড়ানো হয়। গত ১২ বছরে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১২ বার। এতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১১৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিদ্যুতের দাম সব পর্যায়ে বাড়ানো হয়। তখন পাইকারিতে দাম ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে (খুচরা) বাড়ানো হয় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। তাতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বেড়ে দাঁড়ায় গড়ে ৩৬ পয়সা বেড়ে ৭ টাকা ১৩ পয়সা।

শেষ দুই দফায় সরকারের নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের এই দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি শেষে দাম বাড়ানোর আদেশ দিত। ১২ জানুয়ারি থেকে সরকারের নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গত বছরের ১ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২২’ জারি হয়। এ অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিশেষ ক্ষেত্রে বিইআরসির পাশাপাশি ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণ, পুর্নর্নিধারণ ও সমন্বয় করতে পারবে সরকার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

এক মাসেই দুবার বাড়ল বিদ্যুতের দাম, বাড়বে অন্যান্য খরচও

আপডেট টাইম : ১২:৩৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ মার্চ ২০২৩

বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ সামলাতে এ বছর প্রতি মাসে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করছে সরকার। এরই ধারবাহিকতায় একমাসের ব্যবধানে গ্রাহক পর্যায়ে আরেক দফা বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। নিয়মিত মূল্য সমন্বয়ের অংশ হিসেবে এ দফায় আরও ৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ইউনিট প্রতি গড়ে ৩৯ পয়সা করে বাড়ল।

এ নিয়ে চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই তিন দফায় বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানো হলো। নতুন বর্ধিত দাম বিল মাস মার্চ থেকে কার্যকর হবে। তবে খুচায় বাড়লেও পাইকারিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি।

বিষয়টি নিশ্চত করে বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তবে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের জন্য তা বিভিন্ন হারে কার্যকর হবে।’

সরকারের নির্বাহী আদেশে মঙ্গলবার রাতে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপণ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী লাইফলাইন গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৪ টাকা ১৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৩৫, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৮৫ পয়সা এবং ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের ৬ টাকা ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের ৬ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৯৫ পয়সা, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটের জন্য ৬ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৩৪ পয়সা, ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৯৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৫১ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের ওপরে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল ১২ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩ টাকা ২৬ পয়সা করা হয়েছে।

আবাসিক গ্রাহক ছাড়াও বেড়েছে সব ধরনের বিদ্যুতের দাম। এরমধ্যে কৃষি, ধর্মীয়, দাতব্য, হাসপাতাল, রাস্তার বাতি, পানির পাম্প, ক্ষুদ্র শিল্প, শিল্প, বাণিজ্য, ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনের বিদ্যুতের দাম বেড়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকার, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ১৩ নং আইন) এর ধারা ৩৪ক-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, ভর্তুকি সমন্বয়ের লক্ষ্যে, জনস্বার্থে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘দেশের সব পাইকারি বিদ্যুৎ কেনে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সেটি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর কাছে কম দামে সরবরাহ করা হয়। এতে ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসানের মুখে রয়েছে পিডিবি। সরকার বড় আকারে ভর্তুকি দিচ্ছে। পিডিবি যতটা লোকসান দিচ্ছে সে তুলনায় গ্রাহক পর্যায়ে সামান্যই দাম বেড়েছে।’

গত জানুয়ারিতে দু’দফায় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ে। প্রথম দফায় ১২ জানুয়ারি ও দ্বিতীয় দফায় ২৯ জানুয়ারি দাম বাড়ানো হয়। গত ১২ বছরে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১২ বার। এতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১১৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিদ্যুতের দাম সব পর্যায়ে বাড়ানো হয়। তখন পাইকারিতে দাম ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে (খুচরা) বাড়ানো হয় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। তাতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বেড়ে দাঁড়ায় গড়ে ৩৬ পয়সা বেড়ে ৭ টাকা ১৩ পয়সা।

শেষ দুই দফায় সরকারের নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের এই দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি শেষে দাম বাড়ানোর আদেশ দিত। ১২ জানুয়ারি থেকে সরকারের নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গত বছরের ১ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২২’ জারি হয়। এ অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিশেষ ক্ষেত্রে বিইআরসির পাশাপাশি ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণ, পুর্নর্নিধারণ ও সমন্বয় করতে পারবে সরকার।