ঢাকা ০৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

উপকূলবাসীর প্রকৃত বন্ধু হোন: কোস্ট গার্ডের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • ৭৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সমুদ্রে অভিভাবকত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উপকূলবাসীর প্রকৃত বন্ধু হতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের (বিসিজি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে কোস্টগার্ড সদর দফতরে বিসিজি’র ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং বিসিজি ডে-২০২৩ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বাহিনীর (বিসিজি) মূলমন্ত্র হলো ‘সমুদ্রের অভিভাবক’ যার অর্থ উপকূলবাসীর প্রকৃত বন্ধু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।

প্রধানমন্ত্রী অনেক অপরাধমূলক কাজ বন্ধ করে উপকূলের নিরীহ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কোস্ট গার্ড সসদ্যদের ব্যাপক প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘সরকার তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসহ কোস্ট গার্ডকে আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনীতে রূপান্তরে কাজ করে যাচ্ছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা চাই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞানসহ কোস্টগার্ড একটি উন্নত ও শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত হোক। সরকার কক্ষপথে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছে। এই স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে কোস্ট গার্ডের যোগাযোগ পদ্ধতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) রিয়ার অ্যাডমিরাল আশরাফুল হক চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাহিনীতে গৌরবজনক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালকসহ বেশ কয়েকজন সদস্যের হাতে পদক তুলে দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে। এছাড়া কোস্ট গার্ডের কর্মকাণ্ড নিয়ে বানানো একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও তথ্যচিত্রও অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গোপসাগর ও বহু নদী বরাবর বাংলাদেশের রয়েছে বিস্তীর্ণ উপকূলরেখা। আপনারা বিসিজির সদস্যরা আমাদের ব্যবসা, বাণিজ্য এবং উপকূলীয় এলাকার লোকজনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্র ও নদীদূষণ বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, পণ্য ও আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচার, জলদস্যুতা ও অবৈধ মাছ ধরা প্রতিরোধে কোস্টগার্ড সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘এ বাহিনী ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উপকূলীয় অঞ্চলের দুস্থ ও অসহায় মানুষদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং এভাবে জনগণের আস্থা অর্জন করে তাদের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সিলেটে অঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যায় কোস্ট গার্ড সদস্যদের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথাও স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী করতে আমরা উচ্চপ্রযুক্তির জাহাজ, নৌ নজরদারি পদ্ধতি, হোভারক্রাফট ও উচ্চগতির নৌযান চালু করতে যাচ্ছি।’

এছাড়া কোস্ট গার্ডকে আরও চারটি ওপিভি, গভীর সমুদ্রে টহল দেয়ার জন্যে নয়টি প্রতিস্থাপনকারী জাহাজ এবং দুটি মেরিটাইম সংস্করণের হেলিকপ্টার নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা এ সময় কোস্ট গার্ডের উন্নয়ন ও উপকূলের স্বার্থে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার কোস্ট গার্ডকে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০৩০ ও ২০৪০ সালের মধ্যে এ বাহিনীর দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতি ও গভীর সমুদ্রে নিরাপত্তা রক্ষায় জাহাজ, সদস্যদের সরঞ্জাম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার বন্ধুপ্রতিম সম্পর্ক বজায় রেখে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সমুদ্রে দেশের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে।’

চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতির হার ও খাদ্যের অপর্যাপ্ততার কথা দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রতি ইঞ্চি জমি চাষের আওতায় আনার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন, যেন কোনো সংকট বিশেষ করে খাদ্য ঘাটতি বাংলাদেশে দেখা দিতে না পারে।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে প্রতিটি জিনিসের দাম উর্ধ্বমুখী। তাই আমাদের নতুন নির্মাণসহ প্রত্যেক বিষয়ে কৃচ্ছ্বসাধন করতে হবে।’

শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এ পরিণত করতে তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।-বাসস।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

উপকূলবাসীর প্রকৃত বন্ধু হোন: কোস্ট গার্ডের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১১:৪৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সমুদ্রে অভিভাবকত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উপকূলবাসীর প্রকৃত বন্ধু হতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের (বিসিজি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে কোস্টগার্ড সদর দফতরে বিসিজি’র ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং বিসিজি ডে-২০২৩ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বাহিনীর (বিসিজি) মূলমন্ত্র হলো ‘সমুদ্রের অভিভাবক’ যার অর্থ উপকূলবাসীর প্রকৃত বন্ধু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।

প্রধানমন্ত্রী অনেক অপরাধমূলক কাজ বন্ধ করে উপকূলের নিরীহ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কোস্ট গার্ড সসদ্যদের ব্যাপক প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘সরকার তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসহ কোস্ট গার্ডকে আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনীতে রূপান্তরে কাজ করে যাচ্ছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা চাই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞানসহ কোস্টগার্ড একটি উন্নত ও শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত হোক। সরকার কক্ষপথে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছে। এই স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে কোস্ট গার্ডের যোগাযোগ পদ্ধতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) রিয়ার অ্যাডমিরাল আশরাফুল হক চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাহিনীতে গৌরবজনক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালকসহ বেশ কয়েকজন সদস্যের হাতে পদক তুলে দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে। এছাড়া কোস্ট গার্ডের কর্মকাণ্ড নিয়ে বানানো একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও তথ্যচিত্রও অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গোপসাগর ও বহু নদী বরাবর বাংলাদেশের রয়েছে বিস্তীর্ণ উপকূলরেখা। আপনারা বিসিজির সদস্যরা আমাদের ব্যবসা, বাণিজ্য এবং উপকূলীয় এলাকার লোকজনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্র ও নদীদূষণ বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, পণ্য ও আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচার, জলদস্যুতা ও অবৈধ মাছ ধরা প্রতিরোধে কোস্টগার্ড সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘এ বাহিনী ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উপকূলীয় অঞ্চলের দুস্থ ও অসহায় মানুষদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং এভাবে জনগণের আস্থা অর্জন করে তাদের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সিলেটে অঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যায় কোস্ট গার্ড সদস্যদের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথাও স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী করতে আমরা উচ্চপ্রযুক্তির জাহাজ, নৌ নজরদারি পদ্ধতি, হোভারক্রাফট ও উচ্চগতির নৌযান চালু করতে যাচ্ছি।’

এছাড়া কোস্ট গার্ডকে আরও চারটি ওপিভি, গভীর সমুদ্রে টহল দেয়ার জন্যে নয়টি প্রতিস্থাপনকারী জাহাজ এবং দুটি মেরিটাইম সংস্করণের হেলিকপ্টার নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা এ সময় কোস্ট গার্ডের উন্নয়ন ও উপকূলের স্বার্থে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার কোস্ট গার্ডকে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০৩০ ও ২০৪০ সালের মধ্যে এ বাহিনীর দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতি ও গভীর সমুদ্রে নিরাপত্তা রক্ষায় জাহাজ, সদস্যদের সরঞ্জাম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার বন্ধুপ্রতিম সম্পর্ক বজায় রেখে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সমুদ্রে দেশের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে।’

চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতির হার ও খাদ্যের অপর্যাপ্ততার কথা দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রতি ইঞ্চি জমি চাষের আওতায় আনার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন, যেন কোনো সংকট বিশেষ করে খাদ্য ঘাটতি বাংলাদেশে দেখা দিতে না পারে।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে প্রতিটি জিনিসের দাম উর্ধ্বমুখী। তাই আমাদের নতুন নির্মাণসহ প্রত্যেক বিষয়ে কৃচ্ছ্বসাধন করতে হবে।’

শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এ পরিণত করতে তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।-বাসস।