ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ঢাকার যানজট নিরসনে ৭ নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের আশ্বাস দিয়ে ৬০ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণ জ্বালানি সংকট ১৭ বছরের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া: তিতুমীর মন্ত্রিসভায় সোমবার ফাইল উঠলে বৃহস্পতিবারই গেজেট ছয় মাসে দেশে কোনো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটেনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাসনাত আব্দুল্লাহর দুঃখ প্রকাশের পর কওমি ছাত্রদের কর্মসূচি প্রত্যাহার বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম সবচেয়ে ভয়ংকর: প্রধানমন্ত্রী জনগণকে নিয়ে অপরাধ দমনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশ আইজিপির জলের বুকে লাল শাপলার নকশিকাঁথা শাড়িকাণ্ডের আরেক মামলায় তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ, নারাজি দেবেন বাদী

ভবিষ্যৎ সত্যিই উজ্জ্বল: প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৫৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মে ২০১৬
  • ২৯৬ বার

স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ‘সুপ্ত প্রতিভা’ খুঁজতে জাতীয়ভাবে আয়োজিত সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যারা পুরস্কার পেয়েছে এবং যারা এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেছেন, এরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সত্যিই উজ্জ্বল। আমি মনে করি সব থেকে মেধাবী হলো আমার দেশের ছেলেমেয়েরা। কিন্তু বিকশিত হওয়ার সুযোগ তাদের দিতে হবে।

রবিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে, শিক্ষার জন্য ব্যয় খরচ নয় বরং শিক্ষায় খরচ সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা যেনো তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে সরকারি স্কুল ও একটি করে সরকারি কলেজ করারও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বাংলাদেশকে ভিক্ষুকের দেশে পরিণত করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ২১ বছর পরে ক্ষমতায় এসে সেই ষড়যন্ত্র নির্মূল করে

আমরা একটি উন্নত সমৃদ্ধ শিক্ষিত দেশ ও জাতি গড়ে তুলছি। সোনার বাংলা গড়ার এ সংগ্রামে আমাদের মূল বিনিয়োগ হচ্ছে শিক্ষা। তাইতো ২০০৮ সালে ফের ক্ষমতায় এসে নতুন শিক্ষীনীতি প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু গড়ে তুলতে থাকেন নানামুখী কার্যক্রমে। তার কার্যক্রমের মধ্যে গুরুত্ব পেয়েছিল শিক্ষাখাত। তিনিই বলেছিলেন, ‘সুষ্ঠু সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষাখাতে পুঁজি বিনিয়োগের চাইতে উৎকৃষ্ট বিনিয়োগ আর কিছু হতে পারে না’। শিক্ষায় বিনিয়োগ যে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ, তাও আমাদের শিখিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু।

তিনি বলেন, ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত অর্জন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষ হতদরিদ্র ছিল, তাদের মুখে ভাত ছিল না, পরনে কাপড় ছিল না। নিজের অপরিসীম ত্যাগ দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ বাঙালি জাতিকে স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ এনে দেন, তিনি জাতিকে এ দুঃসহ অবস্থা থেকে মুক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বারবার আঘাত এসেছে, আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাঙালি জাতি। তাই বঙ্গবন্ধুর সেই অমর বাণী, বাঙালি জাতিকে দাবায়ে রাখতে পারবে না- সেটিও সত্যে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার পর মাত্র তিন বছরে শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশই গড়ে তোলেননি জাতির পিতা, একটি সংবিধানও উপহার দিয়েছিলেন। সেই সংবিধানে শিক্ষাকে গুরুত্ব দেন তিনি। প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও জাতীয়করণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ভিক্ষুক জাতিতে পরিণত হতে চাই না। আমরা সুশিক্ষিত উন্নত জাতিতে পরিণত হতে চাই। বাঙালি জাতি বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াবেই। আর এ কাজে আমাদের মূল শক্তি শিক্ষা ও আমাদের নতুন প্রজন্ম।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়তে সোনার মানুষ চেয়েছিলেন। আজকের প্রজন্মই ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে। এই শিক্ষার্থীরা সেই সোনার মানুষ, সেই সোনার টুকরা। তারাই সোনার বাংলা গড়ে তুলবে।

‘দেশব্যাপী সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ ২০১৬’ প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত জাতীয় পর্যায়ের সেরা ১২ জন এবং ২০১৫ সালের নির্বাচিত সেরা ১২ জন মেধাবীর হাতে পুরস্কার তুলে দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার যানজট নিরসনে ৭ নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ভবিষ্যৎ সত্যিই উজ্জ্বল: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১২:৫৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মে ২০১৬

স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ‘সুপ্ত প্রতিভা’ খুঁজতে জাতীয়ভাবে আয়োজিত সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যারা পুরস্কার পেয়েছে এবং যারা এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেছেন, এরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সত্যিই উজ্জ্বল। আমি মনে করি সব থেকে মেধাবী হলো আমার দেশের ছেলেমেয়েরা। কিন্তু বিকশিত হওয়ার সুযোগ তাদের দিতে হবে।

রবিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে, শিক্ষার জন্য ব্যয় খরচ নয় বরং শিক্ষায় খরচ সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা যেনো তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে সরকারি স্কুল ও একটি করে সরকারি কলেজ করারও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বাংলাদেশকে ভিক্ষুকের দেশে পরিণত করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ২১ বছর পরে ক্ষমতায় এসে সেই ষড়যন্ত্র নির্মূল করে

আমরা একটি উন্নত সমৃদ্ধ শিক্ষিত দেশ ও জাতি গড়ে তুলছি। সোনার বাংলা গড়ার এ সংগ্রামে আমাদের মূল বিনিয়োগ হচ্ছে শিক্ষা। তাইতো ২০০৮ সালে ফের ক্ষমতায় এসে নতুন শিক্ষীনীতি প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু গড়ে তুলতে থাকেন নানামুখী কার্যক্রমে। তার কার্যক্রমের মধ্যে গুরুত্ব পেয়েছিল শিক্ষাখাত। তিনিই বলেছিলেন, ‘সুষ্ঠু সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষাখাতে পুঁজি বিনিয়োগের চাইতে উৎকৃষ্ট বিনিয়োগ আর কিছু হতে পারে না’। শিক্ষায় বিনিয়োগ যে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ, তাও আমাদের শিখিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু।

তিনি বলেন, ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত অর্জন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষ হতদরিদ্র ছিল, তাদের মুখে ভাত ছিল না, পরনে কাপড় ছিল না। নিজের অপরিসীম ত্যাগ দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ বাঙালি জাতিকে স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ এনে দেন, তিনি জাতিকে এ দুঃসহ অবস্থা থেকে মুক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বারবার আঘাত এসেছে, আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাঙালি জাতি। তাই বঙ্গবন্ধুর সেই অমর বাণী, বাঙালি জাতিকে দাবায়ে রাখতে পারবে না- সেটিও সত্যে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার পর মাত্র তিন বছরে শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশই গড়ে তোলেননি জাতির পিতা, একটি সংবিধানও উপহার দিয়েছিলেন। সেই সংবিধানে শিক্ষাকে গুরুত্ব দেন তিনি। প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও জাতীয়করণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ভিক্ষুক জাতিতে পরিণত হতে চাই না। আমরা সুশিক্ষিত উন্নত জাতিতে পরিণত হতে চাই। বাঙালি জাতি বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াবেই। আর এ কাজে আমাদের মূল শক্তি শিক্ষা ও আমাদের নতুন প্রজন্ম।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়তে সোনার মানুষ চেয়েছিলেন। আজকের প্রজন্মই ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে। এই শিক্ষার্থীরা সেই সোনার মানুষ, সেই সোনার টুকরা। তারাই সোনার বাংলা গড়ে তুলবে।

‘দেশব্যাপী সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ ২০১৬’ প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত জাতীয় পর্যায়ের সেরা ১২ জন এবং ২০১৫ সালের নির্বাচিত সেরা ১২ জন মেধাবীর হাতে পুরস্কার তুলে দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।