,

image-552831-1652990422

রাস্তা প্রশস্তে নিজেরাই ভাঙলেন বাড়ি

 হাওর বার্তা ডেস্কঃ ৩০ ফুটের সড়কটির কোথাও ১০ ফুট আবার কোথাও ৫ ফুট। পাশাপাশি দু’টি রিক্সা চলাচলের   জায়গাও নেই।দিনের পর দিন, বছরের পর বছর বাসাবাড়ি, দোকান পাট ও অবৈধ স্থাপনার দখলে ছিলো সড়কটি ।

সড়কটি সচল ও চওড়া করতে এবার বাসিন্দারা নিজেরাই উদ্যোগ নিলেন। নিজেদের দখলে থাকা রাস্তার জায়গা ছেড়ে দিলেন। নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিলেন দোকান পাটসহ সব অবৈধ স্থাপনা।
কোনো উচ্ছেদ কিংবা অভিযানে নয়, নিজ উদ্যোগে রাস্তার জায়গা ছেড়ে দিয়ে নজির স্থাপন করলেন  রাজধানাীর পল্লবীর ১২ নম্বর ডি ব্লকের শতাধিক বাড়ির মালিক।

সড়ক প্রশস্থকরনের জন্য তাদের এই উদ্যোগ অন্যদের কাছে দৃষ্টান্ত  হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন  সুশীল সমাজসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

বুধ ও বৃহস্পতিবার পল্লবীর ১২ নম্বর ডি ব্লকে গিয়ে দেখা যায়, এভিনিউ ২, ২৫, ২৭, ২৯ ও ৩১ নম্বর সড়কের মধ্যবর্তী সংযোগ সড়কটির দু’পাশের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছেন শতাধিক বাড়ির মালিক। অবৈধ স্থাপনা ভাঙ্গার জন্য তারা শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছেন। এসব অবৈধ স্থাপনার মধ্যে রয়েছে দোকান পাট, গ্যারেজ, সিঁড়ি ও  বসবাসের কক্ষ। এতদিন ৩০ ফিটের এ সড়কটির ৯০ ভাগই অবৈধ স্থাপনার দখলে ছিলো।

জানা গেছে,  ১৪ মে  স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ ও ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাজ্জাদ হোসেন সড়কটি  পরিদর্শনে এসে  সংস্কারসহ প্রশস্থকরনের ঘোষণা দেন। এরপর গত ৫  দিন শতাধিক বাড়ির মালিক কয়েকশ অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে  নেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ডি ব্লক বাড়ির মালিক উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হোসনে আরা বেগম বলেন, আমাদের আশপাশের সব রাস্তা বড় হয়ে গেছে। সংস্কারের অভাবে আমাদের মহল্লার সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন বেহাল ছিলো। আমরা নিজেরাই চিন্তা করেছি রাস্তা বড় হওয়া দরকার। এ জন্য নিজ উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছি। কোন উচ্ছেদ কিংবা অভিযানের দরকার হয়নি।

স্থানীয় বাড়ির মালিক ফজলু শেখ বলেন, সড়কটি মহল্লার প্রধান সড়ক। এটি  ৪০ বছর দখলে ছিলো। দু’টি রিক্সা একসাথে চলতে পারতো না। আমার বাড়ির সিঁড়ির কিছু অংশ পড়েছে। আমি তা ভেঙ্গে ফেলেছি।  অনেকে রুম বানিয়ে ভাড়া দিয়েছে। সবাই  ভোগ দখল করেছে। আর কত। এবার রাস্তার জন্য নিজেরাই জায়গা ছেড়ে দিলাম।

ডিএনসিসি’র ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাজ্জাদ হোসেন বলেন,  ১২ নম্বর ডি ব্লকের বাড়ির মালিকরা নিজ উদ্যোগে রাস্তার  জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন। কোন উচ্ছেদের দরকার হয়নি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি অনেক খুশি। এটি ইতিবাচক ও অন্যদের জন্য অনুকরনীয় বটে।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর