ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জে মা-দুই মেয়ে হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় আদালতে চার্জশিট

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মে ২০২২
  • ৩৪৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মানিকগঞ্জের ঘিওরে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে গলা কেটে হত্যা মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (৯ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে গলা কাটা হত্যা মামলার অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঘিওর থানা পুলিশ।

মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সোমবার বিকেলের দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যায়, সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘিওর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র (ধারালো দা) ও রক্তমাখা জামা কাপড় জব্দ করার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে হত্যার সঙ্গে জড়িত আসাদুজ্জামান ওরফে রুবেলকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়। এর পর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ঘিওর থানায় লাভলীর বাবা সাইজুদ্দিন বাদী হয়ে মামলা করেন। এ ঘটনায় গ্রেফতার আসামি আসাদুজ্জামান ওরফে রুবেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালত কর্তৃক রেকর্ড করা হয়।

১২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করাসহ মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে মামলার ঘটনায় মৃত লাভলী আক্তার (৩৯), মৃত লাজলী আক্তার ছোয়া (১৬) ও মৃত ইহা মনি কথার (১২) ময়না তদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, আসামি আসাদুজ্জামান ওরফে রুবেল (৪০) নানান ধরনের ঋণে জর্জরিত ছিলেন। স্ত্রী-কন্যাদের নিয়ে সংসার চালানো ও ঋণ পরিশোধের চিন্তায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটান। মামলা দায়েরের পর ঘিওর থানা উপ পুলিশ পরিদর্শক বেলাল হোসেন মামলাটি তদন্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সোমবার বিকেলে আদালতে ন্যায় বিচারের স্বার্থে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে আসাদুজ্জামান ওরফে রুবেল (৪২) গত রোববার ভোর রাতে ঘুমিয়ে থাকা নিজ স্ত্রী ও দুই মেয়েকে প্রথমে দা দিয়ে আঘাত করে। এর পর বালিশ চাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর ধারালো অস্ত্র (দা) দিয়ে স্ত্রী লাভলী, বড় মেয়ে লাজলী ও ছোট মেয়ে ইহা মনি কথার গলা কেটে ফেলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মানিকগঞ্জে মা-দুই মেয়ে হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় আদালতে চার্জশিট

আপডেট টাইম : ০২:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মে ২০২২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মানিকগঞ্জের ঘিওরে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে গলা কেটে হত্যা মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (৯ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে গলা কাটা হত্যা মামলার অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঘিওর থানা পুলিশ।

মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সোমবার বিকেলের দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যায়, সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘিওর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র (ধারালো দা) ও রক্তমাখা জামা কাপড় জব্দ করার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে হত্যার সঙ্গে জড়িত আসাদুজ্জামান ওরফে রুবেলকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়। এর পর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ঘিওর থানায় লাভলীর বাবা সাইজুদ্দিন বাদী হয়ে মামলা করেন। এ ঘটনায় গ্রেফতার আসামি আসাদুজ্জামান ওরফে রুবেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালত কর্তৃক রেকর্ড করা হয়।

১২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করাসহ মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে মামলার ঘটনায় মৃত লাভলী আক্তার (৩৯), মৃত লাজলী আক্তার ছোয়া (১৬) ও মৃত ইহা মনি কথার (১২) ময়না তদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, আসামি আসাদুজ্জামান ওরফে রুবেল (৪০) নানান ধরনের ঋণে জর্জরিত ছিলেন। স্ত্রী-কন্যাদের নিয়ে সংসার চালানো ও ঋণ পরিশোধের চিন্তায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটান। মামলা দায়েরের পর ঘিওর থানা উপ পুলিশ পরিদর্শক বেলাল হোসেন মামলাটি তদন্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সোমবার বিকেলে আদালতে ন্যায় বিচারের স্বার্থে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে আসাদুজ্জামান ওরফে রুবেল (৪২) গত রোববার ভোর রাতে ঘুমিয়ে থাকা নিজ স্ত্রী ও দুই মেয়েকে প্রথমে দা দিয়ে আঘাত করে। এর পর বালিশ চাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর ধারালো অস্ত্র (দা) দিয়ে স্ত্রী লাভলী, বড় মেয়ে লাজলী ও ছোট মেয়ে ইহা মনি কথার গলা কেটে ফেলেন।