ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাঁস পালনে মাসুদের প্রতি মাসে আয় ৮০ হাজার টাকা!

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৫৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ মার্চ ২০২২
  • ১৯৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা দিয়ে বয়ে গেছে যমুনার শাখা কালিঞ্জা নদী। এ নদীর উন্মুক্ত পানিতে ঘুরে বেড়ায় ঝাঁকে ঝাঁকে হাঁস। আর এ হাঁসই বেকার মাসুদ রানা নামে এক যুবকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। তরুণ এ উদ্যোক্তা মাসুদ রানা উপজেলার ভদ্রঘাট ইউপির চর-গাড়াবাড়ী গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে পরিবারের অভাব অনটণ ছিলো নিত্যসঙ্গী। সংসার চালাতে হাঁসের বাচ্চা মাথায় নিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে বিক্রি করতো। তাতে পরিবারের সংসার চালানো কষ্ট হতো। অভাব অনটন থেকে বাঁচতে ব্যাংক থেকে অল্প কিছু ঋণ নিয়ে নিজেই গড়ে তোলেন হাঁসের খামার।

নিজের ও ব্যাংকের ৫০ হাজার টাকায় শুরু করেন ভাগ্য পরিবর্তনের লড়াই। প্রথমে ৬০০ হাঁসের বাচ্চা ক্রয় করেন। ধীরে ধীরে বাচ্চাগুলো বড় হয়ে পাঁচ মাস পরই ডিম দেয়া শুরু করে। এভাবে দেড় ১ বছরে ৭০ হাজার টাকার ডিম ও হাঁস বিক্রি করেন। এতে তার মোট খরচ হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। বর্তমানে তার খামারে হাঁস রয়েছে একহাজার হাঁস। প্রতি মাসে ডিম ও হাঁস বিক্রি করে আয় করেন ৭০-৮০ হাজার টাকা।

মাসুদ রানা জানান, হাঁস পালনের প্রশিক্ষণ নিয়ে দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে নদীর পানিতে সফলতার সঙ্গে হাঁস পালন করছি। এ হাঁসের খামারে আমার ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেছে। এখন আমার ছোট ভাইকে সরকারি চাকরির জন্য ১০-১২ লাখ টাকা লাগবে না। সেই টাকা দিয়ে চাকরি না করিয়ে হাঁসের খামারের কাজে লাগাবো। সেই টাকা দিয়ে যদি খামার বাড়ানো যায় তাহলে সরকারি চাকরিজীবী ৪-৫ জন বেতনের সমান লাভ হবে।

তিনি আরো জানান, মাত্র সাড়ে চার মাস বয়সেই খাকি ক্যাম্ববেল হাঁস ডিম দিতে থাকে। একটি হাঁস বছরে ৩০০ এর বেশি ডিম দিয়ে থাকে। দেশি হাঁসের তুলনায় টানা তিন বছর পর্যন্ত খাকি ক্যাম্ববেল হাঁস ডিম পাড়ে। এ হাঁসের মাংস মুরগির মতোই পুষ্টিকর। এ হাঁস পালনে বেশি পানিরও প্রয়োজন হয় না। হাঁসের খাবার ও গলা ডোবানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানি পেলেই তারা সহজ ও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করে বেঁচে থাকতে পারে। হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে এখন এলাকার অনেকেই হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হওয়া পথে হাঁটতে শুরু করেছেন।

কৃষি নির্ভর দেশে বেকার যুবকদের হাঁস পালনের পরামর্শ দিয়ে স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, মাসুদ ভাইয়ের মতো যদি বেকার যুবকেরা লাখ লাখ টাকা নিয়ে চাকরির পেছনে না ছুটে অল্প পুঁজি নিয়ে যদি হাঁসের খামার পালন শুরু করেন তাহলে একদিকে যেমন বেকার সমস্যা দূর হবে অন্যদিকে বাংলাদেশ আর্থিকভাবে দেশ লাভবান হবেন। দৈনিক একহাজার হাঁসের খাদ্যের জন্য সর্বোচ্চ ২৬ টাকা খরচ এবং দুইজন শ্রমিকের একহাজার টাকার মতো খরচ হয়।

একহাজার হাঁসের মধ্যে দৈনিক সর্বনিম্ন ৮০০ থেকে ৮৫০ হাঁস ডিম দেয়, পাইকারি দরে ১০ টাকা করে ডিম বিক্রি করলে ৮ হাজার ৫০০ টাকা হয়। সব মিলিয়ে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা খরচ হয় এবং ডিম ও হাঁস বিক্রি হয় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়েও ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভ হয়। কামারখন্দ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. আব্দুল হাই জানান, হাঁস পালনের প্রতিনিয়ত খামারের খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। ভাসমান পদ্ধতিতে হাঁস পালনে খরচ অনেকটাই কম হয়। লাভ তুলনামূলক অনেক বেশি।

তথ্যসূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

হাঁস পালনে মাসুদের প্রতি মাসে আয় ৮০ হাজার টাকা!

আপডেট টাইম : ০৪:৫৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ মার্চ ২০২২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা দিয়ে বয়ে গেছে যমুনার শাখা কালিঞ্জা নদী। এ নদীর উন্মুক্ত পানিতে ঘুরে বেড়ায় ঝাঁকে ঝাঁকে হাঁস। আর এ হাঁসই বেকার মাসুদ রানা নামে এক যুবকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। তরুণ এ উদ্যোক্তা মাসুদ রানা উপজেলার ভদ্রঘাট ইউপির চর-গাড়াবাড়ী গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে পরিবারের অভাব অনটণ ছিলো নিত্যসঙ্গী। সংসার চালাতে হাঁসের বাচ্চা মাথায় নিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে বিক্রি করতো। তাতে পরিবারের সংসার চালানো কষ্ট হতো। অভাব অনটন থেকে বাঁচতে ব্যাংক থেকে অল্প কিছু ঋণ নিয়ে নিজেই গড়ে তোলেন হাঁসের খামার।

নিজের ও ব্যাংকের ৫০ হাজার টাকায় শুরু করেন ভাগ্য পরিবর্তনের লড়াই। প্রথমে ৬০০ হাঁসের বাচ্চা ক্রয় করেন। ধীরে ধীরে বাচ্চাগুলো বড় হয়ে পাঁচ মাস পরই ডিম দেয়া শুরু করে। এভাবে দেড় ১ বছরে ৭০ হাজার টাকার ডিম ও হাঁস বিক্রি করেন। এতে তার মোট খরচ হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। বর্তমানে তার খামারে হাঁস রয়েছে একহাজার হাঁস। প্রতি মাসে ডিম ও হাঁস বিক্রি করে আয় করেন ৭০-৮০ হাজার টাকা।

মাসুদ রানা জানান, হাঁস পালনের প্রশিক্ষণ নিয়ে দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে নদীর পানিতে সফলতার সঙ্গে হাঁস পালন করছি। এ হাঁসের খামারে আমার ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেছে। এখন আমার ছোট ভাইকে সরকারি চাকরির জন্য ১০-১২ লাখ টাকা লাগবে না। সেই টাকা দিয়ে চাকরি না করিয়ে হাঁসের খামারের কাজে লাগাবো। সেই টাকা দিয়ে যদি খামার বাড়ানো যায় তাহলে সরকারি চাকরিজীবী ৪-৫ জন বেতনের সমান লাভ হবে।

তিনি আরো জানান, মাত্র সাড়ে চার মাস বয়সেই খাকি ক্যাম্ববেল হাঁস ডিম দিতে থাকে। একটি হাঁস বছরে ৩০০ এর বেশি ডিম দিয়ে থাকে। দেশি হাঁসের তুলনায় টানা তিন বছর পর্যন্ত খাকি ক্যাম্ববেল হাঁস ডিম পাড়ে। এ হাঁসের মাংস মুরগির মতোই পুষ্টিকর। এ হাঁস পালনে বেশি পানিরও প্রয়োজন হয় না। হাঁসের খাবার ও গলা ডোবানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানি পেলেই তারা সহজ ও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করে বেঁচে থাকতে পারে। হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে এখন এলাকার অনেকেই হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হওয়া পথে হাঁটতে শুরু করেছেন।

কৃষি নির্ভর দেশে বেকার যুবকদের হাঁস পালনের পরামর্শ দিয়ে স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, মাসুদ ভাইয়ের মতো যদি বেকার যুবকেরা লাখ লাখ টাকা নিয়ে চাকরির পেছনে না ছুটে অল্প পুঁজি নিয়ে যদি হাঁসের খামার পালন শুরু করেন তাহলে একদিকে যেমন বেকার সমস্যা দূর হবে অন্যদিকে বাংলাদেশ আর্থিকভাবে দেশ লাভবান হবেন। দৈনিক একহাজার হাঁসের খাদ্যের জন্য সর্বোচ্চ ২৬ টাকা খরচ এবং দুইজন শ্রমিকের একহাজার টাকার মতো খরচ হয়।

একহাজার হাঁসের মধ্যে দৈনিক সর্বনিম্ন ৮০০ থেকে ৮৫০ হাঁস ডিম দেয়, পাইকারি দরে ১০ টাকা করে ডিম বিক্রি করলে ৮ হাজার ৫০০ টাকা হয়। সব মিলিয়ে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা খরচ হয় এবং ডিম ও হাঁস বিক্রি হয় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়েও ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভ হয়। কামারখন্দ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. আব্দুল হাই জানান, হাঁস পালনের প্রতিনিয়ত খামারের খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। ভাসমান পদ্ধতিতে হাঁস পালনে খরচ অনেকটাই কম হয়। লাভ তুলনামূলক অনেক বেশি।

তথ্যসূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ।