ঢাকা ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বারোমাসি তরমুজ চাষে মাসুদের সাফল্য, খরচ শেষে লাভ ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৮:৫১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • ২৭৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে আনারসের পাশাপাশি বারোমাসি তরমুজ চাষ শুরু হয়েছে। মাসুদ হাসান নামে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত একজন সদস্য বনাঞ্চলের ২১০ শতাংশ জমিতে নতুন প্রজাতির তরমুজ চাষ করছেন। ফলন ভালো হওয়ায় দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন তিনি।

সরেজমিনে মধুপুর উপজেলার পীরগাছা রাবার বাগান সংলগ্ন ভবানীটেকি গ্রামে দেখা গেছে, দেড় মাস আগে রোপণ করা প্রতিটি গাছে তিন-চারটা করে তরমুজ ঝুলছে। এর মধ্যে কোনোটা এক কেজি, কোনোটা সোয়া কেজি, কোনটা আবার আধা কেজির।

কয়েকটি খণ্ডে ভাগ করে আগে পরে করে তরমুজের চারা রোপণ করেছেন। বারোমাসি তরমুজের ভেতরের অংশ হলুদ রঙের। তরমুজ পরিপক্ক হয়ে বিক্রি উপযোগী হতে সময় লাগে ৫৫ থেকে ৬০ দিন। এ ধরনের তরমুজ বাজারে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জানা গেছে, মাসুদ হাসান নতুন প্রজাতির লেন ফিই এফ১ জাতের তরমুজ আবাদ করেছেন। প্রতি শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষে শ্রমিকের মজুরিসহ তার খরচ হয়েছে আড়াই হাজার টাকা। তবে প্রথমবার ফলনের পর দ্বিতীয়বার প্রতি শতাংশ জমিতে খরচ হবে এক হাজার টাকা।

মোট জমিতে তরমুজ আবাদ করতে প্রথমবার ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চাষ করা জমির তরমুজ বিক্রি হবে ১২-১৩ লাখ টাকায়। সে অনুযায়ী প্রতি শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষে লাভ হবে সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা।

রোপণ থেকে শুরু করে দুই মাসের মধ্যে তরমুজ বিক্রির উপযোগী হয়। ফলে দুই মাস পর পর তরমুজ বিক্রি করে মাসুদের কমপক্ষে ৬-৭ লাখ টাকা লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। এই জাতের তরমুজের ওজন সাধারণত সাড়ে তিন কেজি থেকে ৪ কেজি হয়ে থাকে।

তরমুজ বাগানে কাজ করা শ্রমিক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আট বিঘার মতো তরমুজ খেতে ১২ জন শ্রমিক কাজ করছি। নতুন জাতের এই তরমুজ মধুপুর বনাঞ্চলে প্রথম চাষ হচ্ছে। ফলনও ভালো হয়েছে। বর্তমানে তরমুজ বিক্রির উপযোগী হয়েছে।

স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোন্নাফ হোসেন বলেন, বনাঞ্চলে বারোমাসি তরমুজ চাষ আগে দেখিনি। বনে সাধারণত আনারসের চাষ হয়। কিন্তু নতুন জাতের এই তরমুজ গ্রামে প্রথম দেখলাম। তরমুজ খেতেও অনেক সুস্বাদু। ঘ্রাণ ও মিষ্টিতে ভরপুর এই তরমুজ।

তরমুজ চাষি মাসুদ হাসান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর নিজ জমিতে কলা, আদা ও পেঁপের চাষ শুরু করি। এর মধ্যে বিভিন্ন ও বেশি লাভজনক ফসল আবাদ করতে তরমুজ চাষকে বেছে নেই। এ জন্য ইউটিউবে সার্চ দিয়ে বনাঞ্চলে তরমুজ চাষ কিভাবে হবে এবং নতুন পদ্ধতিতে কিভাবে করা যাবে সেটা দেখি। পরে বারোমাসি এই তরমুজের বীজের খোঁজ পাই।

লাল তীর সিড লিমিটেডের বীজ নেওয়ার আগে ওই কোম্পানির লোকজন জমি পরিদর্শন করেন। পরে জমি পরীক্ষা করে তরমুজ চাষ করার উপযোগী ঘোষণা করলে ২১০ শতাংশ জমিতে বারোমাসি তরমুজ চাষ শুরু করি।

চারা উৎপাদন থেকে শুরু করে তরমুজ বিক্রি উপযোগী হতে দুই মাস সময় লাগে। অসময়ে তরমুজের চাহিদার পাশাপাশি দামও ভালো পাওয়া যাবে। ইতোমধ্যে পাইকাররা দরদাম শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে, প্রথমবারেই ৬-৭ লাখ টাকা আয় করতে পারব।

টাঙ্গাইলের কৃষি কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) মাহমুদুল হাসান বলেন, মধুপুর বনাঞ্চলে অন্যান্য আবাদের পাশাপাশি কয়েকটি গ্রামে তরমুজের চাষ শুরু হয়েছে। তরমুজ চাষে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্রঃআমাদের সময়

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বারোমাসি তরমুজ চাষে মাসুদের সাফল্য, খরচ শেষে লাভ ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা

আপডেট টাইম : ০৮:৫১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে আনারসের পাশাপাশি বারোমাসি তরমুজ চাষ শুরু হয়েছে। মাসুদ হাসান নামে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত একজন সদস্য বনাঞ্চলের ২১০ শতাংশ জমিতে নতুন প্রজাতির তরমুজ চাষ করছেন। ফলন ভালো হওয়ায় দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন তিনি।

সরেজমিনে মধুপুর উপজেলার পীরগাছা রাবার বাগান সংলগ্ন ভবানীটেকি গ্রামে দেখা গেছে, দেড় মাস আগে রোপণ করা প্রতিটি গাছে তিন-চারটা করে তরমুজ ঝুলছে। এর মধ্যে কোনোটা এক কেজি, কোনোটা সোয়া কেজি, কোনটা আবার আধা কেজির।

কয়েকটি খণ্ডে ভাগ করে আগে পরে করে তরমুজের চারা রোপণ করেছেন। বারোমাসি তরমুজের ভেতরের অংশ হলুদ রঙের। তরমুজ পরিপক্ক হয়ে বিক্রি উপযোগী হতে সময় লাগে ৫৫ থেকে ৬০ দিন। এ ধরনের তরমুজ বাজারে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জানা গেছে, মাসুদ হাসান নতুন প্রজাতির লেন ফিই এফ১ জাতের তরমুজ আবাদ করেছেন। প্রতি শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষে শ্রমিকের মজুরিসহ তার খরচ হয়েছে আড়াই হাজার টাকা। তবে প্রথমবার ফলনের পর দ্বিতীয়বার প্রতি শতাংশ জমিতে খরচ হবে এক হাজার টাকা।

মোট জমিতে তরমুজ আবাদ করতে প্রথমবার ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চাষ করা জমির তরমুজ বিক্রি হবে ১২-১৩ লাখ টাকায়। সে অনুযায়ী প্রতি শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষে লাভ হবে সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা।

রোপণ থেকে শুরু করে দুই মাসের মধ্যে তরমুজ বিক্রির উপযোগী হয়। ফলে দুই মাস পর পর তরমুজ বিক্রি করে মাসুদের কমপক্ষে ৬-৭ লাখ টাকা লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। এই জাতের তরমুজের ওজন সাধারণত সাড়ে তিন কেজি থেকে ৪ কেজি হয়ে থাকে।

তরমুজ বাগানে কাজ করা শ্রমিক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আট বিঘার মতো তরমুজ খেতে ১২ জন শ্রমিক কাজ করছি। নতুন জাতের এই তরমুজ মধুপুর বনাঞ্চলে প্রথম চাষ হচ্ছে। ফলনও ভালো হয়েছে। বর্তমানে তরমুজ বিক্রির উপযোগী হয়েছে।

স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোন্নাফ হোসেন বলেন, বনাঞ্চলে বারোমাসি তরমুজ চাষ আগে দেখিনি। বনে সাধারণত আনারসের চাষ হয়। কিন্তু নতুন জাতের এই তরমুজ গ্রামে প্রথম দেখলাম। তরমুজ খেতেও অনেক সুস্বাদু। ঘ্রাণ ও মিষ্টিতে ভরপুর এই তরমুজ।

তরমুজ চাষি মাসুদ হাসান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর নিজ জমিতে কলা, আদা ও পেঁপের চাষ শুরু করি। এর মধ্যে বিভিন্ন ও বেশি লাভজনক ফসল আবাদ করতে তরমুজ চাষকে বেছে নেই। এ জন্য ইউটিউবে সার্চ দিয়ে বনাঞ্চলে তরমুজ চাষ কিভাবে হবে এবং নতুন পদ্ধতিতে কিভাবে করা যাবে সেটা দেখি। পরে বারোমাসি এই তরমুজের বীজের খোঁজ পাই।

লাল তীর সিড লিমিটেডের বীজ নেওয়ার আগে ওই কোম্পানির লোকজন জমি পরিদর্শন করেন। পরে জমি পরীক্ষা করে তরমুজ চাষ করার উপযোগী ঘোষণা করলে ২১০ শতাংশ জমিতে বারোমাসি তরমুজ চাষ শুরু করি।

চারা উৎপাদন থেকে শুরু করে তরমুজ বিক্রি উপযোগী হতে দুই মাস সময় লাগে। অসময়ে তরমুজের চাহিদার পাশাপাশি দামও ভালো পাওয়া যাবে। ইতোমধ্যে পাইকাররা দরদাম শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে, প্রথমবারেই ৬-৭ লাখ টাকা আয় করতে পারব।

টাঙ্গাইলের কৃষি কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) মাহমুদুল হাসান বলেন, মধুপুর বনাঞ্চলে অন্যান্য আবাদের পাশাপাশি কয়েকটি গ্রামে তরমুজের চাষ শুরু হয়েছে। তরমুজ চাষে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্রঃআমাদের সময়