ঢাকা ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল রাবি ক্যাম্পাস

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৫৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • ২১৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল গোটা ক্যাম্পাস। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ৫টি ট্রাকে আগুন দিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাবি জিয়া হলের সামনের রাস্তা দিয়ে তিন শিক্ষার্থী মোটরসাইকেলে শহীদ হবিবুর হলের দিকে যাচ্ছিলেন। বিপরীত দিক দিয়ে আসা পাথর বোঝায় ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী মাহবুব হাবিব হিমেল। অন্য দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।

মাহবুব হাবিব হিমেল নিহতের খবর শুনে সহপাঠীরা ঘটনাস্থলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঘটনার প্রতিবাদে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন। নিহত মাহবুব চারুকলা অনুষদের ২০১৬-১৭ বর্ষের ছাত্র।

শিক্ষার্থী নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীরা নির্মাণাধীন ভবনে জড়ো হন। একপর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা নির্মাণ কাজে নিয়েজিত ৫টি ট্রাকে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে পুরো এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ট্রাকের টায়ার বাস্ট হলে বিকট শব্দ হয়। পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. সুলতান উল ইসলামসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যবৃন্দ। তারা বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত্ব করা চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। শিক্ষার্থীরা পৃথক মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরা ভাংচুর করে ও টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। পরে উপাচার্যে রবাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন তারা।

এদিকে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের পুলিশ শান্ত্ব করার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক পুলিশ সদস্যকে ক্যাম্পাসের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। পরে পুলিশ ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান নেয়।

ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ: বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক দুই ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে রাস্তার দুই পাশে তীব্র যানজট তৈরি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ থেকে সরে এসে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।

মতিহার থানার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, একজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। অন্য দুইজন শিক্ষার্থীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা খুবই খারাপ। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে বিক্ষোভ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, হবিবুর হলের সামনে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থীর প্রাণ হারিয়েছে। অপর দুই শিক্ষার্থীকে রামেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত শিক্ষার্থীর ময়না তদন্তের মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। শিক্ষার্থীদের শান্ত্ব করা চেষ্টা করছি।  তারা যেন সহিংস আন্দোলনে না যায়।

রাবি  উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির বলেন, এক মোটরসাইকেলে তিন শিক্ষার্থী ছিল। একজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। অন্য দুজন গুরুতর আহত। তাদেরকে রামেকে ভর্তি করা হয়েছে। উপাচার্য বলেন, ক্যাম্পাসের ভেতর এমন দুর্ঘটনা অপ্রত্যাশিত। এতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার প্রচণ্ড ব্যথিত। সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

এক শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল রাবি ক্যাম্পাস

আপডেট টাইম : ০৯:৫৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল গোটা ক্যাম্পাস। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ৫টি ট্রাকে আগুন দিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাবি জিয়া হলের সামনের রাস্তা দিয়ে তিন শিক্ষার্থী মোটরসাইকেলে শহীদ হবিবুর হলের দিকে যাচ্ছিলেন। বিপরীত দিক দিয়ে আসা পাথর বোঝায় ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী মাহবুব হাবিব হিমেল। অন্য দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।

মাহবুব হাবিব হিমেল নিহতের খবর শুনে সহপাঠীরা ঘটনাস্থলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঘটনার প্রতিবাদে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন। নিহত মাহবুব চারুকলা অনুষদের ২০১৬-১৭ বর্ষের ছাত্র।

শিক্ষার্থী নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীরা নির্মাণাধীন ভবনে জড়ো হন। একপর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা নির্মাণ কাজে নিয়েজিত ৫টি ট্রাকে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে পুরো এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ট্রাকের টায়ার বাস্ট হলে বিকট শব্দ হয়। পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. সুলতান উল ইসলামসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যবৃন্দ। তারা বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত্ব করা চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। শিক্ষার্থীরা পৃথক মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরা ভাংচুর করে ও টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। পরে উপাচার্যে রবাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন তারা।

এদিকে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের পুলিশ শান্ত্ব করার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক পুলিশ সদস্যকে ক্যাম্পাসের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। পরে পুলিশ ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান নেয়।

ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ: বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক দুই ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে রাস্তার দুই পাশে তীব্র যানজট তৈরি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ থেকে সরে এসে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।

মতিহার থানার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, একজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। অন্য দুইজন শিক্ষার্থীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা খুবই খারাপ। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে বিক্ষোভ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, হবিবুর হলের সামনে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থীর প্রাণ হারিয়েছে। অপর দুই শিক্ষার্থীকে রামেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত শিক্ষার্থীর ময়না তদন্তের মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। শিক্ষার্থীদের শান্ত্ব করা চেষ্টা করছি।  তারা যেন সহিংস আন্দোলনে না যায়।

রাবি  উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির বলেন, এক মোটরসাইকেলে তিন শিক্ষার্থী ছিল। একজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। অন্য দুজন গুরুতর আহত। তাদেরকে রামেকে ভর্তি করা হয়েছে। উপাচার্য বলেন, ক্যাম্পাসের ভেতর এমন দুর্ঘটনা অপ্রত্যাশিত। এতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার প্রচণ্ড ব্যথিত। সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করছি।