ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজারো মামলার জটে আটকা শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

ইউটিউব দেখে গাঁজার কেক বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করত তারা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:০৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১
  • ২২৭ বার

 

হাওর বার্তা ডেস্কঃ জীবনে অনেক কেকের নাম শুনলেও ‘গাঁজার কেক’-এর নাম কখনো শোনা হয়নি। গাঁজার কেক দেখতে একেবারে ব্রাউনি কেকের মতোই। খেতেও প্রায় এক। খালি চোখে দেখে বোঝার উপায় নেই, এটার সঙ্গে আসলে কী মেশানো আছে।

গাঁজার নির্যাস থেকে বানানো মাদক এটি। গাঁজার এই কেক তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করতেন রাজধানীর তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী।

গত বুধবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও পল্টন এলাকা থেকে ৩০ পিস গাঁজার কেকসহ তাদের গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনাল টিম।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—কাফিল ওয়ারা রাফিদ, কাজী রিসালাত হোসেন ও সাইফুল ইসলাম সাইফ। কাফিল আমেরিকান ইন্টরন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এ কম্পিউন্টার সায়েন্স, রিসালাত ধানমন্ডির অ্যাডভান্সড প্রফেশনালস-এর এসিসিএ এবং সাইফ পড়ছে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ-ইউডার চারুকলায়।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, তারা তিন জনই মাদকাসক্ত। অন্যান্য মাদকের পাশাপাশি তারা নিয়মিত গাঁজা সেবন করে আসছে। বছর দেড়েক আগে ইউটিউবে দেখে তারা গাঁজার কেক বানানো শিখেছে। প্রথমে নিজেরা খেলেও পরে বন্ধুদের মধ্যেও এর ব্যপক চাহিদা তৈরি হয়। ব্যবসাটা শুরু করে তখনই।

রাফিদ ও রিসালাত জানিয়েছে, প্রতি পিস গাঁজার কেক তারা ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করতো। প্রথম দিকে কাছের বন্ধুদের কাছে বিক্রি করলেও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ক্লোজ গ্রুপ তৈরি করে সেখানে বিক্রি করা শুরু করে। অর্ডার দিলে কখনও নিজে বা কখনও ডেলিভারিম্যানদের মাধ্যমে এসব মাদক পাঠানো হতো।

ডিবি জানায়, গাঁজার পাতা থেকে তরল নির্যাস বের করে তৈরি হয় এ কেক এবং অন্য সাধারণ কেকের মতোই খাওয়া যায়। এ কেক যারা খায় তারা বলছে, সিগারেটের খোসায় গাঁজা ভরে সেবনের চাইতে গাঁজার পাতার নির্যাসে তৈরি কেকে কয়েকগুণ বেশি আসক্তি হয় এবং খাওয়ার পর এর প্রতিক্রিয়া শুধু ভয়ঙ্করই নয়, মারাত্মক ক্ষতিকরও বটে।

রমনা জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মিশু বিশ্বাস বলেন, গ্রেফতার তিনজনই মাদকাসক্ত। তাদের দুজন নিজ নিজ বাসায় গাঁজার নির্যাস দিয়ে কেক তৈরি করে বিক্রি করতো। একজন এসব কেক ডেলিভারি করতো।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুর থানার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সাত দিনের রিমান্ড চান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির রমনা জোনের এসআই জুলহাস উদ্দিন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. শাহিনুর রহমান আসামিদের দু’দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

ইউটিউব দেখে গাঁজার কেক বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করত তারা

আপডেট টাইম : ০২:০৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১

 

হাওর বার্তা ডেস্কঃ জীবনে অনেক কেকের নাম শুনলেও ‘গাঁজার কেক’-এর নাম কখনো শোনা হয়নি। গাঁজার কেক দেখতে একেবারে ব্রাউনি কেকের মতোই। খেতেও প্রায় এক। খালি চোখে দেখে বোঝার উপায় নেই, এটার সঙ্গে আসলে কী মেশানো আছে।

গাঁজার নির্যাস থেকে বানানো মাদক এটি। গাঁজার এই কেক তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করতেন রাজধানীর তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী।

গত বুধবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও পল্টন এলাকা থেকে ৩০ পিস গাঁজার কেকসহ তাদের গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনাল টিম।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—কাফিল ওয়ারা রাফিদ, কাজী রিসালাত হোসেন ও সাইফুল ইসলাম সাইফ। কাফিল আমেরিকান ইন্টরন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এ কম্পিউন্টার সায়েন্স, রিসালাত ধানমন্ডির অ্যাডভান্সড প্রফেশনালস-এর এসিসিএ এবং সাইফ পড়ছে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ-ইউডার চারুকলায়।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, তারা তিন জনই মাদকাসক্ত। অন্যান্য মাদকের পাশাপাশি তারা নিয়মিত গাঁজা সেবন করে আসছে। বছর দেড়েক আগে ইউটিউবে দেখে তারা গাঁজার কেক বানানো শিখেছে। প্রথমে নিজেরা খেলেও পরে বন্ধুদের মধ্যেও এর ব্যপক চাহিদা তৈরি হয়। ব্যবসাটা শুরু করে তখনই।

রাফিদ ও রিসালাত জানিয়েছে, প্রতি পিস গাঁজার কেক তারা ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করতো। প্রথম দিকে কাছের বন্ধুদের কাছে বিক্রি করলেও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ক্লোজ গ্রুপ তৈরি করে সেখানে বিক্রি করা শুরু করে। অর্ডার দিলে কখনও নিজে বা কখনও ডেলিভারিম্যানদের মাধ্যমে এসব মাদক পাঠানো হতো।

ডিবি জানায়, গাঁজার পাতা থেকে তরল নির্যাস বের করে তৈরি হয় এ কেক এবং অন্য সাধারণ কেকের মতোই খাওয়া যায়। এ কেক যারা খায় তারা বলছে, সিগারেটের খোসায় গাঁজা ভরে সেবনের চাইতে গাঁজার পাতার নির্যাসে তৈরি কেকে কয়েকগুণ বেশি আসক্তি হয় এবং খাওয়ার পর এর প্রতিক্রিয়া শুধু ভয়ঙ্করই নয়, মারাত্মক ক্ষতিকরও বটে।

রমনা জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মিশু বিশ্বাস বলেন, গ্রেফতার তিনজনই মাদকাসক্ত। তাদের দুজন নিজ নিজ বাসায় গাঁজার নির্যাস দিয়ে কেক তৈরি করে বিক্রি করতো। একজন এসব কেক ডেলিভারি করতো।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুর থানার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সাত দিনের রিমান্ড চান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির রমনা জোনের এসআই জুলহাস উদ্দিন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. শাহিনুর রহমান আসামিদের দু’দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।