,

06

দ্বীপরাষ্ট্র পাপুয়া নিউ গিনির মুসলিমরা যেভাবে রমজান কাটান

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ওশেনিয়া মহাদেশের একটি দ্বীপরাষ্ট্র পাপুয়া নিউ গিনি। ১৯৭৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ধারণা করা হয়, ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের সঙ্গে সঙ্গে পাপুয়া নিউ গিনিতেও ইসলামের আগমন হয়। তবে সে সময় ইসলাম কতটা বিস্তৃতি লাভ করে তা জানা যায় না। এরপর উনিশ শতকে নিউ গিনিতে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে ইসলামের প্রচার ও প্রসার শুরু হয়।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মুসলিম কর্মীদের নিউ গিনিতে নিয়োগ দেওয়া হলে তাদের মাধ্যমে ইসলামের সঙ্গে পরিচিত হয় এই দ্বীপের মানুষ। ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা লাভের পর প্রথম আদমশুমারি অনুযায়ী পাপুয়া নিউ গিনিতে মুসলিম ছিল মাত্র ১২০ জন। স্বাধীনতা লাভের পর সেখানে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কূটনৈতিক ও ব্যবসায়ী এবং ভারতীয় উপমহাদেশের তাবলিগ জামাতের প্রচেষ্টায় ইসলামের প্রসার ঘটে। ১৯৯০ সালে পাপুয়া নিউ গিনিতে মুসলমানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৮০ জনে। ২০০০ সালে এক হাজার। বর্তমানে সেখানে মুসলমানের সংখ্যা পাঁচ হাজার। ইসলামই পাপুয়া নিউ গিনির সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারণশীল ধর্ম। পাপুয়া নিউ গিনিতে ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ইসলামিক সোসাইটি অব পাপুয়া নিউ গিনি’। এই সংগঠনের মাধ্যমে স্থানীয় মুসলিম সমাজের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

১৯৮৪ সালে পাপুয়া নিউ গিনির রাজধানী মোর্সাবিতে প্রথম ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সেন্টারের অধীনে রয়েছে একটি মসজিদ, একটি মাদরাসা, একটি লাইব্রেরি ও একটি চিকিৎসাকেন্দ্র। এ ছাড়া পাপুয়া নিউ গিনিতে রয়েছে আরো ১৫টি ইসলামিক সেন্টার। বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠিত সেন্টারগুলোর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় যারা সহযোগিতা করে আসছে তাদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরবের বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং রাবেতা আল আলম আল ইসলামী।

পাপুয়া নিউ গিনি একটি মিশ্র জাতিসত্তার দেশ। সেখানে মুসলিমরাও মিশ্র জাতিসত্তার অধিকারী। তাই রমজানে পাপুয়া নিউ গিনিতে বিশেষ কোনো সংস্কৃতির প্রভাব চোখে পড়ে না। ইফতার-সাহরিতে তাদের স্থানীয় খাবারই পছন্দ। তবে প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার কিছুটা প্রভাব দেখা যায়।

পাপুয়া নিউ গিনির মুসলিমরা রমজানকে ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও ইসলাম প্রচারের মাস মনে করে। রমজানে তারা দলবদ্ধ হয়ে মসজিদে অবস্থান করে ইসলামী জ্ঞান চর্চা করে। রমজানে প্রতিটি ইসলামিক সেন্টারে এক বা একাধিক ইসলাম প্রচারক ও শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁরা সমবেত মুসলিমদের ইসলামের মৌলিক শিক্ষা প্রদান করেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। ইসলামিক সোসাইটির অধীনেই এসব বিশেষজ্ঞ শিক্ষক নির্বাচন ও নিয়োগ সম্পন্ন হয়।

ইসলামিক সেন্টারগুলোতে নিয়োগপ্রাপ্ত ইসলামিক স্কলাররা রমজানে পাপুয়া নিউ গিনির মুসলিমদের ধর্মীয় বিধি-বিধান শেখানোর পাশাপাশি ইসলাম প্রচারেরও কাজ করেন। সেন্টারে সমবেত মুসলিমদের ইসলাম প্রচারের কৌশল, শিষ্টাচার ও রাষ্ট্রীয় বিধি-নিষেধ শেখান। অতঃপর তাঁরা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে যান। তাঁরা ইসলাম সম্পর্কিত বই-পুস্তক ও পোস্টার বিলি করেন। ইসলাম সম্পর্কে জানতে ইসলামিক সেন্টারে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।

রমজানে ইসলামী শিক্ষা ও ইসলাম প্রচার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করাকে পাপুয়া নিউ গিনির মুসলিমরা নিজেদের জন্য আবশ্যক মনে করেন। প্রায় প্রত্যেক মুসলিমই কমবেশি কিছু সময় মসজিদে অতিবাহিত করেন। সব মিলিয়ে পাপুয়া নিউ গিনির মাটিতে ইসলামের আলো বিচ্ছুরিত হয় পবিত্র রমজানে।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর