ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তাড়াশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রি, বরাদ্দ পাওয়া অনেকেই থাকেন না রঙিন কাপড়ে ঝোলের পুরনো দাগ উঠবে মাত্র ৫ মিনিটে দুই মাসে ৪০০ টন পণ্য পরিবহন করেছে ‘স্পিড পোস্ট’ প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলেই ব্যাপক কর্মযজ্ঞ মেঘলাকে ধাক্কা দেওয়া গাড়ি ও চালক আটক, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বার্তা দিল দূতাবাস চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লং মার্চ’ শুরু বলিভিয়ায় সামরিকঘাঁটিতে বিস্ফোরণে ১০ জন নিহত, আহত ৫৮ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী পুলিশ অফিসারদের চিহ্নিত করা হয়েছে: আইজিপি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী স্কয়ার হাসপাতালে

কোরিয়ান সিনেমায় যেভাবে নায়ক হলেন বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক মাহবুব

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৮:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ এপ্রিল ২০২১
  • ২৪৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ১৯৯৯ সালে প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়া যান মাহবুব লি। শুরুর দিকে প্রবাসীদের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরি করা শুরু করেন। পরে ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়েন বড়পর্দার সিনেমার অভিনেতা হিসেবে। অভিনেতা হিসেবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মর্যাদাপূর্ণ পুরষ্কারও পান তিনি। এখন পর্যন্ত ১৫টির মত কোরিয়ান নাটক, সিনেমা ও বিজ্ঞাপনে অভিনয় করা মাহবুবের গল্প শুনুন তার মুখেই। -বিবিসি বাংলা

তিনি বলেন, আমি দক্ষিণ কোরিয়ায় আসি প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে। পরিকল্পনা ছিল দুই থেকে তিন বছর থাকব। তারপর দেশে চলে যাব। কখনও চিন্তা করিনি যে, এরকম পরিবর্তন আসবে বা আমি এরকম কাজ করতে পারব। প্রথমেই আমি প্রবাসী শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধের জন্য ট্রেড ইউনিয়নের সাথে জড়িত হবার চেষ্টা করি। তাদের সমস্যা তুলে ধরে সমাধানের চেষ্টা করি। দুর্ভাগ্যবশত এটা সহজ ছিল না। কারণ আমরা যতই ৠালি করি বা আন্দোলন করি সেটা স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচার হতো না। তখন ‍আমরা প্লান করি যে, কেনো আমরা নিজস্ব মিডিয়া তৈরি করছি না। তাই ২০০৪ সাল থেকে আমি বিভিন্ন প্রবাসীদের তথ্যচিত্র তৈরি শুরু করি। প্রবাসীদের দুর্দশা তুলে ধরে শর্ট ফিল্ম তৈরি করি। শর্ট ফিল্মের নাম ছিল দ্য রোড অব দ্য রিভেঞ্জ। যেখানে প্রবাসী শ্রমিকরা কাজ করছে কিন্তু তাদের সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। একধরনের ব্লাক কমেডি ছিল এটি।

মাহবুব এভাবে ২০০৮ সালে কোরিয়ান ভাষায় নির্মিত বড় পর্দায় কাজ শুরু করেন। বান্ধবী ছবির নায়ক হিসেবে। পরিচালক তাকে চিনতেন। কারণ তিনি এপেশায় দীর্ঘদিন কাজ করছেন। পরিচালক তাকে একটি কাজ দেন। পরিচালক একজন নায়ক খুজছিলেন। যিনি হ্যান্ডসাম, কোরিয়ান ভাষায় অনর্গল কথা বলতে সক্ষম এবং ভিসা সমস্যা নেই। তো আমি পরিচালককে বললাম যে, নায়কের অভিনয়টা আমি করলে কেমন হয়? পরিচালক আমাকে ডেকে বললেন, আমি জানি তুমি সুদর্শন, কোরিয়ান ভাষা জানো। তোমার ভিসাগত কোনো সমস্যা নেই। তবে একটা কাজ করতে হবে। কাজটি হলো তোমার ওজন কমাতে হবে। দেড় মাসে ১৩ কেজি ওজন কমাতে হয়। জেনজু আন্তর্জাতিক উৎসবে ছবিটি দুটি পুরস্কারও পায়। যার ফলে মিডিয়ায় ফলাও হয়, এই কালো চামড়া এখানে কেন? দেশে যাও। কিছু থ্রেট কলও পাই যার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। রেসিজম সর্বত্রই আছে। সেজন্য আমি আমার মত করে নিয়েছি। আমি এ পর্যন্ত ১৫টি ছবি, শর্ট ফিল্ম ও বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছি বলে জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তাড়াশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রি, বরাদ্দ পাওয়া অনেকেই থাকেন না

কোরিয়ান সিনেমায় যেভাবে নায়ক হলেন বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক মাহবুব

আপডেট টাইম : ০৮:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ এপ্রিল ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ১৯৯৯ সালে প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়া যান মাহবুব লি। শুরুর দিকে প্রবাসীদের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরি করা শুরু করেন। পরে ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়েন বড়পর্দার সিনেমার অভিনেতা হিসেবে। অভিনেতা হিসেবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মর্যাদাপূর্ণ পুরষ্কারও পান তিনি। এখন পর্যন্ত ১৫টির মত কোরিয়ান নাটক, সিনেমা ও বিজ্ঞাপনে অভিনয় করা মাহবুবের গল্প শুনুন তার মুখেই। -বিবিসি বাংলা

তিনি বলেন, আমি দক্ষিণ কোরিয়ায় আসি প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে। পরিকল্পনা ছিল দুই থেকে তিন বছর থাকব। তারপর দেশে চলে যাব। কখনও চিন্তা করিনি যে, এরকম পরিবর্তন আসবে বা আমি এরকম কাজ করতে পারব। প্রথমেই আমি প্রবাসী শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধের জন্য ট্রেড ইউনিয়নের সাথে জড়িত হবার চেষ্টা করি। তাদের সমস্যা তুলে ধরে সমাধানের চেষ্টা করি। দুর্ভাগ্যবশত এটা সহজ ছিল না। কারণ আমরা যতই ৠালি করি বা আন্দোলন করি সেটা স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচার হতো না। তখন ‍আমরা প্লান করি যে, কেনো আমরা নিজস্ব মিডিয়া তৈরি করছি না। তাই ২০০৪ সাল থেকে আমি বিভিন্ন প্রবাসীদের তথ্যচিত্র তৈরি শুরু করি। প্রবাসীদের দুর্দশা তুলে ধরে শর্ট ফিল্ম তৈরি করি। শর্ট ফিল্মের নাম ছিল দ্য রোড অব দ্য রিভেঞ্জ। যেখানে প্রবাসী শ্রমিকরা কাজ করছে কিন্তু তাদের সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। একধরনের ব্লাক কমেডি ছিল এটি।

মাহবুব এভাবে ২০০৮ সালে কোরিয়ান ভাষায় নির্মিত বড় পর্দায় কাজ শুরু করেন। বান্ধবী ছবির নায়ক হিসেবে। পরিচালক তাকে চিনতেন। কারণ তিনি এপেশায় দীর্ঘদিন কাজ করছেন। পরিচালক তাকে একটি কাজ দেন। পরিচালক একজন নায়ক খুজছিলেন। যিনি হ্যান্ডসাম, কোরিয়ান ভাষায় অনর্গল কথা বলতে সক্ষম এবং ভিসা সমস্যা নেই। তো আমি পরিচালককে বললাম যে, নায়কের অভিনয়টা আমি করলে কেমন হয়? পরিচালক আমাকে ডেকে বললেন, আমি জানি তুমি সুদর্শন, কোরিয়ান ভাষা জানো। তোমার ভিসাগত কোনো সমস্যা নেই। তবে একটা কাজ করতে হবে। কাজটি হলো তোমার ওজন কমাতে হবে। দেড় মাসে ১৩ কেজি ওজন কমাতে হয়। জেনজু আন্তর্জাতিক উৎসবে ছবিটি দুটি পুরস্কারও পায়। যার ফলে মিডিয়ায় ফলাও হয়, এই কালো চামড়া এখানে কেন? দেশে যাও। কিছু থ্রেট কলও পাই যার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। রেসিজম সর্বত্রই আছে। সেজন্য আমি আমার মত করে নিয়েছি। আমি এ পর্যন্ত ১৫টি ছবি, শর্ট ফিল্ম ও বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছি বলে জানান তিনি।