ঢাকা ০১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুল-কলেজ খুলবে কবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৫০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১
  • ২২২ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনার কথা বিবেচনায় এনে আগেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে স্কুল খোলার চিন্তা করা হয়েছিল। এই চিন্তা কতটুকু বাস্তবায়ন করা যাবে বা আদৌ বাস্তবায়ন সম্ভব কি না, তা নিয়ে এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সব শ্রেণির সব শিক্ষার্থীকে স্কুলে আনার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার।

চলতি মাসের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এরপর এই ছুটি বাড়বে কি না—এ নিয়ে বিভিন্ন মহলেও নানা মত তৈরি হয়েছে। যারা পুরোপুরি স্কুল খোলার সপক্ষে জোরালো যুক্তি দিচ্ছেন, তাদের একটি অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব রয়েছেন। একটি অতি উত্সাহী গ্রুপ শিক্ষার বিভিন্ন দপ্তরের নাম উল্লেখ করে বিভ্রান্তিও ছড়াচ্ছে। অধিদপ্তর বলছে, এটা অপপ্রচার। স্কুল খোলার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আগেভাগেই সবাইকে অবহিত করা হবে। তার আগে সব স্তরের স্টেক হোল্ডারের সঙ্গে বৈঠক করে মতামত নেওয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সব সিদ্ধান্ত আসবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এরপর কী হবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুকও বলেন, ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। স্কুল-কলেজ খোলা হবে বলে একটি গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে আগামী জুন মাসে এসএসসি এবং জুলাই-আগস্ট মাসে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। তবে এর আগে এসএসসি ও এইচএসসি স্তরের শিক্ষার্থীদের সিলেবাস পুনর্বিন্যস্ত করা হচ্ছে। এসব শিক্ষার্থীর জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকেরা চাইছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য। বিশেষ করে ব্যাসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর জন্য তারা একপ্রকার মরিয়া। স্কুল না খোলার কারণে কোথাও কোথাও শিক্ষার্থী ভর্তির হার শূন্যের কোঠায় পর্যন্ত নেমে গেছে।

এসব প্রতিষ্ঠান খোলার জন্য মালিকেরা সরকারের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অভিভাবকদের মধ্যেও রয়েছে দ্বিমত। অভিভাবকদের একটি অংশ চাইছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করা হোক। আর একটি অংশ চাইছে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের হার শূন্যের কোঠায় না এলে স্কুল চালু করা ঠিক হবে না।

আবার সম্প্রতি ইউনিসেফ বলেছে, করোনার কারণে স্কুলের কার্যক্রম আরো এক বছর ব্যাহত হলে সেই ক্ষতির ভার শিশুরা আর বইতে পারবে না। কেউ কেউ বলছেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছুই অনেকটা স্বাভাবিকভাবেই চলছে। এমনকি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না গেলেও নিয়মিতই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন।

ড. জসীম উদ্দিন নামে এক শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। পড়াশোনায় ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়ছে তারা। এ কারণে আমরা সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে চাই। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও। স্বাস্থ্যঝুঁকির চেয়ে পড়াশোনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া ঠিক হবে না। তাই এ বিষয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দাবির প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে বাস্তবতা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এই শিক্ষক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুল-কলেজ খুলবে কবে

আপডেট টাইম : ০৯:৫০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনার কথা বিবেচনায় এনে আগেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে স্কুল খোলার চিন্তা করা হয়েছিল। এই চিন্তা কতটুকু বাস্তবায়ন করা যাবে বা আদৌ বাস্তবায়ন সম্ভব কি না, তা নিয়ে এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সব শ্রেণির সব শিক্ষার্থীকে স্কুলে আনার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার।

চলতি মাসের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এরপর এই ছুটি বাড়বে কি না—এ নিয়ে বিভিন্ন মহলেও নানা মত তৈরি হয়েছে। যারা পুরোপুরি স্কুল খোলার সপক্ষে জোরালো যুক্তি দিচ্ছেন, তাদের একটি অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব রয়েছেন। একটি অতি উত্সাহী গ্রুপ শিক্ষার বিভিন্ন দপ্তরের নাম উল্লেখ করে বিভ্রান্তিও ছড়াচ্ছে। অধিদপ্তর বলছে, এটা অপপ্রচার। স্কুল খোলার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আগেভাগেই সবাইকে অবহিত করা হবে। তার আগে সব স্তরের স্টেক হোল্ডারের সঙ্গে বৈঠক করে মতামত নেওয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সব সিদ্ধান্ত আসবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এরপর কী হবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুকও বলেন, ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। স্কুল-কলেজ খোলা হবে বলে একটি গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে আগামী জুন মাসে এসএসসি এবং জুলাই-আগস্ট মাসে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। তবে এর আগে এসএসসি ও এইচএসসি স্তরের শিক্ষার্থীদের সিলেবাস পুনর্বিন্যস্ত করা হচ্ছে। এসব শিক্ষার্থীর জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকেরা চাইছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য। বিশেষ করে ব্যাসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর জন্য তারা একপ্রকার মরিয়া। স্কুল না খোলার কারণে কোথাও কোথাও শিক্ষার্থী ভর্তির হার শূন্যের কোঠায় পর্যন্ত নেমে গেছে।

এসব প্রতিষ্ঠান খোলার জন্য মালিকেরা সরকারের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অভিভাবকদের মধ্যেও রয়েছে দ্বিমত। অভিভাবকদের একটি অংশ চাইছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করা হোক। আর একটি অংশ চাইছে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের হার শূন্যের কোঠায় না এলে স্কুল চালু করা ঠিক হবে না।

আবার সম্প্রতি ইউনিসেফ বলেছে, করোনার কারণে স্কুলের কার্যক্রম আরো এক বছর ব্যাহত হলে সেই ক্ষতির ভার শিশুরা আর বইতে পারবে না। কেউ কেউ বলছেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছুই অনেকটা স্বাভাবিকভাবেই চলছে। এমনকি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না গেলেও নিয়মিতই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন।

ড. জসীম উদ্দিন নামে এক শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। পড়াশোনায় ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়ছে তারা। এ কারণে আমরা সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে চাই। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও। স্বাস্থ্যঝুঁকির চেয়ে পড়াশোনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া ঠিক হবে না। তাই এ বিষয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দাবির প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে বাস্তবতা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এই শিক্ষক।