ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তাড়াশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রি, বরাদ্দ পাওয়া অনেকেই থাকেন না রঙিন কাপড়ে ঝোলের পুরনো দাগ উঠবে মাত্র ৫ মিনিটে দুই মাসে ৪০০ টন পণ্য পরিবহন করেছে ‘স্পিড পোস্ট’ প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলেই ব্যাপক কর্মযজ্ঞ মেঘলাকে ধাক্কা দেওয়া গাড়ি ও চালক আটক, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বার্তা দিল দূতাবাস চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লং মার্চ’ শুরু বলিভিয়ায় সামরিকঘাঁটিতে বিস্ফোরণে ১০ জন নিহত, আহত ৫৮ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী পুলিশ অফিসারদের চিহ্নিত করা হয়েছে: আইজিপি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী স্কয়ার হাসপাতালে

তাপস ও সাঈদ খোকনের মধ্যেকার দ্বন্দ্বকে অরাজনৈতিক হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১
  • ২৩০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের  পাশাপাশি এ পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।

তাপস এবং খোকন দুইজনই আওয়ামী লীগের নেতা। ফজলে নূর তাপস আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন এবং এর আগে তিনি ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। সাঈদ খোকনও আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

দলের এ দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব ও বাকবিতণ্ডা আওয়ামী লীগের জন্য বিব্রতকর বলে মনে করেন দলের নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে দলের নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও এটিকে রাজনৈতিকভাবে দেখতে চাচ্ছেন না নেতারা। পাশাপাশি পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেও মনে করছেন তারা।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, বিষয়টি বিব্রতকর ও উদ্বেগের। তবে গভীর উদ্বেগের বিষয় নয়। এটাকে রাজনৈতিকভাবে দেখার কিছু নেই। এটা উন্নয়নগত বিষয় নিয়ে হয়েছে। পরিস্থিতি এক সময় স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কারণ খোকনের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে সেটা প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত বলে তাপস মন্তব্য করেছেন।

মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গত ১১ জানুয়ারি সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন নামে দু’টি মামলার আবেদন করা হয়েছে। আবেদন দু’টির করেছেন কাজী আনিসুর রহমান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারওয়ার আলম।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট এলাকার কদম ফোয়ারার সামনে ফুলবাড়িয়া মার্কেট উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সাঈদ খোকন বলেছিলেন, তাপস ডিএসসিসি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গলাবাজি করে চলেছেন। আমি তাকে বলবো, রাঘববোয়ালের মুখে চুনোপুঁটির গল্প মানায় না। কেননা দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে হলে সর্বপ্রথম তার নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। অথচ তিনি উল্টো কাজ করছেন।

এর পর গত ১০ জানুয়ারি তাপস বলেন, কেউ যদি ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে কিছু বলে থাকেন, সেটার জবাব আমি দায়িত্বশীল পদে থেকে দেওয়াটা সমীচীন মনে করি না। উনার ব্যক্তিগত অভিমত এটার কোনো গুরুত্ব বহন করে না। তার অভিযোগ নিচ্ছকই ভ্রান্ত এর বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। যদি কেউ উৎকোচ, ঘুষ গ্রহণ করে কমিশন বাণিজ্য করে সরকারি কাজ পাইয়ের দেওয়ার জন্য কমিশন বাণিজ্য করে বা সরকারি প্রভাব কাজে লাগিয়ে অর্থ আত্মসাত করে তাহলে দুনীতি হয়। যে অভিযোগ আনা হয়েছে কোনোভাবেই তা বস্তুনিষ্ঠ না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান বাংলানিউজকে বলেন, বর্তমান মেয়র ও সাবেক মেয়রের যে সমস্যা সেটা রাজনৈতিক নয়। এটা উন্নয়নগত বিষয়, এটাকে রাজনীতিতে না জড়ানোই ভালো। তবে যেহেতু দুইজনই আওয়ামী লীগ করেন, তাই তাদের উচিত হবে আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতা আছেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করে ফেলা। আর সেটা না হলে আইনিভাবে সমাধান হতে পারে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, পরিস্থিতি মনে হচ্ছে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। যেহেতু তারা দুইজনই আওয়ামী লীগের। তাই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আছে। কিন্তু বিষয়টিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তাড়াশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রি, বরাদ্দ পাওয়া অনেকেই থাকেন না

তাপস ও সাঈদ খোকনের মধ্যেকার দ্বন্দ্বকে অরাজনৈতিক হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ

আপডেট টাইম : ১২:০৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের  পাশাপাশি এ পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।

তাপস এবং খোকন দুইজনই আওয়ামী লীগের নেতা। ফজলে নূর তাপস আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন এবং এর আগে তিনি ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। সাঈদ খোকনও আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

দলের এ দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব ও বাকবিতণ্ডা আওয়ামী লীগের জন্য বিব্রতকর বলে মনে করেন দলের নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে দলের নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও এটিকে রাজনৈতিকভাবে দেখতে চাচ্ছেন না নেতারা। পাশাপাশি পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেও মনে করছেন তারা।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, বিষয়টি বিব্রতকর ও উদ্বেগের। তবে গভীর উদ্বেগের বিষয় নয়। এটাকে রাজনৈতিকভাবে দেখার কিছু নেই। এটা উন্নয়নগত বিষয় নিয়ে হয়েছে। পরিস্থিতি এক সময় স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কারণ খোকনের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে সেটা প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত বলে তাপস মন্তব্য করেছেন।

মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গত ১১ জানুয়ারি সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন নামে দু’টি মামলার আবেদন করা হয়েছে। আবেদন দু’টির করেছেন কাজী আনিসুর রহমান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারওয়ার আলম।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট এলাকার কদম ফোয়ারার সামনে ফুলবাড়িয়া মার্কেট উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সাঈদ খোকন বলেছিলেন, তাপস ডিএসসিসি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গলাবাজি করে চলেছেন। আমি তাকে বলবো, রাঘববোয়ালের মুখে চুনোপুঁটির গল্প মানায় না। কেননা দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে হলে সর্বপ্রথম তার নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। অথচ তিনি উল্টো কাজ করছেন।

এর পর গত ১০ জানুয়ারি তাপস বলেন, কেউ যদি ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে কিছু বলে থাকেন, সেটার জবাব আমি দায়িত্বশীল পদে থেকে দেওয়াটা সমীচীন মনে করি না। উনার ব্যক্তিগত অভিমত এটার কোনো গুরুত্ব বহন করে না। তার অভিযোগ নিচ্ছকই ভ্রান্ত এর বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। যদি কেউ উৎকোচ, ঘুষ গ্রহণ করে কমিশন বাণিজ্য করে সরকারি কাজ পাইয়ের দেওয়ার জন্য কমিশন বাণিজ্য করে বা সরকারি প্রভাব কাজে লাগিয়ে অর্থ আত্মসাত করে তাহলে দুনীতি হয়। যে অভিযোগ আনা হয়েছে কোনোভাবেই তা বস্তুনিষ্ঠ না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান বাংলানিউজকে বলেন, বর্তমান মেয়র ও সাবেক মেয়রের যে সমস্যা সেটা রাজনৈতিক নয়। এটা উন্নয়নগত বিষয়, এটাকে রাজনীতিতে না জড়ানোই ভালো। তবে যেহেতু দুইজনই আওয়ামী লীগ করেন, তাই তাদের উচিত হবে আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতা আছেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করে ফেলা। আর সেটা না হলে আইনিভাবে সমাধান হতে পারে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, পরিস্থিতি মনে হচ্ছে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। যেহেতু তারা দুইজনই আওয়ামী লীগের। তাই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আছে। কিন্তু বিষয়টিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।