ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তাড়াশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রি, বরাদ্দ পাওয়া অনেকেই থাকেন না রঙিন কাপড়ে ঝোলের পুরনো দাগ উঠবে মাত্র ৫ মিনিটে দুই মাসে ৪০০ টন পণ্য পরিবহন করেছে ‘স্পিড পোস্ট’ প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলেই ব্যাপক কর্মযজ্ঞ মেঘলাকে ধাক্কা দেওয়া গাড়ি ও চালক আটক, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বার্তা দিল দূতাবাস চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লং মার্চ’ শুরু বলিভিয়ায় সামরিকঘাঁটিতে বিস্ফোরণে ১০ জন নিহত, আহত ৫৮ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী পুলিশ অফিসারদের চিহ্নিত করা হয়েছে: আইজিপি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী স্কয়ার হাসপাতালে

অভিনেতা রাজীবকে হারানোর ১৬ বছর আজ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২০
  • ২৪১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ তিনি ছিলেন একজন প্যাকেজ অভিনেতা। সিনেমায় তার উপস্থিতি মানেই দর্শকের বাড়তি আগ্রহ। কখনো কখনো নায়ক-নায়িকাকে ছাপিয়ে তিনি ভিলেন চরিত্র নিয়েই হয়ে উঠতেন সিনেমার মূল আকর্ষণ।

ভয়ংকর ভিলেন, কমেডিয়ান, বড় ভাই, স্নেহশীল বাবা; তাকে পাওয়া গেছে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে সফল অভিনেতা হিসেবে। ভরাট কণ্ঠ ছিল তার শক্তি। সাবলীল অভিনয় তার অহংকার। তিনি অভিনেতা রাজীব।

ঢাকাই সিনেমায় বাঘের মতোই দাপট ছিল তার। সে যেমন পর্দায়, তেমনি বাস্তবে৷ আজ এই কিংবদন্তি অভিনেতার মৃত্যুবার্ষিকী। ক্যান্সারের কাছে পরাজিত হয়ে ২০০৪ সালের ১৪ নভেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।

রাজীব নেই ১৬ বছর হয়ে গেল। কিন্তু আজও দর্শকের হৃদয়ে তিনি উজ্জ্বল। তাকে মিস করেন সিনেমায়। নতুন প্রজন্মের কাছেও রাজীব এক আক্ষেপের নাম। টিভি কিংবা ইউটিউবসহ নানা মাধ্যমে রাজীব অভিনীত সিনেমা দেখে তারা অনুভব করেন শক্তিমান এক অভিনেতার শূন্যতা।

পর্দায় তার নাম রাজীব। পারিবারিক নাম ওয়াসিমুল বারী রাজীব। ভাষা আনদোলনের বছর ১৯৫২ সালে ১ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন পটুয়াখালী জেলার দুমকিতে। সেখানেই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর।

পেশাজীবন শুরু করেন তিতাস গ্যাস কোম্পানিতে। শখ ছিল অভিনয়ে। জড়িয়েছিলেন মঞ্চ নাটকে। চমৎকার উচ্চারণ ও ভরাট কণ্ঠের প্র্যাকটিস তিনি মঞ্চেই করেছেন। মঞ্চ থেকে কাজ করেছেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে।

তবে রাজীবের ভাগ্য নির্ধারিত ছিলো সিনেমায়। তিনি ঢালিউডে নায়ক হয়ে পা রাখেন ১৯৮১ সালে ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’ ছবিতে। নায়ক হয়ে তার খ্যাতি আসে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘খোকনসোনা’ ছবিতে। ‘দাবি’ নামের আরও একটি ছবিতে নায়ক ছিলেন।

তবে সিনেমায় রাজীবের উত্থান বা সাফল্যের গল্পটা ভিলেন হিসেবে। খলনায়ক হিসেবে রাজীবের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো– দাঙ্গা, চাঁদাবাজ, ভাত দে, ত্রাস, লুটতরাজ, জবরদখল, মীরজাফর, মিথ্যার রাজা, নবাব সিরাজউদ্দৌলা, স্বপ্নের পৃথিবী, বিক্ষোভ, বিদ্রোহী সন্তান ইত্যাদি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে। সেগুলো হলো-হীরামতি (১৯৮৮), দাঙ্গা (১৯৯১), বিদ্রোহ চারিদিকে (২০০০), সাহসী মানুষ চাই (২০০৩)। এছাড়া চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পুরস্কার পেয়েছেন।

তবে অভিনেতা রাজীবের ক্যারিয়ারের দারুণ প্রাপ্তি বলা যায় বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা। তিনি ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা না হয়েও উচ্চপদস্থ এই পদে আসীন হওয়া প্রথম ব্যক্তি।

অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনাতেও নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম ফ্রেন্ডস মুভিজ।

ব্যক্তিজীবনে তিন পুত্রের জনক ছিলেন রাজীব। তার মধ্যে দুই ছেলে ১৯৯৬ সালে বন্যা দুর্গত মানুষদের দেখতে যাবার পথে পানিতে ডুবে একসঙ্গে মারা যায়। দীপ্ত নামে আরেক পুত্র এখন দেশেই আছেন। বিয়ে করেছেন। কাজ করছেন একটি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির কর্মকর্তা হিসেবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তাড়াশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রি, বরাদ্দ পাওয়া অনেকেই থাকেন না

অভিনেতা রাজীবকে হারানোর ১৬ বছর আজ

আপডেট টাইম : ১১:০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ তিনি ছিলেন একজন প্যাকেজ অভিনেতা। সিনেমায় তার উপস্থিতি মানেই দর্শকের বাড়তি আগ্রহ। কখনো কখনো নায়ক-নায়িকাকে ছাপিয়ে তিনি ভিলেন চরিত্র নিয়েই হয়ে উঠতেন সিনেমার মূল আকর্ষণ।

ভয়ংকর ভিলেন, কমেডিয়ান, বড় ভাই, স্নেহশীল বাবা; তাকে পাওয়া গেছে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে সফল অভিনেতা হিসেবে। ভরাট কণ্ঠ ছিল তার শক্তি। সাবলীল অভিনয় তার অহংকার। তিনি অভিনেতা রাজীব।

ঢাকাই সিনেমায় বাঘের মতোই দাপট ছিল তার। সে যেমন পর্দায়, তেমনি বাস্তবে৷ আজ এই কিংবদন্তি অভিনেতার মৃত্যুবার্ষিকী। ক্যান্সারের কাছে পরাজিত হয়ে ২০০৪ সালের ১৪ নভেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।

রাজীব নেই ১৬ বছর হয়ে গেল। কিন্তু আজও দর্শকের হৃদয়ে তিনি উজ্জ্বল। তাকে মিস করেন সিনেমায়। নতুন প্রজন্মের কাছেও রাজীব এক আক্ষেপের নাম। টিভি কিংবা ইউটিউবসহ নানা মাধ্যমে রাজীব অভিনীত সিনেমা দেখে তারা অনুভব করেন শক্তিমান এক অভিনেতার শূন্যতা।

পর্দায় তার নাম রাজীব। পারিবারিক নাম ওয়াসিমুল বারী রাজীব। ভাষা আনদোলনের বছর ১৯৫২ সালে ১ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন পটুয়াখালী জেলার দুমকিতে। সেখানেই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর।

পেশাজীবন শুরু করেন তিতাস গ্যাস কোম্পানিতে। শখ ছিল অভিনয়ে। জড়িয়েছিলেন মঞ্চ নাটকে। চমৎকার উচ্চারণ ও ভরাট কণ্ঠের প্র্যাকটিস তিনি মঞ্চেই করেছেন। মঞ্চ থেকে কাজ করেছেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে।

তবে রাজীবের ভাগ্য নির্ধারিত ছিলো সিনেমায়। তিনি ঢালিউডে নায়ক হয়ে পা রাখেন ১৯৮১ সালে ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’ ছবিতে। নায়ক হয়ে তার খ্যাতি আসে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘খোকনসোনা’ ছবিতে। ‘দাবি’ নামের আরও একটি ছবিতে নায়ক ছিলেন।

তবে সিনেমায় রাজীবের উত্থান বা সাফল্যের গল্পটা ভিলেন হিসেবে। খলনায়ক হিসেবে রাজীবের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো– দাঙ্গা, চাঁদাবাজ, ভাত দে, ত্রাস, লুটতরাজ, জবরদখল, মীরজাফর, মিথ্যার রাজা, নবাব সিরাজউদ্দৌলা, স্বপ্নের পৃথিবী, বিক্ষোভ, বিদ্রোহী সন্তান ইত্যাদি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে। সেগুলো হলো-হীরামতি (১৯৮৮), দাঙ্গা (১৯৯১), বিদ্রোহ চারিদিকে (২০০০), সাহসী মানুষ চাই (২০০৩)। এছাড়া চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পুরস্কার পেয়েছেন।

তবে অভিনেতা রাজীবের ক্যারিয়ারের দারুণ প্রাপ্তি বলা যায় বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা। তিনি ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা না হয়েও উচ্চপদস্থ এই পদে আসীন হওয়া প্রথম ব্যক্তি।

অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনাতেও নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম ফ্রেন্ডস মুভিজ।

ব্যক্তিজীবনে তিন পুত্রের জনক ছিলেন রাজীব। তার মধ্যে দুই ছেলে ১৯৯৬ সালে বন্যা দুর্গত মানুষদের দেখতে যাবার পথে পানিতে ডুবে একসঙ্গে মারা যায়। দীপ্ত নামে আরেক পুত্র এখন দেশেই আছেন। বিয়ে করেছেন। কাজ করছেন একটি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির কর্মকর্তা হিসেবে।