ঢাকা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

মারাত্মক আট রোগের মহৌষধ বৃষ্টির পানি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২০
  • ২৭২ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বর্ষা মানেই যখন তখন ঝুম বৃষ্টি। তাইতো এও মৌসুমে সুস্থ থাকাটা একটু কস্তুর হয়ে পড়ে। কারণ বর্ষা মানেই পেটের রোগ, হাঁচি, কাশি, সর্দি, জ্বর। এমনটাই ভেবে থাকেন সবাই। কিন্তু জানেন কি, এই বর্ষাই হয়ে উঠতে পারে রোগমুক্তির ঋতু! নিশ্চয়ই ভাবছেন কীভাবে? চলুন জেনে নেয়া যাক বিস্তারিত-

বিজ্ঞানীদের একটা বড় অংশ বলছেন, বৃষ্টির পানি পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ পানি।

অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণা রিপোর্টের দাবি, বৃষ্টির পানি পান করা সবচেয়ে নিরাপদ। মাটি বা পাথরে থাকা মিনারেলস আর বর্জ্য, বৃষ্টির পানিতে থাকে না। সেকারণেই বৃষ্টির পানি পানে অনেক উপকারিতা দেখছেন বিজ্ঞানীরা। এক নজরে দেখে নেয়া যাক বৃষ্টির পানি কী কী রোগের মহৌষধ-

হজমশক্তি বাড়ায়

বৃষ্টির পানিতে থাকে অ্যালকালাইন পিএইচ যা অ্যাসিডিটি কমায়, হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

রাসায়নিক মুক্ত পানি

ট্যাপের পানি জীবাণুমুক্ত করতে ক্লোরিন ব্যবহার করা হয়। আর ফ্লোরাইড আসে মাটির নিচ থেকে। বেশি মাত্রায় ক্লোরিন বা ফ্লোরাইড পেটে গেলে গ্যাসট্রাইটিস, মাথাব্যথার মতো সমস্যা বাড়ে। বৃষ্টির পানিতে ফ্লোরাইড বা ক্লোরিন, কোনোটিই থাকে না।

ক্যান্সার বিরোধী

বৃষ্টির পানিতে থাকা অ্যালকালাইন পিএইচ ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রুখে দেয়। ক্যান্সার রোগীদেরে ক্ষেত্রে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে বৃষ্টির পানি।

পাকস্থলীর সমস্যা দূর করে

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ২ থেকে ৩ চামচ বৃষ্টির পানি খাওয়া ভালো। পাকস্থলীতে অ্যাসিডিটি বা আলসার থাকলে বৃষ্টির পানি ওষুধের কাজ করে।

বৃষ্টির পানি সুন্দর চুল করে

কোনো মিনারেলস না থাকায়, বৃষ্টির পানি অত্যন্ত কোমল। এই পানিতে মাথা ধুতে পারলে শ্যাম্পু বা সাবানের চেয়েও ভালো কাজ দেয়।

ত্বকের পক্ষে উপকারী

বৃষ্টিতে ভিজলেই অসুখ- এটা পুরনো ধারণা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সুন্দর সুস্থ ত্বক পেতে হলে, বৃষ্টির পানি অত্যন্ত উপযোগী। সুগন্ধি সাবানে থাকে অ্যাসিডিক পিএইচ যা ত্বককে রুক্ষ ও প্রাণহীন করে দেয়। বৃষ্টির পানিতে এসব কিছু নেই।

জ্বালা ও ব্যাকটেরিয়া নাশক

বৃষ্টির পানি কোষে জমে থাকা খারাপ ব্যাকটেরিয়াকে সাফ করে দেয়। ত্বকের জ্বালাও দূর হয়। তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৃষ্টি দেখে আর ঘরে বসে থাকা নয়। প্রাণ ভরে ভিজুন। বৃষ্টির পানি পান করুন।

বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করবেন যেভাবে

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করার জন্য বড় আকারের পাত্র বা ড্রাম নিন। সেক্ষেত্রে ভালো মানের প্লাস্টিকের বিভিন্ন আকারের ড্রাম কাজে লাগানো যেতে পারে। ড্রামের মুখ নেট ও ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন, যাতে মশা, কীটপতঙ্গ বা পোষা প্রাণী দ্বারা পানি নষ্ট না হয়।

বাড়ির ছাদ যদি হয় টিনের, তাহলে তা বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করার জন্য আদর্শ। একটু খাটুনি করে টিনের চালের সঙ্গে ইউ শেপ করে টিন কেটে বসিয়ে দিন। বৃষ্টির সময় ড্রামটি ওই আদল বরাবর বসিয়ে দিন। এতে সহজে পানি ভরে নেয়া যাবে।

সংরক্ষণ ও শোধন

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রক্রিয়া (রেইন ওয়াটার কালেকশন সিস্টেম) স্থাপন করে প্রাকৃতিক এ পানি মজুদ করতে পারেন। এ প্রক্রিয়ায় মাটির নিচে একটি বড় ট্যাংক স্থাপন করা হয়। বৃষ্টি হলে পানি সরাসরি ট্যাংকে জমা হবে। এর সঙ্গে একটি ফিল্টার ও পাম্প থাকবে, যাতে আপনার চাহিদা অনুযায়ী তা বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে পারে। এ ধরনের সংরক্ষণ প্রক্রিয়া অবশ্য বেশ ব্যয়বহুল। অভিজ্ঞ লোক ডেকে এটি স্থাপন করতে হবে।

স্বল্প পানি সংরক্ষণের জন্য বালতি, বড় আকারের জার, বোতল ইত্যাদি ব্যবহার করুন। খুব কম সময়ের মধ্যে এ পানি ব্যবহার করে ফেলতে হবে। বেশি সময় এ পানি রাখা যাবে না। এতে মশা বংশবৃদ্ধি করবে। সবচেয়ে ভালো হয় দুই দিনের মধ্যে পানি ব্যবহার করে ফেললে।

সূত্র: বোল্ডস্কাই

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

মারাত্মক আট রোগের মহৌষধ বৃষ্টির পানি

আপডেট টাইম : ০৭:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বর্ষা মানেই যখন তখন ঝুম বৃষ্টি। তাইতো এও মৌসুমে সুস্থ থাকাটা একটু কস্তুর হয়ে পড়ে। কারণ বর্ষা মানেই পেটের রোগ, হাঁচি, কাশি, সর্দি, জ্বর। এমনটাই ভেবে থাকেন সবাই। কিন্তু জানেন কি, এই বর্ষাই হয়ে উঠতে পারে রোগমুক্তির ঋতু! নিশ্চয়ই ভাবছেন কীভাবে? চলুন জেনে নেয়া যাক বিস্তারিত-

বিজ্ঞানীদের একটা বড় অংশ বলছেন, বৃষ্টির পানি পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ পানি।

অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণা রিপোর্টের দাবি, বৃষ্টির পানি পান করা সবচেয়ে নিরাপদ। মাটি বা পাথরে থাকা মিনারেলস আর বর্জ্য, বৃষ্টির পানিতে থাকে না। সেকারণেই বৃষ্টির পানি পানে অনেক উপকারিতা দেখছেন বিজ্ঞানীরা। এক নজরে দেখে নেয়া যাক বৃষ্টির পানি কী কী রোগের মহৌষধ-

হজমশক্তি বাড়ায়

বৃষ্টির পানিতে থাকে অ্যালকালাইন পিএইচ যা অ্যাসিডিটি কমায়, হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

রাসায়নিক মুক্ত পানি

ট্যাপের পানি জীবাণুমুক্ত করতে ক্লোরিন ব্যবহার করা হয়। আর ফ্লোরাইড আসে মাটির নিচ থেকে। বেশি মাত্রায় ক্লোরিন বা ফ্লোরাইড পেটে গেলে গ্যাসট্রাইটিস, মাথাব্যথার মতো সমস্যা বাড়ে। বৃষ্টির পানিতে ফ্লোরাইড বা ক্লোরিন, কোনোটিই থাকে না।

ক্যান্সার বিরোধী

বৃষ্টির পানিতে থাকা অ্যালকালাইন পিএইচ ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রুখে দেয়। ক্যান্সার রোগীদেরে ক্ষেত্রে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে বৃষ্টির পানি।

পাকস্থলীর সমস্যা দূর করে

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ২ থেকে ৩ চামচ বৃষ্টির পানি খাওয়া ভালো। পাকস্থলীতে অ্যাসিডিটি বা আলসার থাকলে বৃষ্টির পানি ওষুধের কাজ করে।

বৃষ্টির পানি সুন্দর চুল করে

কোনো মিনারেলস না থাকায়, বৃষ্টির পানি অত্যন্ত কোমল। এই পানিতে মাথা ধুতে পারলে শ্যাম্পু বা সাবানের চেয়েও ভালো কাজ দেয়।

ত্বকের পক্ষে উপকারী

বৃষ্টিতে ভিজলেই অসুখ- এটা পুরনো ধারণা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সুন্দর সুস্থ ত্বক পেতে হলে, বৃষ্টির পানি অত্যন্ত উপযোগী। সুগন্ধি সাবানে থাকে অ্যাসিডিক পিএইচ যা ত্বককে রুক্ষ ও প্রাণহীন করে দেয়। বৃষ্টির পানিতে এসব কিছু নেই।

জ্বালা ও ব্যাকটেরিয়া নাশক

বৃষ্টির পানি কোষে জমে থাকা খারাপ ব্যাকটেরিয়াকে সাফ করে দেয়। ত্বকের জ্বালাও দূর হয়। তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৃষ্টি দেখে আর ঘরে বসে থাকা নয়। প্রাণ ভরে ভিজুন। বৃষ্টির পানি পান করুন।

বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করবেন যেভাবে

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করার জন্য বড় আকারের পাত্র বা ড্রাম নিন। সেক্ষেত্রে ভালো মানের প্লাস্টিকের বিভিন্ন আকারের ড্রাম কাজে লাগানো যেতে পারে। ড্রামের মুখ নেট ও ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন, যাতে মশা, কীটপতঙ্গ বা পোষা প্রাণী দ্বারা পানি নষ্ট না হয়।

বাড়ির ছাদ যদি হয় টিনের, তাহলে তা বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করার জন্য আদর্শ। একটু খাটুনি করে টিনের চালের সঙ্গে ইউ শেপ করে টিন কেটে বসিয়ে দিন। বৃষ্টির সময় ড্রামটি ওই আদল বরাবর বসিয়ে দিন। এতে সহজে পানি ভরে নেয়া যাবে।

সংরক্ষণ ও শোধন

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রক্রিয়া (রেইন ওয়াটার কালেকশন সিস্টেম) স্থাপন করে প্রাকৃতিক এ পানি মজুদ করতে পারেন। এ প্রক্রিয়ায় মাটির নিচে একটি বড় ট্যাংক স্থাপন করা হয়। বৃষ্টি হলে পানি সরাসরি ট্যাংকে জমা হবে। এর সঙ্গে একটি ফিল্টার ও পাম্প থাকবে, যাতে আপনার চাহিদা অনুযায়ী তা বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে পারে। এ ধরনের সংরক্ষণ প্রক্রিয়া অবশ্য বেশ ব্যয়বহুল। অভিজ্ঞ লোক ডেকে এটি স্থাপন করতে হবে।

স্বল্প পানি সংরক্ষণের জন্য বালতি, বড় আকারের জার, বোতল ইত্যাদি ব্যবহার করুন। খুব কম সময়ের মধ্যে এ পানি ব্যবহার করে ফেলতে হবে। বেশি সময় এ পানি রাখা যাবে না। এতে মশা বংশবৃদ্ধি করবে। সবচেয়ে ভালো হয় দুই দিনের মধ্যে পানি ব্যবহার করে ফেললে।

সূত্র: বোল্ডস্কাই