ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

পানিবন্দি হবিগঞ্জের নিম্নাঞ্চল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৪৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২০
  • ২৬৫ বার

 হাওর বার্তা ডেস্কঃ মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে হবিগঞ্জের অকাল বন্যা। পানিবন্দি হবিগঞ্জের নিম্নাঞ্চল। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা নেই জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে। টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের বিভিন্ন নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নদীগুলোর পানি উপচে জেলার পাঁচ উপজেলার ফসলি মাঠ, গ্রামীণ সড়কসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

তলিয়ে গেছে সহস্রাধিক পুকুরসহ মাছের ঘের, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, স্কুল-কলেজসহ বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এসব উপজেলার বাসিন্দাদের। বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সড়কসহ একাধিক সড়ক পানিতে তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ, লাখাই ও মাধবপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাঁচ উপজেলার বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে হাওর। এসব এলাকার অধিকাংশ রাস্তা পানির নিচে। বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সড়কটি পানিতে তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

হবিগঞ্জ-সুজাতপুর সড়কের বিশাল অংশ পানির নিচে। লাখাই, বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ ও মাধবপুর উপজেলার গ্রামীণ অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। অনেক স্থানে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, নলকূপ, ল্যাট্টিন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। হাওর এলাকায় দেখা দিয়েছে গোখাদ্যের চরম সঙ্কট। করোনার কারণে অসহায় মানুষের পাশে দেখা যাচ্ছে না কোন স্বেচ্ছাসেবীদের। করোনা মহামারিতে বন্যা যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পানিবন্দি মানুষের ভাষ্য, প্রায় প্রতি বছর চোখের সামনে সাজানো ঘরবাড়ি তছনছ করে দেয় বন্যা। বানের জলের সঙ্গে সংগ্রাম করে বাঁচতে হয় হাওরাঞ্চলের মানুষকে। অথচ তাদের দুর্ভোগ কমাতে নেই কার্যকর কোনো উদ্যোগ।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমএল সৈকত বলেন, ভারতে ভারী বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জে বন্যা দেখা দিলে হবিগঞ্জের কিছু অঞ্চলেও বন্যা দেখা দেয়। তবে ইতোমধ্যে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টি না হলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে না। কি পরিমান মানুষ পানিবন্দী হয়েছেন তার তালিকা এখনো হয়নি।

জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেলের দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, বন্যা কবলিত মানুষের সহায়তায় জেলা প্রশাসন কাজ করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এ নিয়ে স্ব-স্ব উপজেলায় কাজ করছেন। শুকনো খাবারসহ পর্যাপ্ত পরিমান ত্রাণ মজুদ রয়েছে। এরই মধ্যে বানিয়াচং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান। অসহায় জেলেদের নিরাপদে মৎস্য আহরণের জন্য লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা, আহত আরও একজন

পানিবন্দি হবিগঞ্জের নিম্নাঞ্চল

আপডেট টাইম : ০৪:৪৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২০

 হাওর বার্তা ডেস্কঃ মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে হবিগঞ্জের অকাল বন্যা। পানিবন্দি হবিগঞ্জের নিম্নাঞ্চল। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা নেই জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে। টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের বিভিন্ন নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নদীগুলোর পানি উপচে জেলার পাঁচ উপজেলার ফসলি মাঠ, গ্রামীণ সড়কসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

তলিয়ে গেছে সহস্রাধিক পুকুরসহ মাছের ঘের, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, স্কুল-কলেজসহ বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এসব উপজেলার বাসিন্দাদের। বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সড়কসহ একাধিক সড়ক পানিতে তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ, লাখাই ও মাধবপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাঁচ উপজেলার বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে হাওর। এসব এলাকার অধিকাংশ রাস্তা পানির নিচে। বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সড়কটি পানিতে তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

হবিগঞ্জ-সুজাতপুর সড়কের বিশাল অংশ পানির নিচে। লাখাই, বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ ও মাধবপুর উপজেলার গ্রামীণ অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। অনেক স্থানে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, নলকূপ, ল্যাট্টিন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। হাওর এলাকায় দেখা দিয়েছে গোখাদ্যের চরম সঙ্কট। করোনার কারণে অসহায় মানুষের পাশে দেখা যাচ্ছে না কোন স্বেচ্ছাসেবীদের। করোনা মহামারিতে বন্যা যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পানিবন্দি মানুষের ভাষ্য, প্রায় প্রতি বছর চোখের সামনে সাজানো ঘরবাড়ি তছনছ করে দেয় বন্যা। বানের জলের সঙ্গে সংগ্রাম করে বাঁচতে হয় হাওরাঞ্চলের মানুষকে। অথচ তাদের দুর্ভোগ কমাতে নেই কার্যকর কোনো উদ্যোগ।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমএল সৈকত বলেন, ভারতে ভারী বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জে বন্যা দেখা দিলে হবিগঞ্জের কিছু অঞ্চলেও বন্যা দেখা দেয়। তবে ইতোমধ্যে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টি না হলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে না। কি পরিমান মানুষ পানিবন্দী হয়েছেন তার তালিকা এখনো হয়নি।

জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেলের দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, বন্যা কবলিত মানুষের সহায়তায় জেলা প্রশাসন কাজ করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এ নিয়ে স্ব-স্ব উপজেলায় কাজ করছেন। শুকনো খাবারসহ পর্যাপ্ত পরিমান ত্রাণ মজুদ রয়েছে। এরই মধ্যে বানিয়াচং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান। অসহায় জেলেদের নিরাপদে মৎস্য আহরণের জন্য লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করা হয়।