ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করোনার প্রতিষেধক দ্রুত উদ্ভাবন ও সহজলভ্য হোক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:২৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২০
  • ২৯২ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন বা টিকা মানব শরীরের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর এবং তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক বলে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে।

প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের এই ফল প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে নামকরা সাময়িকী ল্যানসেটে। এটি সারা বিশ্বের মানুষের জন্য একটি আশাব্যঞ্জক খবর। করোনাভাইরাস বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম। রোগটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার প্রায় সাত মাস হতে চলল। ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় দেড় কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা ছয় লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

শুধু তাই নয়, করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী স্থবির হয়ে পড়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বেকার হয়ে গেছে কোটি কোটি মানুষ। বেড়েছে মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগ। এ প্রেক্ষাপটে সারা বিশ্বের মানুষ অধীর অপেক্ষায় আছে করোনাভাইরাসের একটি কার্যকর প্রতিষেধকের। সেক্ষেত্রে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফল অবশ্যই আমাদের আশাবাদী করে।

বস্তুত করোনাভাইরাসের কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে বিশ্বের দেশে দেশে বিজ্ঞানীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। অনেকে এ ব্যাপারে সাফল্যেরও দাবি করেছেন। মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক করোনার প্রতিষেধক নিয়ে কাজ করছে এবং তাদের পক্ষ থেকেও যার যার টিকা নিরাপদ বলে জানানো হয়েছে। করোনার টিকা উদ্ভাবন নিয়ে সুখবর দিয়েছে চীনও।

এ ছাড়া রাশিয়াও তাদের উদ্ভাবিত টিকাকে কার্যকর বলে দাবি করেছে এবং তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আমাদের দু-একটি প্রতিষ্ঠানও টিকা নিয়ে কাজ করছে। তবে করোনার টিকা উদ্ভাবনে বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত দৃশ্যত এগিয়ে আছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা, যদিও এটিকে পুরোপুরি নিরাপদ ঘোষণা করার জন্য আরও পরীক্ষার প্রয়োজন আছে। বলা হচ্ছে, এই ভ্যাকসিন করোনার বিরুদ্ধে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কার্যকর করে তুলতে সহায়তা করবে।

এ টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা সফল হলে অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ আশা করছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তারা করোনার টিকা ছেড়ে দিতে পারবে। ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হলে এটি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পাবে। প্রকৃতপক্ষে আমরা সেই দিনটিরই অপেক্ষায় আছি।

জনমনে প্রশ্ন রয়েছে, টিকা উদ্ভাবন হলেই কি করোনা মহামারীর অবসান হবে? বস্তুত টিকা উদ্ভাবনে সফল হলেও রোগটি পুরোপুরি দূর হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা? করোনাভাইরাসের মিউটেশনের কারণে বারবার নতুন টিকার প্রয়োজন হবে? তবে বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীদের নিরলস প্রচেষ্টায় সেটিও সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী। সবচেয়ে যা জরুরি তা হল, করোনার টিকা বাজারে আসার পর তা যেন বিশ্বের সব মানুষের জন্য সহজলভ্য হয় এবং তা দ্রুত সবার কাছে পৌঁছায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

করোনার প্রতিষেধক দ্রুত উদ্ভাবন ও সহজলভ্য হোক

আপডেট টাইম : ০৩:২৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন বা টিকা মানব শরীরের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর এবং তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক বলে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে।

প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের এই ফল প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে নামকরা সাময়িকী ল্যানসেটে। এটি সারা বিশ্বের মানুষের জন্য একটি আশাব্যঞ্জক খবর। করোনাভাইরাস বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম। রোগটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার প্রায় সাত মাস হতে চলল। ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় দেড় কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা ছয় লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

শুধু তাই নয়, করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী স্থবির হয়ে পড়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বেকার হয়ে গেছে কোটি কোটি মানুষ। বেড়েছে মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগ। এ প্রেক্ষাপটে সারা বিশ্বের মানুষ অধীর অপেক্ষায় আছে করোনাভাইরাসের একটি কার্যকর প্রতিষেধকের। সেক্ষেত্রে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফল অবশ্যই আমাদের আশাবাদী করে।

বস্তুত করোনাভাইরাসের কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে বিশ্বের দেশে দেশে বিজ্ঞানীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। অনেকে এ ব্যাপারে সাফল্যেরও দাবি করেছেন। মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক করোনার প্রতিষেধক নিয়ে কাজ করছে এবং তাদের পক্ষ থেকেও যার যার টিকা নিরাপদ বলে জানানো হয়েছে। করোনার টিকা উদ্ভাবন নিয়ে সুখবর দিয়েছে চীনও।

এ ছাড়া রাশিয়াও তাদের উদ্ভাবিত টিকাকে কার্যকর বলে দাবি করেছে এবং তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আমাদের দু-একটি প্রতিষ্ঠানও টিকা নিয়ে কাজ করছে। তবে করোনার টিকা উদ্ভাবনে বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত দৃশ্যত এগিয়ে আছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা, যদিও এটিকে পুরোপুরি নিরাপদ ঘোষণা করার জন্য আরও পরীক্ষার প্রয়োজন আছে। বলা হচ্ছে, এই ভ্যাকসিন করোনার বিরুদ্ধে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কার্যকর করে তুলতে সহায়তা করবে।

এ টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা সফল হলে অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ আশা করছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তারা করোনার টিকা ছেড়ে দিতে পারবে। ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হলে এটি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পাবে। প্রকৃতপক্ষে আমরা সেই দিনটিরই অপেক্ষায় আছি।

জনমনে প্রশ্ন রয়েছে, টিকা উদ্ভাবন হলেই কি করোনা মহামারীর অবসান হবে? বস্তুত টিকা উদ্ভাবনে সফল হলেও রোগটি পুরোপুরি দূর হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা? করোনাভাইরাসের মিউটেশনের কারণে বারবার নতুন টিকার প্রয়োজন হবে? তবে বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীদের নিরলস প্রচেষ্টায় সেটিও সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী। সবচেয়ে যা জরুরি তা হল, করোনার টিকা বাজারে আসার পর তা যেন বিশ্বের সব মানুষের জন্য সহজলভ্য হয় এবং তা দ্রুত সবার কাছে পৌঁছায়।