ঢাকা ০৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেসি সবসময়ই গোল করবে, আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চাই : কিলিয়ান এমবাপ্পে রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ব্যক্তির মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাটর্নি জেনারেল তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

দেশের সবচেয়ে বড় ‘হাজিরা খাতা’ এখন বেরোবিতে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:০৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২০
  • ২৭৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) উপাচার্য ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ’র ক্যাম্পাসে  উপস্থিতি-অনুপস্থিতি বিষয়ক ‘হাজিরা খাতা’ টানানো হয়েছে। হাজিরা খাতাটি ক্যাম্পাসের শেখ রাসেল মিডিয়া চত্ত্বরে ঝুলছে বেশ কয়েকদিন থেকে। এর দৈর্ঘ্য-৬ এবং প্রস্থ-৪ ফুট। দুটি বাঁশের খুঁটির উপর ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে হাজিরা খাতাটি। এরকম আরো একটি হাজিরা খাতা টানানো হয়েছে ক্যাম্পাসের দুই নম্বর প্রবেশ পথে। দুটি হাজিরা খাতা একই রকম এবং একই দিন টানানো হয়েছে। একটি হাজিরা খাতা চুরির পর নতুন করে আবারো এই দু’টি হাজিরা খাতা স্থাপন করা হয়েছে। রবিবার (৮ মার্চ) বেলা দুইটায় শিক্ষকদের সংগঠন ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদ’ এই বোর্ড স্থাপন করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এটিই দেশের সবচেয়ে বড় হাজিরা খাতা। দেশের অফিস-আদালত থেকে শুরু করে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানেই হাজিরা খাতার প্রচলন রয়েছে। তবে, এর চাইতে বড় হাজিরা খাতা দেশের আর কোথাও নেই বলে মনে করা হচ্ছে।

‘হাজিরা খাতা’ শীর্ষক বোর্ড দু’টিতে লেখা রয়েছে ‘বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর হাজিরা খাতা।’ এছাড়া, উপাচার্য ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ক্যাম্পাসে যোগদানের পর কতদিন উপস্থিত ছিলেন এবং কতদিন অনুপস্থিত ছিলেন প্রভৃতি বিষয় সমূহ তুলে ধরা হয়েছে। বোর্ডটিতে দেখা যায়, বিশ^বিদ্যালয়ে যোগদানের মোট ৯৯৮দিনের মধ্যে অনুপস্থিতই ছিলেন ৭৭০ দিন এবং উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২২৮দিন।

শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, উপাচার্যকে নিয়োগ দেওয়ার সময় শর্তেই উল্লেখ করা হয়েছিল তাকে ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পাস পরিচালনা করতে হবে। তিনি তার নিয়োগের শর্তই লঙ্ঘন করেছেন। তার একাডেমিক এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির বড় কারণ তার অনুপস্থিতি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৪ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের সময় রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত নিয়োগ পত্রে তাঁকে ক্যাম্পাসের প্রধান নির্বাহী হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি এই নির্দেশ উপেক্ষা করে ঢাকায় বসেই ক্যাম্পাস পরিচালনা করেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, সিন্ডিকেট মিটিংসহ গুরুত্বপূর্ণ সভা সমূহ ঢাকায় অনুষ্ঠিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ একাধিকবার এ বিষয়ে তাঁর কাছে লিখিত এবং মৌখিকভাবে জানালেও তিনি কোন তোয়াক্কা করেননি। ফলে, শিক্ষকগণ তাঁর এই কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাতে অভিনব এই কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করেন।

শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, দিনের পর দিন উপাচার্য ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকবেন এটা মেনে নেওয়া যায়না। সে কারণে আমরা এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

এদিকে, অধিকার সুরক্ষা পরিষদের এসব কর্মকাণ্ডকে ‘ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার পায়তারা’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ করেন ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ’র সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সংগঠন নব-প্রজন্ম শিক্ষক পরিষদ।

এর আগে, গত মাসের ২০ তারিখ এ হাজিরা খাতা প্রথম স্থাপন করা হয়। এরপর ২ মার্চ দিবাগত রাতে বোর্ডটি চুরি হয়। অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিব বিষয়টি রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত জানান এবং তাজহাট থানায় একটি জিডি করেন। বোর্ডটি না পাওয়ার কারণে নতুন দুটি বোর্ড টাঙানো হয়েছে বলে অধিকার সুরক্ষা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক ও ম্যানেজম্যান্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান বলেন, ‘ উপাচার্যের অনেকগুলো অনিয়ম দুর্নীতির মধ্যে বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুপস্থিতি। উপাচার্য কি পরিমাণ অনুপস্থিত থাকলে তাকে উপস্থিত রাখার জন্য একটি বোর্ড স্থাপন করা যায়! আমরা চাই উপাচার্য নিয়মিত ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পাস পরিচালনা করুক।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮০ জনেরও বেশী শিক্ষক রয়েছে। কিন্তু হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া অধিকার সুরক্ষা পরিষদের এসব কর্মসূচিতে কেইউ আসেনি। কারণ, অধিকাংশ শিক্ষকগণ পড়াশোনা, গবেষণা এবং একাডেমিক কাজকেই কাজ বলে মনে করেছেন, এসবকে নয়। তবে আমরা বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। এজন্য সবাইকে মতামত প্রকাশের সুযোগ দিয়েছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

দেশের সবচেয়ে বড় ‘হাজিরা খাতা’ এখন বেরোবিতে

আপডেট টাইম : ০৩:০৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) উপাচার্য ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ’র ক্যাম্পাসে  উপস্থিতি-অনুপস্থিতি বিষয়ক ‘হাজিরা খাতা’ টানানো হয়েছে। হাজিরা খাতাটি ক্যাম্পাসের শেখ রাসেল মিডিয়া চত্ত্বরে ঝুলছে বেশ কয়েকদিন থেকে। এর দৈর্ঘ্য-৬ এবং প্রস্থ-৪ ফুট। দুটি বাঁশের খুঁটির উপর ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে হাজিরা খাতাটি। এরকম আরো একটি হাজিরা খাতা টানানো হয়েছে ক্যাম্পাসের দুই নম্বর প্রবেশ পথে। দুটি হাজিরা খাতা একই রকম এবং একই দিন টানানো হয়েছে। একটি হাজিরা খাতা চুরির পর নতুন করে আবারো এই দু’টি হাজিরা খাতা স্থাপন করা হয়েছে। রবিবার (৮ মার্চ) বেলা দুইটায় শিক্ষকদের সংগঠন ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদ’ এই বোর্ড স্থাপন করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এটিই দেশের সবচেয়ে বড় হাজিরা খাতা। দেশের অফিস-আদালত থেকে শুরু করে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানেই হাজিরা খাতার প্রচলন রয়েছে। তবে, এর চাইতে বড় হাজিরা খাতা দেশের আর কোথাও নেই বলে মনে করা হচ্ছে।

‘হাজিরা খাতা’ শীর্ষক বোর্ড দু’টিতে লেখা রয়েছে ‘বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর হাজিরা খাতা।’ এছাড়া, উপাচার্য ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ক্যাম্পাসে যোগদানের পর কতদিন উপস্থিত ছিলেন এবং কতদিন অনুপস্থিত ছিলেন প্রভৃতি বিষয় সমূহ তুলে ধরা হয়েছে। বোর্ডটিতে দেখা যায়, বিশ^বিদ্যালয়ে যোগদানের মোট ৯৯৮দিনের মধ্যে অনুপস্থিতই ছিলেন ৭৭০ দিন এবং উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২২৮দিন।

শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, উপাচার্যকে নিয়োগ দেওয়ার সময় শর্তেই উল্লেখ করা হয়েছিল তাকে ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পাস পরিচালনা করতে হবে। তিনি তার নিয়োগের শর্তই লঙ্ঘন করেছেন। তার একাডেমিক এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির বড় কারণ তার অনুপস্থিতি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৪ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের সময় রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত নিয়োগ পত্রে তাঁকে ক্যাম্পাসের প্রধান নির্বাহী হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি এই নির্দেশ উপেক্ষা করে ঢাকায় বসেই ক্যাম্পাস পরিচালনা করেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, সিন্ডিকেট মিটিংসহ গুরুত্বপূর্ণ সভা সমূহ ঢাকায় অনুষ্ঠিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ একাধিকবার এ বিষয়ে তাঁর কাছে লিখিত এবং মৌখিকভাবে জানালেও তিনি কোন তোয়াক্কা করেননি। ফলে, শিক্ষকগণ তাঁর এই কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাতে অভিনব এই কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করেন।

শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, দিনের পর দিন উপাচার্য ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকবেন এটা মেনে নেওয়া যায়না। সে কারণে আমরা এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

এদিকে, অধিকার সুরক্ষা পরিষদের এসব কর্মকাণ্ডকে ‘ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার পায়তারা’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ করেন ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ’র সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সংগঠন নব-প্রজন্ম শিক্ষক পরিষদ।

এর আগে, গত মাসের ২০ তারিখ এ হাজিরা খাতা প্রথম স্থাপন করা হয়। এরপর ২ মার্চ দিবাগত রাতে বোর্ডটি চুরি হয়। অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিব বিষয়টি রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত জানান এবং তাজহাট থানায় একটি জিডি করেন। বোর্ডটি না পাওয়ার কারণে নতুন দুটি বোর্ড টাঙানো হয়েছে বলে অধিকার সুরক্ষা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক ও ম্যানেজম্যান্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান বলেন, ‘ উপাচার্যের অনেকগুলো অনিয়ম দুর্নীতির মধ্যে বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুপস্থিতি। উপাচার্য কি পরিমাণ অনুপস্থিত থাকলে তাকে উপস্থিত রাখার জন্য একটি বোর্ড স্থাপন করা যায়! আমরা চাই উপাচার্য নিয়মিত ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পাস পরিচালনা করুক।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮০ জনেরও বেশী শিক্ষক রয়েছে। কিন্তু হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া অধিকার সুরক্ষা পরিষদের এসব কর্মসূচিতে কেইউ আসেনি। কারণ, অধিকাংশ শিক্ষকগণ পড়াশোনা, গবেষণা এবং একাডেমিক কাজকেই কাজ বলে মনে করেছেন, এসবকে নয়। তবে আমরা বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। এজন্য সবাইকে মতামত প্রকাশের সুযোগ দিয়েছি।