ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

পলান সরকারের আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২০
  • ৩৭৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ তিনি ছিলেন আলোর ফেরিওয়ালা। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা বাউসা থেকেই ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন। তার কর্মে আলোকিত হয়েছে আশপাশের অন্তত ২০ গ্রাম। নাম তার পলান সরকার। আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। গত বছরের আজকের এই দিনে ৯৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

পলান সরকার ১৯২১ সালের ১ আগস্ট নাটোর জেলার বাগাতিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা-মা নাম রেখেছিলেন হারেজ উদ্দিন সরকার। তবে মা পলান নামে ডাকতেন। ব্রিটিশ আমলেই তিনি যাত্রাদলে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৬৫ সালে ৫২ শতাংশ জমি দান করে বাউসা হারুন অর রসিদ শাহ দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন পলান সরকার। ১৯৯০ সাল থেকে ওই বিদ্যালয়ে মেধা তালিকায় প্রথম ১০টি স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের বই উপহার দিতেন তিনি। এরপর অন্য শিক্ষার্থীরাও বইয়ের আবদার করলে সিদ্ধান্ত নেন তাদেরও বই দেবেন। শর্ত দেন, পড়ার পর তা ফেরত দেওয়ার। এরপর গ্রামের মানুষও তার কাছে বই চাইতে শুরু করেন। ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে বই পড়া আন্দোলন।

নিজের টাকায় বই কিনে পলান সরকার পড়তে দিতেন পিছিয়ে পড়া গ্রামের মানুষকে। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাঁধে ঝোলাভর্তি বই নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন তিনি। মাইলের পর মাইল হেঁটে একেকদিন একেক গ্রামে যেতেন পলান সরকার। বাড়ি বাড়ি কড়া নেড়ে আগের সপ্তাহের বই ফেরত নিয়ে নতুন বই পড়তে দিতেন তিনি। এলাকাবাসীর কাছে পলান সরকার পরিচিত ‘বইওয়ালা দুলাভাই’ হিসেবেও। ২০০৭ সালে সরকারিভাবে তার বাড়ির আঙিনায় একটি পাঠাগার করে দেওয়া হয়।

২০১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘ইমপ্যাক্ট জার্নালিজম ডে’ উপলক্ষে সারাবিশ্বের বিভিন্ন ভাষার দৈনিকে তার ওপর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর আগে তাকে নিয়ে আসা হয় জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে। এছাড়া পলান সরকারকে নিয়ে ‘সায়াহ্নে সূর্যোদয়’ নামে একটি নাটকও তৈরি হয়েছে।

তিনি ২০১১ সালে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক লাভ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইনে বিএনপি সভাপতি হত্যা: যুবদল আহ্বায়ক নৌশাদ গ্রেপ্তার

পলান সরকারের আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

আপডেট টাইম : ১০:৩৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ তিনি ছিলেন আলোর ফেরিওয়ালা। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা বাউসা থেকেই ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন। তার কর্মে আলোকিত হয়েছে আশপাশের অন্তত ২০ গ্রাম। নাম তার পলান সরকার। আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। গত বছরের আজকের এই দিনে ৯৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

পলান সরকার ১৯২১ সালের ১ আগস্ট নাটোর জেলার বাগাতিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা-মা নাম রেখেছিলেন হারেজ উদ্দিন সরকার। তবে মা পলান নামে ডাকতেন। ব্রিটিশ আমলেই তিনি যাত্রাদলে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৬৫ সালে ৫২ শতাংশ জমি দান করে বাউসা হারুন অর রসিদ শাহ দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন পলান সরকার। ১৯৯০ সাল থেকে ওই বিদ্যালয়ে মেধা তালিকায় প্রথম ১০টি স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের বই উপহার দিতেন তিনি। এরপর অন্য শিক্ষার্থীরাও বইয়ের আবদার করলে সিদ্ধান্ত নেন তাদেরও বই দেবেন। শর্ত দেন, পড়ার পর তা ফেরত দেওয়ার। এরপর গ্রামের মানুষও তার কাছে বই চাইতে শুরু করেন। ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে বই পড়া আন্দোলন।

নিজের টাকায় বই কিনে পলান সরকার পড়তে দিতেন পিছিয়ে পড়া গ্রামের মানুষকে। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাঁধে ঝোলাভর্তি বই নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন তিনি। মাইলের পর মাইল হেঁটে একেকদিন একেক গ্রামে যেতেন পলান সরকার। বাড়ি বাড়ি কড়া নেড়ে আগের সপ্তাহের বই ফেরত নিয়ে নতুন বই পড়তে দিতেন তিনি। এলাকাবাসীর কাছে পলান সরকার পরিচিত ‘বইওয়ালা দুলাভাই’ হিসেবেও। ২০০৭ সালে সরকারিভাবে তার বাড়ির আঙিনায় একটি পাঠাগার করে দেওয়া হয়।

২০১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘ইমপ্যাক্ট জার্নালিজম ডে’ উপলক্ষে সারাবিশ্বের বিভিন্ন ভাষার দৈনিকে তার ওপর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর আগে তাকে নিয়ে আসা হয় জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে। এছাড়া পলান সরকারকে নিয়ে ‘সায়াহ্নে সূর্যোদয়’ নামে একটি নাটকও তৈরি হয়েছে।

তিনি ২০১১ সালে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক লাভ করেন।