ঢাকা ১২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দোকান বন্ধ রেখে আজ আন্দোলনে নামবেন বই বিক্রেতারা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১০:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০
  • ২৭০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন-২০১৯ এর কয়েকটি ধারা-উপধারা সংশোধনের দাবিতে আজ সারাদেশে মানববন্ধন করবে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। একই সঙ্গে সারাদেশের বইয়ের দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানাবেন বই বিক্রেতারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি আরিফ হোসেন ছোটন বলেন, আমরা দাবি আদায়ে আজ সারাদেশে মানববন্ধন করবো। কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবে আমাদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে সারাদেশের পাঠ্যপুস্তক বিক্রেতারা তাদের অবস্থান থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন। সোমবার বেলা ১১টায় একযোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে ‘নোট গাইড’ সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, কিন্তু অনুশীলনমূলক বইয়ের কোনো সংজ্ঞা নেই। ‘নোট-গাইডে’ পাঠ্যবইয়ে দেয়া প্রশ্নগুলোর সরাসরি উত্তর দেয়া থাকে; যা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হয়। শিক্ষার্থীরা তা মুখস্ত করে পরীক্ষায় অংশ নেয়। অন্যদিকে অনুশীলন বইয়ের বিষয়বস্তু হচ্ছে পাঠ্য বিষয়ের সহজে অনুধাবন, প্রশ্নের নমুনা, উন্নত উত্তর লেখন পদ্ধতি। শিক্ষার্থীরা অনুশীলন বই মুখস্ত করে না। কারণ তা মুখস্ত করে কোনো লাভ নেই। সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষায় কোনো প্রশ্ন কমন পড়ে না।

এর আগে শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

সংগঠনের সহ-সভাপতি শ্যামল পাল বলেন, ‘কোনও অনুশীলন বই থেকে প্রশ্ন কমন পড়েনি। এটা বিগত বছরের প্রশ্ন থেকে এই বছরের প্রশ্ন করা হয়েছে। এই জন্য আমরা দায়ী নই। যারা প্রশ্নের প্রণেতা তারাই দায়ী।’

বক্তরা প্রস্তাবিত শিক্ষাআইন ২০১৯-এ সংশোধন ও সংযোজনের সুস্পষ্ট দাবি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন-২০১৯ এর কয়েকটি ধারা-উপধারা সংশোধনের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতিসহ ১২টি সংগঠন।

তাদের দাবি “পরিমার্জিত শিক্ষা আইন-২০১৯ এর খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২(১১) ‘নোট ও গাইড বই’ অর্থ যে পুস্তকসমূহে পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তুর আলোকে বিভিন্ন পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্নাবলি উত্তর লিপিবদ্ধ থাকে, যাহা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রয় করা হয়।

‘১৬(১) কোনো ধরনের নোট বই বা গাইড বই মুদ্রণ, বাঁধাই, প্রকাশ বা বাজারজাত করা যাইবে না।

‘১৬(২) উপ-ধারা (১) এর বিধানের লংঘন করিয়া কেহ কোনো কার্য করিলে তিনি অনুর্ধ্ব তিন বৎসর কারাদণ্ড বা অনুর্ধ্ব পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থ বা উভয় দণ্ডনীয় হবেন।

‘১৬(৩) কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নোট বই, গাইড বই ক্রয় বা পাঠে বাধ্য করিলে বা উৎসাহ প্রদান করিলে উহা অসাদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে, এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, ব্যবস্থাপনা কমিটি বা পরিচালনা কমিটির সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক এখতিয়ারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।”

অন্তর্ভুক্ত করার দাবি
“২(১১) ‘নোট-গাইড বই’ অর্থ যে পুস্তকসমূহে পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পাঠ্যপুস্তকে প্রদত্ত প্রশ্নাবলির উত্তর লিপিবদ্ধ থাকে, যাহা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রয় করা হয়।

‘অনুশীলনমূলক বই’ অর্থ যে পুস্তকসমূহে পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তুর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং পর্যাপ্ত নমুনা প্রশ্ন ও উত্তর কিংবা টেক্সট লিপিবদ্ধ থাকে, যাহার অনুশীলন শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হয়।

‘১৬(১) কোনো ধরনের নোট বই বা গাইড বই মুদ্রণ, বাঁধাই, প্রকাশ বা বাজারজাত করা যাইবে না। তবে যদি তা নোট-গাইড না হয়ে এমন হয় যাহা অনুশীলনের মাধ্যমে জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পায় অথবা যাহা শিক্ষা সহায়ক সাপ্লিমেন্টারি টেক্সট বই বা অনুশীলনীমূলক বই, তাহা প্রকাশ করা যাইবে।

‘উপ ধারা ১৬(৪) নতুন যুক্ত করতে হবে। জ্ঞান অর্জনে সহায়ক যে কোনো অনুশীলনমূলক শিক্ষা উপকরণ বা বই-এর জন্য ২নং উপধারা প্রযোজ্য হইবে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

দোকান বন্ধ রেখে আজ আন্দোলনে নামবেন বই বিক্রেতারা

আপডেট টাইম : ১১:১০:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন-২০১৯ এর কয়েকটি ধারা-উপধারা সংশোধনের দাবিতে আজ সারাদেশে মানববন্ধন করবে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। একই সঙ্গে সারাদেশের বইয়ের দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানাবেন বই বিক্রেতারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি আরিফ হোসেন ছোটন বলেন, আমরা দাবি আদায়ে আজ সারাদেশে মানববন্ধন করবো। কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবে আমাদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে সারাদেশের পাঠ্যপুস্তক বিক্রেতারা তাদের অবস্থান থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন। সোমবার বেলা ১১টায় একযোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে ‘নোট গাইড’ সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, কিন্তু অনুশীলনমূলক বইয়ের কোনো সংজ্ঞা নেই। ‘নোট-গাইডে’ পাঠ্যবইয়ে দেয়া প্রশ্নগুলোর সরাসরি উত্তর দেয়া থাকে; যা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হয়। শিক্ষার্থীরা তা মুখস্ত করে পরীক্ষায় অংশ নেয়। অন্যদিকে অনুশীলন বইয়ের বিষয়বস্তু হচ্ছে পাঠ্য বিষয়ের সহজে অনুধাবন, প্রশ্নের নমুনা, উন্নত উত্তর লেখন পদ্ধতি। শিক্ষার্থীরা অনুশীলন বই মুখস্ত করে না। কারণ তা মুখস্ত করে কোনো লাভ নেই। সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষায় কোনো প্রশ্ন কমন পড়ে না।

এর আগে শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

সংগঠনের সহ-সভাপতি শ্যামল পাল বলেন, ‘কোনও অনুশীলন বই থেকে প্রশ্ন কমন পড়েনি। এটা বিগত বছরের প্রশ্ন থেকে এই বছরের প্রশ্ন করা হয়েছে। এই জন্য আমরা দায়ী নই। যারা প্রশ্নের প্রণেতা তারাই দায়ী।’

বক্তরা প্রস্তাবিত শিক্ষাআইন ২০১৯-এ সংশোধন ও সংযোজনের সুস্পষ্ট দাবি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন-২০১৯ এর কয়েকটি ধারা-উপধারা সংশোধনের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতিসহ ১২টি সংগঠন।

তাদের দাবি “পরিমার্জিত শিক্ষা আইন-২০১৯ এর খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২(১১) ‘নোট ও গাইড বই’ অর্থ যে পুস্তকসমূহে পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তুর আলোকে বিভিন্ন পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্নাবলি উত্তর লিপিবদ্ধ থাকে, যাহা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রয় করা হয়।

‘১৬(১) কোনো ধরনের নোট বই বা গাইড বই মুদ্রণ, বাঁধাই, প্রকাশ বা বাজারজাত করা যাইবে না।

‘১৬(২) উপ-ধারা (১) এর বিধানের লংঘন করিয়া কেহ কোনো কার্য করিলে তিনি অনুর্ধ্ব তিন বৎসর কারাদণ্ড বা অনুর্ধ্ব পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থ বা উভয় দণ্ডনীয় হবেন।

‘১৬(৩) কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নোট বই, গাইড বই ক্রয় বা পাঠে বাধ্য করিলে বা উৎসাহ প্রদান করিলে উহা অসাদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে, এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, ব্যবস্থাপনা কমিটি বা পরিচালনা কমিটির সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক এখতিয়ারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।”

অন্তর্ভুক্ত করার দাবি
“২(১১) ‘নোট-গাইড বই’ অর্থ যে পুস্তকসমূহে পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পাঠ্যপুস্তকে প্রদত্ত প্রশ্নাবলির উত্তর লিপিবদ্ধ থাকে, যাহা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রয় করা হয়।

‘অনুশীলনমূলক বই’ অর্থ যে পুস্তকসমূহে পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তুর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং পর্যাপ্ত নমুনা প্রশ্ন ও উত্তর কিংবা টেক্সট লিপিবদ্ধ থাকে, যাহার অনুশীলন শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হয়।

‘১৬(১) কোনো ধরনের নোট বই বা গাইড বই মুদ্রণ, বাঁধাই, প্রকাশ বা বাজারজাত করা যাইবে না। তবে যদি তা নোট-গাইড না হয়ে এমন হয় যাহা অনুশীলনের মাধ্যমে জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পায় অথবা যাহা শিক্ষা সহায়ক সাপ্লিমেন্টারি টেক্সট বই বা অনুশীলনীমূলক বই, তাহা প্রকাশ করা যাইবে।

‘উপ ধারা ১৬(৪) নতুন যুক্ত করতে হবে। জ্ঞান অর্জনে সহায়ক যে কোনো অনুশীলনমূলক শিক্ষা উপকরণ বা বই-এর জন্য ২নং উপধারা প্রযোজ্য হইবে না।