ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান সাবেক ছাত্রদল নেতা আনম উল্লাহ সানি সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা

ব্যাপক ভাঙনে আতঙ্কিত যমুনাপাড়ের মানুষ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০১৫
  • ৫৫৬ বার

যমুনা নদীসংলগ্ন প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক ভাঙন। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বালিঘুগরী, ইটালী, সিমলা ও বাহুকা পয়েন্টে এ ভাঙন শুরু হয়েছে।

এদিকে, বালিঘুগরী পয়েন্টে তিন মাস আগে ৩৬০ মিটার এলাকায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ নিক্ষেপ এবং আট কোটি টাকায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তা কোনো কাজে আসেনি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, ১৫ দিনের ভাঙনে এরই মধ্যে চার গ্রামের প্রায় তিন হাজার হেক্টর আবাদি জমিসহ ৫০টি বসতবাড়ি-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীতে চলে গেছে। একদিকে ভাঙন, অন্যদিকে বর্ষায় গ্রামগুলো তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটছে হাজার হাজার মানুষের। এ সময় কেউ কেউ নিজেদের বাড়ির জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছেন। ভাঙনে পাড়ের জিও ব্যাগগুলোও স্রোতে ভেসে যায় নদীতে। এ ছাড়া বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৩৮০ মিটারসহ আশপাশের চার কিলিমিটার এলাকার অর্ধশতাধিক বসতভিটা ও বহু জমি বিলীন হয়েছে। ভাঙন ক্রমশ বাড়লেও তা রোধে কোনো কাজ শুরু করেনি পাউবো।

বিলীন হওয়া বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশ দিয়ে যাতে বর্ষা মৌসুমে শহরে পানি ঢুকতে না পারে সেজন্য শুধু বিকল্প বালুর বাঁধ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু বর্ষায় এ বাঁধ টেকা-না টেকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন খোদ পাউবো কর্মকর্তারা।

পাউবো জানায়, ফান্ড না থাকায় ভাঙনরোধে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় বালিঘুরঘুরি গ্রামের বাসিন্দা ময়েজ উদ্দিন (৭৫) বলেন, ‘নিজের চোখেই ১০ থেকে ১২ বার নদীভাঙন দেখলাম। জীবন আর চলে না। সহায়সম্বল যা ছিল এবারের ভাঙনে নদীতে চলে যাচ্ছে।’

সিমলা বালুর বাঁধ এলাকায় শনিবার ভোরে নতুন করে ধসে যাওয়া স্থান দেখিয়ে সমিরন নেছা (৬৫) এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাবা আপনেরা তো সরকারের লোক। সরকার এতো ট্যাহা-পয়সা দেয় তাও আমাগোর ঘর থাকে না কে?’

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম দ্য রিপোর্টকে জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে ১১ থেকে ১৭ নম্বর প্যাকেজগুলোর কাজ হয়নি। তাই তাদের বাদ দিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নতুন করে টেন্ডার সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু এখনও কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যমুনার পানি ডান তীরে আঘাত হানছে। আঘাত যাতে কম হানে, সে জন্য ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে যমুনার দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান সাবেক ছাত্রদল নেতা আনম উল্লাহ সানি

ব্যাপক ভাঙনে আতঙ্কিত যমুনাপাড়ের মানুষ

আপডেট টাইম : ১০:১৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০১৫

যমুনা নদীসংলগ্ন প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক ভাঙন। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বালিঘুগরী, ইটালী, সিমলা ও বাহুকা পয়েন্টে এ ভাঙন শুরু হয়েছে।

এদিকে, বালিঘুগরী পয়েন্টে তিন মাস আগে ৩৬০ মিটার এলাকায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ নিক্ষেপ এবং আট কোটি টাকায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তা কোনো কাজে আসেনি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, ১৫ দিনের ভাঙনে এরই মধ্যে চার গ্রামের প্রায় তিন হাজার হেক্টর আবাদি জমিসহ ৫০টি বসতবাড়ি-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীতে চলে গেছে। একদিকে ভাঙন, অন্যদিকে বর্ষায় গ্রামগুলো তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটছে হাজার হাজার মানুষের। এ সময় কেউ কেউ নিজেদের বাড়ির জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছেন। ভাঙনে পাড়ের জিও ব্যাগগুলোও স্রোতে ভেসে যায় নদীতে। এ ছাড়া বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৩৮০ মিটারসহ আশপাশের চার কিলিমিটার এলাকার অর্ধশতাধিক বসতভিটা ও বহু জমি বিলীন হয়েছে। ভাঙন ক্রমশ বাড়লেও তা রোধে কোনো কাজ শুরু করেনি পাউবো।

বিলীন হওয়া বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশ দিয়ে যাতে বর্ষা মৌসুমে শহরে পানি ঢুকতে না পারে সেজন্য শুধু বিকল্প বালুর বাঁধ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু বর্ষায় এ বাঁধ টেকা-না টেকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন খোদ পাউবো কর্মকর্তারা।

পাউবো জানায়, ফান্ড না থাকায় ভাঙনরোধে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় বালিঘুরঘুরি গ্রামের বাসিন্দা ময়েজ উদ্দিন (৭৫) বলেন, ‘নিজের চোখেই ১০ থেকে ১২ বার নদীভাঙন দেখলাম। জীবন আর চলে না। সহায়সম্বল যা ছিল এবারের ভাঙনে নদীতে চলে যাচ্ছে।’

সিমলা বালুর বাঁধ এলাকায় শনিবার ভোরে নতুন করে ধসে যাওয়া স্থান দেখিয়ে সমিরন নেছা (৬৫) এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাবা আপনেরা তো সরকারের লোক। সরকার এতো ট্যাহা-পয়সা দেয় তাও আমাগোর ঘর থাকে না কে?’

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম দ্য রিপোর্টকে জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে ১১ থেকে ১৭ নম্বর প্যাকেজগুলোর কাজ হয়নি। তাই তাদের বাদ দিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নতুন করে টেন্ডার সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু এখনও কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যমুনার পানি ডান তীরে আঘাত হানছে। আঘাত যাতে কম হানে, সে জন্য ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে যমুনার দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে।