ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পৃথিবীর প্রথম পবিত্র স্থান মসজিদ নির্মাণের ইতিহাস

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:৪৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২০
  • ৩৩৩ বার

 

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মুসলিমদের প্রার্থনার পবিত্র স্থান মসজিদ। যেখানে মুসলিম পুরুষরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ইবাদতে রত থাকেন।

তবে কীভাবে তৈরি হয়েছিল পৃথিবীর প্রথম মসজিদটি জানেন কি? না জেনে থাকলে চলুন আজকে জেনে নেয়া যাক পৃথিবীর প্রথম মসজিদ নির্মাণের ইতিহাসটি-

মুসলমানদের মসজিদ নির্মাণের ধারা শুরু হয় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর ইসলাম প্রচারের সময় থেকে। আরবের পবিত্র মদিনার দক্ষিণদিকে অবস্থিত কুবা বা মসজিদে কিবলাতাইন হলো পৃথিবীর প্রথম মসজিদ। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় আসার পর এই মসজিদ তৈরি হয়। তখনো ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে অবস্থিত পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করতেন মুসল্লিরা। তারপর এই পবিত্র কুবা মসজিদে জোহরের নামাজ চলাকালেই কিবলা পরিবর্তনের ওহি এসেছিল।

পৃথিবীর প্রথম নির্মিত কুবা মসজিদ

পৃথিবীর প্রথম নির্মিত কুবা মসজিদ

উল্লেখ্য, কুবা মূলত একটি স্থানীয় প্রাচীন কূপের নাম। সেই থেকেই এলাকাটির এমন নামকরণ হয়। মহানবী (সা.) হিজরত করে মদিনা গিয়ে কুবা এলাকায় আবু আইয়ুব আনসারী (রা)-এর বসতবাড়িতে অবস্থান করেন। পরে মসজিদে নববির খুব কাছে স্থানীভাবে বসবাস শুরু করলেও প্রতি শনিবার মসজিদুল কিবলাতাইনে নামাজ আদায় করতেন নবী (সা.)।

দুই রাকাত নামাজ আদায়ের পর আসমানি ফরমান আসে। যাতে আল্লাহর তরফে মহানবী (সা.)-কে নির্দেশ দেয়া হয় কিবলা পরিবর্তন করার জন্য। ওই অবস্থাতেই জোহরের ফরজ নামাজের ভেতর কিবলা বদল করে বায়তুল্লাহর দিকে মুখ ফিরিয়ে বাকি দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন নবীজী (সা.)। তাঁকে অনুসরণ করে সাহাবাগণ ও মুসল্লিরা দিক পরিবর্তন করে নেন। মদিনায় মসজিদে নববীর পর কুবা হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম ও মর্যাদাশীল মসজিদ। এই মসজিদে একসঙ্গে ২০ হাজার মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

পৃথিবীর প্রথম নির্মিত কুবা মসজিদ

পৃথিবীর প্রথম নির্মিত কুবা মসজিদ

পবিত্র মদিনা নগরীর উপকণ্ঠে অবস্থিত এই কিবলাতাইন বা কুবা মসজিদ। পবিত্র মসজিদ নববী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪ কি. মি.। দ্বিতীয় হিজরিতে সাওয়াদ বিন গানাম গোত্রের লোকরা এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। কাদামাটি ও পাথর দিয়ে প্রথম নির্মাণকাজ হাত লাগিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মহানবী (সা.) নিজেই। মাটি, পাথর, খেজুর পাতা ও খেজুর ডাল দিয়ে তৈরি হয় এই মসজিদ।

পরবর্তীকালে ধারাবাহিকভাবে এর সংস্কার করেন খালিফা থেকে উসমানীয় সুলতান সহ আরবের বাদশাহ ফাহাদের মতো অনেকেই। সংস্কার ও সম্প্রসারণ হতে হতে ১৩,৫০০ বর্গমিটার আয়তনের এই মসজিদে এখন ২০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। এতে ১৭ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট দুটি গম্বুজ রয়েছে।

পৃথিবীর প্রথম নির্মিত কুবা মসজিদ পৃথিবীর প্রথম নির্মিত কুবা মসজিদ

কিবলা পরিবর্তনের স্বাক্ষী হিসেবে এখনো এই মসজিদে দু’টি মেহরাব এবং আজান দেয়ার জন্য দু’টি মিনার রয়েছে। মদিনায় দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবাদাতগাহ এটি। পবিত্র কোরআনের সূরা আত-আওবা ১০৮ আয়াতে এই মসজিদের প্রশংসা করেছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

পৃথিবীর প্রথম পবিত্র স্থান মসজিদ নির্মাণের ইতিহাস

আপডেট টাইম : ০৭:৪৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২০

 

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মুসলিমদের প্রার্থনার পবিত্র স্থান মসজিদ। যেখানে মুসলিম পুরুষরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ইবাদতে রত থাকেন।

তবে কীভাবে তৈরি হয়েছিল পৃথিবীর প্রথম মসজিদটি জানেন কি? না জেনে থাকলে চলুন আজকে জেনে নেয়া যাক পৃথিবীর প্রথম মসজিদ নির্মাণের ইতিহাসটি-

মুসলমানদের মসজিদ নির্মাণের ধারা শুরু হয় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর ইসলাম প্রচারের সময় থেকে। আরবের পবিত্র মদিনার দক্ষিণদিকে অবস্থিত কুবা বা মসজিদে কিবলাতাইন হলো পৃথিবীর প্রথম মসজিদ। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় আসার পর এই মসজিদ তৈরি হয়। তখনো ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে অবস্থিত পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করতেন মুসল্লিরা। তারপর এই পবিত্র কুবা মসজিদে জোহরের নামাজ চলাকালেই কিবলা পরিবর্তনের ওহি এসেছিল।

পৃথিবীর প্রথম নির্মিত কুবা মসজিদ

পৃথিবীর প্রথম নির্মিত কুবা মসজিদ

উল্লেখ্য, কুবা মূলত একটি স্থানীয় প্রাচীন কূপের নাম। সেই থেকেই এলাকাটির এমন নামকরণ হয়। মহানবী (সা.) হিজরত করে মদিনা গিয়ে কুবা এলাকায় আবু আইয়ুব আনসারী (রা)-এর বসতবাড়িতে অবস্থান করেন। পরে মসজিদে নববির খুব কাছে স্থানীভাবে বসবাস শুরু করলেও প্রতি শনিবার মসজিদুল কিবলাতাইনে নামাজ আদায় করতেন নবী (সা.)।

দুই রাকাত নামাজ আদায়ের পর আসমানি ফরমান আসে। যাতে আল্লাহর তরফে মহানবী (সা.)-কে নির্দেশ দেয়া হয় কিবলা পরিবর্তন করার জন্য। ওই অবস্থাতেই জোহরের ফরজ নামাজের ভেতর কিবলা বদল করে বায়তুল্লাহর দিকে মুখ ফিরিয়ে বাকি দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন নবীজী (সা.)। তাঁকে অনুসরণ করে সাহাবাগণ ও মুসল্লিরা দিক পরিবর্তন করে নেন। মদিনায় মসজিদে নববীর পর কুবা হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম ও মর্যাদাশীল মসজিদ। এই মসজিদে একসঙ্গে ২০ হাজার মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

পৃথিবীর প্রথম নির্মিত কুবা মসজিদ

পৃথিবীর প্রথম নির্মিত কুবা মসজিদ

পবিত্র মদিনা নগরীর উপকণ্ঠে অবস্থিত এই কিবলাতাইন বা কুবা মসজিদ। পবিত্র মসজিদ নববী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪ কি. মি.। দ্বিতীয় হিজরিতে সাওয়াদ বিন গানাম গোত্রের লোকরা এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। কাদামাটি ও পাথর দিয়ে প্রথম নির্মাণকাজ হাত লাগিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মহানবী (সা.) নিজেই। মাটি, পাথর, খেজুর পাতা ও খেজুর ডাল দিয়ে তৈরি হয় এই মসজিদ।

পরবর্তীকালে ধারাবাহিকভাবে এর সংস্কার করেন খালিফা থেকে উসমানীয় সুলতান সহ আরবের বাদশাহ ফাহাদের মতো অনেকেই। সংস্কার ও সম্প্রসারণ হতে হতে ১৩,৫০০ বর্গমিটার আয়তনের এই মসজিদে এখন ২০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। এতে ১৭ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট দুটি গম্বুজ রয়েছে।

পৃথিবীর প্রথম নির্মিত কুবা মসজিদ পৃথিবীর প্রথম নির্মিত কুবা মসজিদ

কিবলা পরিবর্তনের স্বাক্ষী হিসেবে এখনো এই মসজিদে দু’টি মেহরাব এবং আজান দেয়ার জন্য দু’টি মিনার রয়েছে। মদিনায় দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবাদাতগাহ এটি। পবিত্র কোরআনের সূরা আত-আওবা ১০৮ আয়াতে এই মসজিদের প্রশংসা করেছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন।