ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

পথশিশুদের বঞ্চনা, তাদের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে হবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯
  • ৩৪১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরে ‘ড্যান্ডি’র নেশায় মত্ত ভাসমান শিশুদের দেখতে পাওয়া গেলেও এসব শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে ভাবেন কতজন?

শুধু ‘ড্যান্ডি’ নয়, এসব শিশুর অনেকে সিগারেট, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক সেবনের সঙ্গেও যুক্ত। বস্তুত সহজলভ্য ও সস্তা হওয়ার কারণেই নগরীর পথেঘাটে বসবাসকারী  ছিন্নমূল শিশুরা বিভিন্ন নেশায় ডুবে থাকে।

দেশে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হলেও সড়কের পাশে নেশায় মত্ত ভাসমান শিশুদের অহরহ চোখে পড়ে। ড্যান্ডি সেবন সরাসরি মাদক আইনে না পড়ায় এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মাদকের নেশা এসব শিশুর জীবনীশক্তি কীভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে, মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হয়েছে।

ভাসমান পথশিশুদের কথা ভাবলেই ড্যান্ডি সেবনরত শিশুদের ছবি আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কোনোভাবে হাতে কিছু টাকা এলেই এরা বিভিন্ন নেশার উপকরণ সংগ্রহ করে।

একটি সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পথশিশুদের ৮৫ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে মাদক সেবন করে। এদের কেউ কেউ ইনজেকশনের মাধ্যমেও নেশা করে থাকে। শিশুদের নেশাগ্রস্ত হওয়ার কারণ হল তাদের কষ্টের অন্ত নেই। প্রাপ্তি নামক শব্দটির সঙ্গে এরা প্রায় অপরিচিত।

এমনকি অসুস্থ হলেও এদের কপালে øেহের ছোঁয়া দেয়ার মতো কেউ নেই। বেশিরভাগ পথশিশু জীবনের অর্থ বোঝে না। একটি দিন কী করে অতিবাহিত করবে, এটাই তাদের প্রধান চিন্তা। তাদের প্রত্যেকের জীবনের গল্প ঘুরেফিরে একই রকম। ফলে হতাশাই তাদের প্রতিমুহূর্তের সঙ্গী। নেশার টাকা জোগাড় করতে এদের অনেকে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

যেহেতু এরা জীবনের মূল্য বোঝে না, তাই সহজেই এদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডসহ যে কোনো কাজে যুক্ত করা যায়। অথচ যথাযথ সহযোগিতা পেলে এরাও ব্যতিক্রম কিছু করতে পারে। পথশিশুদের কল্যাণে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ চলমান থাকলেও তা অপ্রতুল।

প্রতিটি পথশিশুর মাঝেই রয়েছে অনেক সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হলে প্রতিটি ভাসমান শিশু সম্পদে পরিণত হতে পারবে। এর জন্য সরকারকে নানামুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের প্রতিটি ভাসমান শিশুর মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

তাদের স্বপ্ন দেখানো এবং তা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়া হলে তারাও দেশকে বড় কিছু উপহার দিতে পারবে। আর যদি তাদের হতাশা ও বঞ্চনার অবসান না হয়, তাহলে তাদের অনেকে যে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে তাতে সন্দেহ কী

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

পথশিশুদের বঞ্চনা, তাদের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট টাইম : ০৭:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরে ‘ড্যান্ডি’র নেশায় মত্ত ভাসমান শিশুদের দেখতে পাওয়া গেলেও এসব শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে ভাবেন কতজন?

শুধু ‘ড্যান্ডি’ নয়, এসব শিশুর অনেকে সিগারেট, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক সেবনের সঙ্গেও যুক্ত। বস্তুত সহজলভ্য ও সস্তা হওয়ার কারণেই নগরীর পথেঘাটে বসবাসকারী  ছিন্নমূল শিশুরা বিভিন্ন নেশায় ডুবে থাকে।

দেশে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হলেও সড়কের পাশে নেশায় মত্ত ভাসমান শিশুদের অহরহ চোখে পড়ে। ড্যান্ডি সেবন সরাসরি মাদক আইনে না পড়ায় এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মাদকের নেশা এসব শিশুর জীবনীশক্তি কীভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে, মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হয়েছে।

ভাসমান পথশিশুদের কথা ভাবলেই ড্যান্ডি সেবনরত শিশুদের ছবি আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কোনোভাবে হাতে কিছু টাকা এলেই এরা বিভিন্ন নেশার উপকরণ সংগ্রহ করে।

একটি সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পথশিশুদের ৮৫ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে মাদক সেবন করে। এদের কেউ কেউ ইনজেকশনের মাধ্যমেও নেশা করে থাকে। শিশুদের নেশাগ্রস্ত হওয়ার কারণ হল তাদের কষ্টের অন্ত নেই। প্রাপ্তি নামক শব্দটির সঙ্গে এরা প্রায় অপরিচিত।

এমনকি অসুস্থ হলেও এদের কপালে øেহের ছোঁয়া দেয়ার মতো কেউ নেই। বেশিরভাগ পথশিশু জীবনের অর্থ বোঝে না। একটি দিন কী করে অতিবাহিত করবে, এটাই তাদের প্রধান চিন্তা। তাদের প্রত্যেকের জীবনের গল্প ঘুরেফিরে একই রকম। ফলে হতাশাই তাদের প্রতিমুহূর্তের সঙ্গী। নেশার টাকা জোগাড় করতে এদের অনেকে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

যেহেতু এরা জীবনের মূল্য বোঝে না, তাই সহজেই এদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডসহ যে কোনো কাজে যুক্ত করা যায়। অথচ যথাযথ সহযোগিতা পেলে এরাও ব্যতিক্রম কিছু করতে পারে। পথশিশুদের কল্যাণে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ চলমান থাকলেও তা অপ্রতুল।

প্রতিটি পথশিশুর মাঝেই রয়েছে অনেক সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হলে প্রতিটি ভাসমান শিশু সম্পদে পরিণত হতে পারবে। এর জন্য সরকারকে নানামুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের প্রতিটি ভাসমান শিশুর মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

তাদের স্বপ্ন দেখানো এবং তা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়া হলে তারাও দেশকে বড় কিছু উপহার দিতে পারবে। আর যদি তাদের হতাশা ও বঞ্চনার অবসান না হয়, তাহলে তাদের অনেকে যে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে তাতে সন্দেহ কী