ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
রেজাউল করিম খান চুন্নুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে কিশোরগঞ্জবাসীর খোলা চিঠি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব সাখাওয়াৎ হোসেন প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক জব্দ করা জাহাজে ইরানের জন্য ‘উপহার’ পাঠাচ্ছিল চীন, ক্ষুব্ধ ট্রাম্প রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে চীনের সহযোগিতা কামনা বিএনপির ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন মির্জা আব্বাস গায়িকা-নায়িকাদের শো পিস না বানিয়ে ত্যাগীদের মূল্যায়ন, বিএনপিকে লাল সালাম বাড়ছে নদীর পানি : কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার অনুরোধ সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের বেতন কত, আরও যেসব সুবিধা পান সরকার কৃত্রিম সংকট বা কারসাজি বরদাশত করবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী

মূল বেতনের ৫ থেকে ২৫% পর্যন্ত রাখা যাবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর ২০১৫
  • ৪২৫ বার

ব্যাংকগুলোতে যেখানে আমানতের সুদের হার ৬ থেকে ৭ শতাংশ, সেখানে সরকারের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডে (জিপিএফ) বা সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিলে রাখা টাকায় সুদ মেলে ১৩.৫ শতাংশ। এই উচ্চ সুদের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেদের মূল বেতনের পুরোটাই জমাতেন প্রভিডেন্ট ফান্ডে। ১৯৭৯ সাল থেকে চলে আসা এমন সঞ্চয়ে এবার রাশ টানল সরকার। এখন থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা তাঁদের মূল বেতনের ২৫ শতাংশের বেশি প্রভিডেন্ট ফান্ডে রাখতে পারবেন না। প্রভিডেন্ট ফান্ডে রাখার সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে মূল বেতনের ৫ শতাংশ আর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আলী খান স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক এক গেজেটে ‘জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড রুলস, ১৯৭৯’-এর ৯(১)(বি) সংশোধিত ধারায় এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিজীবী তাঁর মূল বেতনের সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখতে পারবেন। ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশনেরও একই ধরনের সুপারিশ ছিল। ১৯৭৯ সালে প্রণীত প্রভিডেন্ট ফান্ড বিধিমালায় চাকরিজীবীরা তাঁদের মূল বেতনের সর্বনিম্ন কত শতাংশ প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখতে পারবেন সেটি নির্দিষ্ট করা থাকলেও সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা ছিল না। ফলে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল বেতনের পুরোটাই এ তহবিলে জমা রাখছেন। আবার অনেক চাকরিজীবী দম্পতি রয়েছেন, যাঁদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্ত্রীর মূল বেতনের পুরোটাই এ তহবিলে জমাচ্ছেন। ১৯৭৯ সালের বিধির ৯(১)(বি) ধারায় বলা হয়েছে, যাঁদের মূল বেতন মাসে ৩০০ টাকা পর্যন্ত, তাঁরা মূল বেতনের সর্বনিম্ন ১ শতাংশ অর্থ প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখতে পারবেন। ৩০১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেতনধারীরা মূল বেতনের ৬ শতাংশ, ৫০১ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন হলে ৯ শতাংশ, এক হাজার এক থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন হলে ১২ শতাংশ এবং মূল বেতন দুই হাজার টাকার বেশি হলে সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ প্রভিডেন্ট ফান্ডে রাখতে পারবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ১৯৭৯ সালে প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিধিমালা প্রণয়নের সময় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ছিল খুবই কম। সে কারণেই তখন প্রভিডেন্ট ফান্ডে সর্বোচ্চ কী পরিমাণ অর্থ জমা রাখা যাবে তা নির্ধারণ করা হয়নি। কিন্তু এখন বেতন অনেক বেড়েছে। এ ছাড়া উচ্চ সুদহারের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল বেতনের পুরোটাই প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমাচ্ছেন। বিপুল অর্থ জমার কারণে সরকারের সুদ ব্যয়ও বাড়ছে। সার্বিক বিবেচনায় ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশন এ তহবিলে অর্থ রাখার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের সুপারিশ করে। সেই সুপারিশের আলোকেই মূল বেতনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত জমা রাখার বিধান করে গেজেট জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি অনুবিভাগ।-কালের কণ্ঠ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

রেজাউল করিম খান চুন্নুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে কিশোরগঞ্জবাসীর খোলা চিঠি

মূল বেতনের ৫ থেকে ২৫% পর্যন্ত রাখা যাবে

আপডেট টাইম : ১১:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর ২০১৫

ব্যাংকগুলোতে যেখানে আমানতের সুদের হার ৬ থেকে ৭ শতাংশ, সেখানে সরকারের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডে (জিপিএফ) বা সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিলে রাখা টাকায় সুদ মেলে ১৩.৫ শতাংশ। এই উচ্চ সুদের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেদের মূল বেতনের পুরোটাই জমাতেন প্রভিডেন্ট ফান্ডে। ১৯৭৯ সাল থেকে চলে আসা এমন সঞ্চয়ে এবার রাশ টানল সরকার। এখন থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা তাঁদের মূল বেতনের ২৫ শতাংশের বেশি প্রভিডেন্ট ফান্ডে রাখতে পারবেন না। প্রভিডেন্ট ফান্ডে রাখার সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে মূল বেতনের ৫ শতাংশ আর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আলী খান স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক এক গেজেটে ‘জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড রুলস, ১৯৭৯’-এর ৯(১)(বি) সংশোধিত ধারায় এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিজীবী তাঁর মূল বেতনের সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখতে পারবেন। ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশনেরও একই ধরনের সুপারিশ ছিল। ১৯৭৯ সালে প্রণীত প্রভিডেন্ট ফান্ড বিধিমালায় চাকরিজীবীরা তাঁদের মূল বেতনের সর্বনিম্ন কত শতাংশ প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখতে পারবেন সেটি নির্দিষ্ট করা থাকলেও সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা ছিল না। ফলে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল বেতনের পুরোটাই এ তহবিলে জমা রাখছেন। আবার অনেক চাকরিজীবী দম্পতি রয়েছেন, যাঁদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্ত্রীর মূল বেতনের পুরোটাই এ তহবিলে জমাচ্ছেন। ১৯৭৯ সালের বিধির ৯(১)(বি) ধারায় বলা হয়েছে, যাঁদের মূল বেতন মাসে ৩০০ টাকা পর্যন্ত, তাঁরা মূল বেতনের সর্বনিম্ন ১ শতাংশ অর্থ প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখতে পারবেন। ৩০১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেতনধারীরা মূল বেতনের ৬ শতাংশ, ৫০১ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন হলে ৯ শতাংশ, এক হাজার এক থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন হলে ১২ শতাংশ এবং মূল বেতন দুই হাজার টাকার বেশি হলে সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ প্রভিডেন্ট ফান্ডে রাখতে পারবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ১৯৭৯ সালে প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিধিমালা প্রণয়নের সময় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ছিল খুবই কম। সে কারণেই তখন প্রভিডেন্ট ফান্ডে সর্বোচ্চ কী পরিমাণ অর্থ জমা রাখা যাবে তা নির্ধারণ করা হয়নি। কিন্তু এখন বেতন অনেক বেড়েছে। এ ছাড়া উচ্চ সুদহারের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল বেতনের পুরোটাই প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমাচ্ছেন। বিপুল অর্থ জমার কারণে সরকারের সুদ ব্যয়ও বাড়ছে। সার্বিক বিবেচনায় ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশন এ তহবিলে অর্থ রাখার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের সুপারিশ করে। সেই সুপারিশের আলোকেই মূল বেতনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত জমা রাখার বিধান করে গেজেট জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি অনুবিভাগ।-কালের কণ্ঠ