ঢাকা ০৯:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব সময় নিজেকে কাদামাটির মতো ভাবি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর ২০১৯
  • ৩১৯ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শারমীন জোহা শশী। টিভি নাটকে নিয়মিত অভিনয় করছেন। অভিনয়ের বাইরে ভিন্ন কিছু করতেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে জানান। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তিনি একটি কমেডি বিষয়ক প্রতিযোগিতার বিচারক হয়েছেন। এর আগে তিনি ‘নাট্যযুদ্ধ’ শীর্ষক অভিনয় বিষয়ক একটি প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। শশীর ভাষ্য, কমেডি শো ‘হা-শো’র রংপুর বিভাগের অডিশনের বিচারক ছিালাম। অনেক মজার একটি প্রতিযোগিতা এটি। মাঝে মাঝে ব্যতিক্রমী কিছু করতে ভালো লাগে।

এর আগেও একটি অনুষ্ঠানের বিচারক হয়েছি। তবে দুটি প্রতিযোগিতা দুই ধরনের। এদিকে এ অভিনেত্রী বর্তমানে একাধিক টিভি ধারাবাহিক নাটকে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিকগুলো হলো এস এম শাহীনের ‘সোনাভান’, জুয়েল শরীফের ‘ভুবন ডাঙ্গা’, সালাহউদ্দিনের ‘মায়া মসনদ’ এবং শাহীন সরকারের ‘জ্ঞানী গঞ্জের পন্ডিতেরা’ ও ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’। প্রতিটি নাটকে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করছেন এই অভিনেত্রী। দর্শক ও নির্মাতাদের কাছেও দারুণ আস্থা তৈরি করেছেন তিনি। অভিনেত্রী হিসেবে শশী নিজেকে কীভাবে দেখেন? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি সব সময় নিজেকে কাদামাটির মতো ভাবি। নির্মাতা আমাকে যে রূপ দিবেন সে রূপই ধারণ করবো। বিভিন্ন চরিত্রের মধ্য দিয়ে নিজেকে দর্শকের সামনে নিয়ে আসতে চাই। আমি মনে করি এটাই শিল্পীর ধর্ম হওয়া উচিত। এ সময়ে দর্শক দেশীয় টিভি ধারাবাহিক উপেক্ষা করে ভারতীয় সিরিয়ালে আসক্ত বলে অনেকে মনে করেন। শশীর মন্তব্য কি? তিনি বলেন, সব দর্শক ভারতীয় সিরিয়াল দেখছে এটি ঠিক নয়। স্যাটেলাইটের এ সময়ে কোনো কিছু আটকে রাখা সম্ভব না। আমাদের দর্শক ভারতীয় সিরিয়াল দেখে। আবার ওপার বাংলার দর্শকেরা আমাদের নাটক দেখে। এ সময়ে আমাদের নাটকের বাজেট অনেক কম। ভারতীয় সিরিয়ালের তুলনায় সেদিক থেকে আমরা পিছিয়ে আাছি। কিন্তু গল্পের দিক থেকে আমি মনে করি আমরা তাদের চেয়ে এগিয়ে। ভারতীয় সিরিয়ালগুলো শুধু পরিবারকেন্দ্রিক। কিন্তু আমাদের টিভি ধারাবাহিক পরিবারের গল্পের বাইরেও হচ্ছে। দর্শক সেসব নাটক দেখে আনন্দ পাচ্ছে। নাটকের পরিবর্তনের জন্য কি করণীয়? শশী বলেন, আমাদের এখন প্রচুর নাটক নির্মাণ হচ্ছে। টিভি চ্যানেলের সংখ্যাও আমাদের কম নয়। আমি মনে করি, নাটকের সংখ্যা না বাড়িয়ে আমাদের টিভি চ্যানেল ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজেটের দিকে মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। আমাদের অনেক নির্মাতা যথাযথ বাজেট পায় না। যার কারণে অনেক সময় ভালো গল্পের নাটকের মানও খারাপ হয়ে যায়। নাটক এখন এজেন্সিনির্ভর হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে এজেন্সিগুলো যদি নির্মাতাদের কাজের স্বাধীনতা দেয় তাহলে আরো ভালো কিছু আমাদের হবে বলে মনে করি। এখন অনেক সময় দেখা যায় গল্পের চেয়ে শিল্পীদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। ছোট পর্দার অনেক অভিনেত্রী এখন বিকল্প ধারার চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। কেউ কেউ চলচ্চিত্রে নিয়মিতও হচ্ছেন। কিন্তু শশী পিছিয়ে পড়েছেন কেন? তার এ পর্যন্ত অভিনীত চলচ্চিত্রের সংখ্যা একটিতেই রাখার বিশেষ কোনো কারণ আছে? শশী বলেন, আমাদের ভালো চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে একটি বলা হয় আমার অভিনীত ‘হাজার বছর ধরে’ ছবিটিকে। একজন শিল্পী হিসেবে এটি আমার বড় পাওয়া। অনেকের চলচ্চিত্রের সংখ্যা বেশি। কিন্তু ভালো চলচ্চিত্র নেই। আমার কাছে চলচ্চিত্রের প্রস্তাব আসে। কিন্তু যেসব চলচ্চিত্রের জন্য প্রস্তাব পাই সেগুলো মনে দাগ কাটে না। এ কারণেই চলচ্চিত্রে কাজ করা হচ্ছে না। অভিনেত্রী সুচন্দার পরিচালনায় নির্মিত ‘হাজার বছর ধরে’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে শশী দারুণ আলোচনায় আসেন। ক্যারিয়ারের এ প্রথম চলচ্চিত্র দিয়েই সবার মন জয় করেন তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সব সময় নিজেকে কাদামাটির মতো ভাবি

আপডেট টাইম : ১২:২৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শারমীন জোহা শশী। টিভি নাটকে নিয়মিত অভিনয় করছেন। অভিনয়ের বাইরে ভিন্ন কিছু করতেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে জানান। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তিনি একটি কমেডি বিষয়ক প্রতিযোগিতার বিচারক হয়েছেন। এর আগে তিনি ‘নাট্যযুদ্ধ’ শীর্ষক অভিনয় বিষয়ক একটি প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। শশীর ভাষ্য, কমেডি শো ‘হা-শো’র রংপুর বিভাগের অডিশনের বিচারক ছিালাম। অনেক মজার একটি প্রতিযোগিতা এটি। মাঝে মাঝে ব্যতিক্রমী কিছু করতে ভালো লাগে।

এর আগেও একটি অনুষ্ঠানের বিচারক হয়েছি। তবে দুটি প্রতিযোগিতা দুই ধরনের। এদিকে এ অভিনেত্রী বর্তমানে একাধিক টিভি ধারাবাহিক নাটকে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিকগুলো হলো এস এম শাহীনের ‘সোনাভান’, জুয়েল শরীফের ‘ভুবন ডাঙ্গা’, সালাহউদ্দিনের ‘মায়া মসনদ’ এবং শাহীন সরকারের ‘জ্ঞানী গঞ্জের পন্ডিতেরা’ ও ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’। প্রতিটি নাটকে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করছেন এই অভিনেত্রী। দর্শক ও নির্মাতাদের কাছেও দারুণ আস্থা তৈরি করেছেন তিনি। অভিনেত্রী হিসেবে শশী নিজেকে কীভাবে দেখেন? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি সব সময় নিজেকে কাদামাটির মতো ভাবি। নির্মাতা আমাকে যে রূপ দিবেন সে রূপই ধারণ করবো। বিভিন্ন চরিত্রের মধ্য দিয়ে নিজেকে দর্শকের সামনে নিয়ে আসতে চাই। আমি মনে করি এটাই শিল্পীর ধর্ম হওয়া উচিত। এ সময়ে দর্শক দেশীয় টিভি ধারাবাহিক উপেক্ষা করে ভারতীয় সিরিয়ালে আসক্ত বলে অনেকে মনে করেন। শশীর মন্তব্য কি? তিনি বলেন, সব দর্শক ভারতীয় সিরিয়াল দেখছে এটি ঠিক নয়। স্যাটেলাইটের এ সময়ে কোনো কিছু আটকে রাখা সম্ভব না। আমাদের দর্শক ভারতীয় সিরিয়াল দেখে। আবার ওপার বাংলার দর্শকেরা আমাদের নাটক দেখে। এ সময়ে আমাদের নাটকের বাজেট অনেক কম। ভারতীয় সিরিয়ালের তুলনায় সেদিক থেকে আমরা পিছিয়ে আাছি। কিন্তু গল্পের দিক থেকে আমি মনে করি আমরা তাদের চেয়ে এগিয়ে। ভারতীয় সিরিয়ালগুলো শুধু পরিবারকেন্দ্রিক। কিন্তু আমাদের টিভি ধারাবাহিক পরিবারের গল্পের বাইরেও হচ্ছে। দর্শক সেসব নাটক দেখে আনন্দ পাচ্ছে। নাটকের পরিবর্তনের জন্য কি করণীয়? শশী বলেন, আমাদের এখন প্রচুর নাটক নির্মাণ হচ্ছে। টিভি চ্যানেলের সংখ্যাও আমাদের কম নয়। আমি মনে করি, নাটকের সংখ্যা না বাড়িয়ে আমাদের টিভি চ্যানেল ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজেটের দিকে মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। আমাদের অনেক নির্মাতা যথাযথ বাজেট পায় না। যার কারণে অনেক সময় ভালো গল্পের নাটকের মানও খারাপ হয়ে যায়। নাটক এখন এজেন্সিনির্ভর হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে এজেন্সিগুলো যদি নির্মাতাদের কাজের স্বাধীনতা দেয় তাহলে আরো ভালো কিছু আমাদের হবে বলে মনে করি। এখন অনেক সময় দেখা যায় গল্পের চেয়ে শিল্পীদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। ছোট পর্দার অনেক অভিনেত্রী এখন বিকল্প ধারার চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। কেউ কেউ চলচ্চিত্রে নিয়মিতও হচ্ছেন। কিন্তু শশী পিছিয়ে পড়েছেন কেন? তার এ পর্যন্ত অভিনীত চলচ্চিত্রের সংখ্যা একটিতেই রাখার বিশেষ কোনো কারণ আছে? শশী বলেন, আমাদের ভালো চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে একটি বলা হয় আমার অভিনীত ‘হাজার বছর ধরে’ ছবিটিকে। একজন শিল্পী হিসেবে এটি আমার বড় পাওয়া। অনেকের চলচ্চিত্রের সংখ্যা বেশি। কিন্তু ভালো চলচ্চিত্র নেই। আমার কাছে চলচ্চিত্রের প্রস্তাব আসে। কিন্তু যেসব চলচ্চিত্রের জন্য প্রস্তাব পাই সেগুলো মনে দাগ কাটে না। এ কারণেই চলচ্চিত্রে কাজ করা হচ্ছে না। অভিনেত্রী সুচন্দার পরিচালনায় নির্মিত ‘হাজার বছর ধরে’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে শশী দারুণ আলোচনায় আসেন। ক্যারিয়ারের এ প্রথম চলচ্চিত্র দিয়েই সবার মন জয় করেন তিনি।