ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

রেডিও রোশনি: আফগান নারীদের বাতিঘর

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৪৭:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • ৩৪৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বুলেটের বদলে কথা। না, কোনো সমঝোতা বা আলোচনার কথা নয়। মুক্তির গান, জাগরণের গল্প। ভয়-কুসংস্কারে ডুকরে মরা আফগান নারী সমাজের আলোর পথের দিশারী।

সন্ত্রাসবাদীদের রক্তচক্ষু, খুনের হুমকি উপেক্ষা করে বুকে অদম্য সাহস নিয়ে টানা দশ বছরের সংগ্রাম এক আফগান নারীর।

পর্দাপ্রথার বাইরে বেরিয়ে শুধু পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজই নয়, একটি রেডিও স্টেশন তৈরি করে ফেলেছেন সাদিকা শেরজাই। তার হাতে তৈরি ‘রেডিও রোশনি’ এখন আলো ছড়াচ্ছে উত্তর আফগানিস্তানের তালেবান অধ্যুষিত কুন্দুজ শহরে।

২০০৮ সালে তালেবান সন্ত্রাসের ভয়ে কাঁটা গোটা আফগানিস্তান। এমনকি প্রশাসনও তাদের সমঝে চলে। নারীদের বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষেধ। নিজের মতামত ব্যক্ত করাও প্রায় একটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। পুরুষের হাতের পুতুল হয়ে ঘরকুনো দিন কাটানোর মতো অবস্থা আফগান নারীদের। এমনই সময়ে যেন শিকল ছিঁড়ে আবির্ভূত হলেন সাদিকা শেরজাই। বিবিসি।

নারীদের চিরবঞ্চনার কথা প্রকাশ করে তাদের মুক্তিপথের সন্ধান দেবে বলে তৈরি করলেন একটি রেডিও স্টেশন। নাম রাখলেন- ‘রেডিও রোশনি’। সেখানে নারীদের অধিকারের কথা প্রচার করতেন তিনি। এ কাজ যে সহজ হবে না, সে বিষয়ে ধারণা ছিল সাদিকার।

তাই রেডিও স্টেশন সম্প্রচার হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তালেবান জঙ্গিরা তাকে প্রথম রেডিও স্টেশন বন্ধ, তারপর হত্যার হুমকি দিতে থাকে। এমনও বলা হয় যে, সাদিকা এতটাই খারাপ কাজ করছেন যে, আমেরিকা ধ্বংস করার আগেও জঙ্গিদের কর্তব্য তাকে খুন করা।

সাদিকা নিরাপত্তার জন্য আফগান সরকারের দ্বারস্থ হন এবং ফেরেন ব্যর্থ হয়ে। বুঝতে পারেন, সরকার তাকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না। এক বছরের মধ্যেই বিপর্যয়টা নেমে আসে।

২০০৯ সালে রকেট লঞ্চার ছুড়ে রেডিও স্টেশন উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে তালেবানরা। তখনকার মতো বন্ধ হয়ে যায় সাদিকার রেডিও রোশনি। কিন্তু ওই কিছুদিন মাত্র। তারপর আবারও ফিরে আসেন অসম সাহসী এই নারী।

রেকর্ডিং স্টুডিও থেকে মাইক্রোফোন হাতে কণ্ঠ ছেড়ে বলেন, ‘আমরা হুমকি দিই না। স্বাধীন হওয়ার পাঠ দিই।’ তারপর থেকে বেশ চলছিল রেডিও রোশনি। স্থানীয় পুরুষদের কটাক্ষ, হুমকি, একঘরে করে দেওয়া- এসবের মাঝেও রেডিও রোশনি পৌঁছে গিয়েছিল কুন্দুজের নারীমহলে।

প্রথমবার কবজা করতে না পেরে ২০১৫ সালে কুন্দুজ দখলের পর রেডিও রোশনি স্টেশনে ফের বড়সড় হামলা চালায় তালেবান। সাদিকাকে ফোন করে হুমকি দেয়া হয়। তিনি কর্মীদের নিয়ে কর্মস্থল থেকে পালিয়ে যান। এরপর জঙ্গিরা রেডিও স্টেশনে ঢুকে সব যন্ত্রপাতি চুরি করে, মাইন পুঁতে দিয়ে যায়, যাতে স্টেশনটিই উড়ে যায়। সব জানতে পেরে সাদিয়া বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেন। তারা মাইন নিষ্ক্রিয় করে স্টেশনটি বাঁচান। তবে ততক্ষণে সম্প্রচার করার পরিকাঠামো নষ্ট হয়ে গেছে।

তারপর শুরু হয় আরেক সংগ্রাম। এখন রেডিও রোশনি পুরোপুরি নারীদের দখলে। কর্মীরাও নারী। সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানের সিংহভাগই নারীদের জন্য। কুন্দুজের রেডিও রোশনি এখন শুধু একমাত্র বিনোদনমূলক শ্রাব্য মাধ্যমই নয়, আফগান নারীদের মুক্তির পথ, স্বাধীন হওয়ার ঠিকানা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

রেডিও রোশনি: আফগান নারীদের বাতিঘর

আপডেট টাইম : ০৯:৪৭:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বুলেটের বদলে কথা। না, কোনো সমঝোতা বা আলোচনার কথা নয়। মুক্তির গান, জাগরণের গল্প। ভয়-কুসংস্কারে ডুকরে মরা আফগান নারী সমাজের আলোর পথের দিশারী।

সন্ত্রাসবাদীদের রক্তচক্ষু, খুনের হুমকি উপেক্ষা করে বুকে অদম্য সাহস নিয়ে টানা দশ বছরের সংগ্রাম এক আফগান নারীর।

পর্দাপ্রথার বাইরে বেরিয়ে শুধু পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজই নয়, একটি রেডিও স্টেশন তৈরি করে ফেলেছেন সাদিকা শেরজাই। তার হাতে তৈরি ‘রেডিও রোশনি’ এখন আলো ছড়াচ্ছে উত্তর আফগানিস্তানের তালেবান অধ্যুষিত কুন্দুজ শহরে।

২০০৮ সালে তালেবান সন্ত্রাসের ভয়ে কাঁটা গোটা আফগানিস্তান। এমনকি প্রশাসনও তাদের সমঝে চলে। নারীদের বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষেধ। নিজের মতামত ব্যক্ত করাও প্রায় একটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। পুরুষের হাতের পুতুল হয়ে ঘরকুনো দিন কাটানোর মতো অবস্থা আফগান নারীদের। এমনই সময়ে যেন শিকল ছিঁড়ে আবির্ভূত হলেন সাদিকা শেরজাই। বিবিসি।

নারীদের চিরবঞ্চনার কথা প্রকাশ করে তাদের মুক্তিপথের সন্ধান দেবে বলে তৈরি করলেন একটি রেডিও স্টেশন। নাম রাখলেন- ‘রেডিও রোশনি’। সেখানে নারীদের অধিকারের কথা প্রচার করতেন তিনি। এ কাজ যে সহজ হবে না, সে বিষয়ে ধারণা ছিল সাদিকার।

তাই রেডিও স্টেশন সম্প্রচার হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তালেবান জঙ্গিরা তাকে প্রথম রেডিও স্টেশন বন্ধ, তারপর হত্যার হুমকি দিতে থাকে। এমনও বলা হয় যে, সাদিকা এতটাই খারাপ কাজ করছেন যে, আমেরিকা ধ্বংস করার আগেও জঙ্গিদের কর্তব্য তাকে খুন করা।

সাদিকা নিরাপত্তার জন্য আফগান সরকারের দ্বারস্থ হন এবং ফেরেন ব্যর্থ হয়ে। বুঝতে পারেন, সরকার তাকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না। এক বছরের মধ্যেই বিপর্যয়টা নেমে আসে।

২০০৯ সালে রকেট লঞ্চার ছুড়ে রেডিও স্টেশন উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে তালেবানরা। তখনকার মতো বন্ধ হয়ে যায় সাদিকার রেডিও রোশনি। কিন্তু ওই কিছুদিন মাত্র। তারপর আবারও ফিরে আসেন অসম সাহসী এই নারী।

রেকর্ডিং স্টুডিও থেকে মাইক্রোফোন হাতে কণ্ঠ ছেড়ে বলেন, ‘আমরা হুমকি দিই না। স্বাধীন হওয়ার পাঠ দিই।’ তারপর থেকে বেশ চলছিল রেডিও রোশনি। স্থানীয় পুরুষদের কটাক্ষ, হুমকি, একঘরে করে দেওয়া- এসবের মাঝেও রেডিও রোশনি পৌঁছে গিয়েছিল কুন্দুজের নারীমহলে।

প্রথমবার কবজা করতে না পেরে ২০১৫ সালে কুন্দুজ দখলের পর রেডিও রোশনি স্টেশনে ফের বড়সড় হামলা চালায় তালেবান। সাদিকাকে ফোন করে হুমকি দেয়া হয়। তিনি কর্মীদের নিয়ে কর্মস্থল থেকে পালিয়ে যান। এরপর জঙ্গিরা রেডিও স্টেশনে ঢুকে সব যন্ত্রপাতি চুরি করে, মাইন পুঁতে দিয়ে যায়, যাতে স্টেশনটিই উড়ে যায়। সব জানতে পেরে সাদিয়া বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেন। তারা মাইন নিষ্ক্রিয় করে স্টেশনটি বাঁচান। তবে ততক্ষণে সম্প্রচার করার পরিকাঠামো নষ্ট হয়ে গেছে।

তারপর শুরু হয় আরেক সংগ্রাম। এখন রেডিও রোশনি পুরোপুরি নারীদের দখলে। কর্মীরাও নারী। সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানের সিংহভাগই নারীদের জন্য। কুন্দুজের রেডিও রোশনি এখন শুধু একমাত্র বিনোদনমূলক শ্রাব্য মাধ্যমই নয়, আফগান নারীদের মুক্তির পথ, স্বাধীন হওয়ার ঠিকানা।