ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শব্দচয়ন নিয়ে আইজিপিকে সতর্ক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হলেন শিবা শানু ইসরায়েলে জয়ের পথে বিরোধীরা, ক্ষমতা ছাড়তে হচ্ছে নেতানিয়াহুকে বাংলাদেশ এখন আর অদক্ষ শ্রমিক বি‌দে‌শে পাঠাবে না : প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী যে কারণে ভারতে বন্ধ হতে পারে হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রাম ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করতে চান প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর, বছর শেষ হওয়ার আগেই মিলবে নতুন বই ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন ১৮৫ কেন্দ্রের ১১৫টিই ঝুঁকিপূর্ণ, কড়া নিরাপত্তায় মাঠে এসআরবি অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে সাইমন-মাহির ‘আনন্দ অশ্রু’ বিশ্বকাপের শেষ আটে বাংলাদেশ, একদিনে দুবার টাইব্রেকারে জয়

কার্ডে ২৮ হাজার দোকানে কেনাকাটার সুযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০১৫
  • ৪৫৫ বার

নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি এড়াতে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ভিত্তিক লেনদেনকে বেছে নিচ্ছেন অনেক গ্রাহক। কার্ডে লেনদেনে ঝুঁকি কম থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ লেনদেন উৎসাহিত করছে। কম খরচে ঝামেলাহীনভাবে সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে একই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনতে আন্তঃব্যাংক লেনদেনকে বেশি উৎসাহিত করা হচ্ছে। অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার সুযোগের মতো এখন এক ব্যাংকের পয়েন্ট অব সেল বা পস মেশিন ব্যবহার করে ৮ ব্যাংকের কার্ডধারী গ্রাহক কেনাকাটার সুযোগ পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সেপ্টেম্বর ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ২৮ হাজার ২৬৫টি দোকানে পস মেশিন রয়েছে। আন্তঃব্যাংক পস সেবা চালু করা ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি আরও কয়েকটি ব্যাংকের এ সেবা রয়েছে। শিগগিরই ওই ব্যাংকগুলোও একই প্লাটফর্মের আওতায় আসবে। গত আগস্ট প্রাথমিকভাবে বেসরকারি খাতের দ্য সিটি, ডাচ্-বাংলা, পূবালী ও ট্রাস্ট ব্যাংকের মধ্যে আন্তঃব্যাংক পস সেবা চালু হয়। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট, ওয়ান, যমুনা ও এনসিসি ব্যাংক। কোনো এক ব্যাংকের পস মেশিন ব্যবহার করে অন্য ব্যাংকের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনাকাটার সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহক। গ্রাহককে বাড়তি কোনো চার্জও দিতে হচ্ছে না। এতে ব্যাংক, দোকানদার ও গ্রাহক সব পক্ষই উপকৃত হচ্ছেন। শিগগিরই অন্য ব্যাংকগুলোও এ প্লাটফর্মের আওতায় আসবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা বলেন, নগদ টাকা বহনে নানা ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে ছিনতাইকারী বা পকেটমারের কবলে পড়ে টাকা খোয়া যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার অনেক ক্ষেত্রে জাল নোট নিয়ে ঠকতে হয়। তবে কার্ড ভিত্তিক লেনদেনে এসব ঝুঁকি নেই। এ কারণে কার্ড ভিত্তিক লেনদেনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সুবিধাজনক হওয়ায় দিন দিন তা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বর্তমানে ৭টি ব্যাংক আন্তঃব্যাংক পস প্লাটফর্মের আওতায় এলেও শিগগিরই অন্য ব্যাংকগুলোও এখানে কার্যক্রম শুরু করবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পসের মাধ্যমে পণ্যমূল্য নিতে আগে শপিং মল বা দোকানে একেক ব্যাংকের জন্য আলাদা-আলাদা মেশিন রাখতে হতো। তাতে দোকানদারের বাড়তি ঝামেলা নিতে হতো। আবার ব্যাংকগুলোরও তদারকিতে বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হতো। খরচ ওঠাতে গিয়ে অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে দোকানদার সব ব্যাংকের পস রাখতেন না। আবার রাখলেও তা রক্ষণাবেক্ষণে বাড়তি নজর দেওয়া লাগত। এখন আর তা করতে হচ্ছে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, লেনদেনে ঝুঁকি এড়াতে এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেল, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আন্তঃব্যাংক লেনদেনের সেটেলমেন্টের জন্য ২০১০ সালে এনপিএসবি চালু করা হয়। ২০১২ সালে তিনটি ব্যাংকের মধ্যে প্রথম আন্তঃব্যাংক এটিএম সেবা চালু হয়। বর্তমানে ৪৭টি ব্যাংকের এটিএম সেবা একই প্লাটফর্মের আওতায় এসেছে। সারা দেশে এসব ব্যাংকের ছয় হাজার ৩১৫টি এটিএম বুথ থেকে গ্রাহকরা নূ্যনতম চার্জ দিয়ে টাকা তোলার সুযোগ পাচ্ছেন। যেখানে দৈনিক গড়ে লেনদেন হচ্ছে ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শব্দচয়ন নিয়ে আইজিপিকে সতর্ক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কার্ডে ২৮ হাজার দোকানে কেনাকাটার সুযোগ

আপডেট টাইম : ১০:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০১৫

নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি এড়াতে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ভিত্তিক লেনদেনকে বেছে নিচ্ছেন অনেক গ্রাহক। কার্ডে লেনদেনে ঝুঁকি কম থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ লেনদেন উৎসাহিত করছে। কম খরচে ঝামেলাহীনভাবে সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে একই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনতে আন্তঃব্যাংক লেনদেনকে বেশি উৎসাহিত করা হচ্ছে। অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার সুযোগের মতো এখন এক ব্যাংকের পয়েন্ট অব সেল বা পস মেশিন ব্যবহার করে ৮ ব্যাংকের কার্ডধারী গ্রাহক কেনাকাটার সুযোগ পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সেপ্টেম্বর ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ২৮ হাজার ২৬৫টি দোকানে পস মেশিন রয়েছে। আন্তঃব্যাংক পস সেবা চালু করা ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি আরও কয়েকটি ব্যাংকের এ সেবা রয়েছে। শিগগিরই ওই ব্যাংকগুলোও একই প্লাটফর্মের আওতায় আসবে। গত আগস্ট প্রাথমিকভাবে বেসরকারি খাতের দ্য সিটি, ডাচ্-বাংলা, পূবালী ও ট্রাস্ট ব্যাংকের মধ্যে আন্তঃব্যাংক পস সেবা চালু হয়। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট, ওয়ান, যমুনা ও এনসিসি ব্যাংক। কোনো এক ব্যাংকের পস মেশিন ব্যবহার করে অন্য ব্যাংকের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনাকাটার সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহক। গ্রাহককে বাড়তি কোনো চার্জও দিতে হচ্ছে না। এতে ব্যাংক, দোকানদার ও গ্রাহক সব পক্ষই উপকৃত হচ্ছেন। শিগগিরই অন্য ব্যাংকগুলোও এ প্লাটফর্মের আওতায় আসবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা বলেন, নগদ টাকা বহনে নানা ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে ছিনতাইকারী বা পকেটমারের কবলে পড়ে টাকা খোয়া যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার অনেক ক্ষেত্রে জাল নোট নিয়ে ঠকতে হয়। তবে কার্ড ভিত্তিক লেনদেনে এসব ঝুঁকি নেই। এ কারণে কার্ড ভিত্তিক লেনদেনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সুবিধাজনক হওয়ায় দিন দিন তা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বর্তমানে ৭টি ব্যাংক আন্তঃব্যাংক পস প্লাটফর্মের আওতায় এলেও শিগগিরই অন্য ব্যাংকগুলোও এখানে কার্যক্রম শুরু করবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পসের মাধ্যমে পণ্যমূল্য নিতে আগে শপিং মল বা দোকানে একেক ব্যাংকের জন্য আলাদা-আলাদা মেশিন রাখতে হতো। তাতে দোকানদারের বাড়তি ঝামেলা নিতে হতো। আবার ব্যাংকগুলোরও তদারকিতে বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হতো। খরচ ওঠাতে গিয়ে অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে দোকানদার সব ব্যাংকের পস রাখতেন না। আবার রাখলেও তা রক্ষণাবেক্ষণে বাড়তি নজর দেওয়া লাগত। এখন আর তা করতে হচ্ছে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, লেনদেনে ঝুঁকি এড়াতে এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেল, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আন্তঃব্যাংক লেনদেনের সেটেলমেন্টের জন্য ২০১০ সালে এনপিএসবি চালু করা হয়। ২০১২ সালে তিনটি ব্যাংকের মধ্যে প্রথম আন্তঃব্যাংক এটিএম সেবা চালু হয়। বর্তমানে ৪৭টি ব্যাংকের এটিএম সেবা একই প্লাটফর্মের আওতায় এসেছে। সারা দেশে এসব ব্যাংকের ছয় হাজার ৩১৫টি এটিএম বুথ থেকে গ্রাহকরা নূ্যনতম চার্জ দিয়ে টাকা তোলার সুযোগ পাচ্ছেন। যেখানে দৈনিক গড়ে লেনদেন হচ্ছে ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা।