ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
অননুমোদিত দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ তেলের ঘাটতি নেই, আগের চেয়ে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে : জ্বালানিমন্ত্রী ঢামেকসহ ৫ মেডিক্যাল কলেজে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ রাশিয়া থেকে তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের হারানো ইমেজ উদ্ধারে সক্রিয় সরকার, অস্থিরতা তৈরির চেষ্টায় একটি গ্রুপ আকাশপথের নতুন রাজত্বের পথে পারস্য! ৬.৫ বিলিয়নের রাশিয়ান Kibony সিস্টেমসহ Su-35 এখন ইরানে, তবে কি অকেজো মার্কিন রাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎ এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ৭ জুন : শিক্ষামন্ত্রী সংসদে নামাজ পড়তে গিয়ে জুতা খোয়ালেন এমপি ২০ বছর পর ৩৩০ পুলিশ কর্মকর্তার নিয়োগ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা মঙ্গলবার শুরু

পুলিশ কনস্টেবল হলেন গৃহকর্মীর মেয়ে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০১৯
  • ৩৩০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ নাটোরের সিংড়া উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের হতদরিদ্র জবদুল প্রামাণিকের মেয়ে সাদিয়া সুলতানা। প্রত্যন্ত এলাকার গ্রামের মাটির ঘরেই বেড়ে ওঠা তার। বাবার দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর ঘরে সাদিয়ার মা সহ ৫ জনের বসবাস। বাবা দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। খোঁজ রাখেন না তাদের। মা হাজেরা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার আর সাদিয়ার পড়াশুনার খরচ বহন করেন।

চোখে আনন্দ অশ্রু আর শত কষ্ট ছাপিয়ে এভাবেই পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাওয়ার বর্ণনা দিচ্ছিলেন তিনি।

সাদিয়া সুলতানা বলেন, বড় দুলাভাই দুই শ টাকা দেওয়ার পর সে টাকা দিয়েই আবেদন করি। যেদিন লাইনে দাঁড়াবো, সেদিন মায়ের অন্যের বাড়িতে কাজ করে আনা দুই শ টাকা নিয়ে নাটোরে গিয়ে পুলিশের লাইনে দাঁড়াই। এরপর শারীরিক, লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। এখন চাকুরি পাওয়ার পর মনে হচ্ছে মায়ের দুই শ টাকাই আমার জন্য আর্শিবাদ।

সে এবার চলনবিল মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। চার বোনের মধ্যে সাদিয়া সবার ছোট সাদিয়া ।

তার মা হাজেরা বেগম বলেন, প্রথমে যখন পুলিশ নিয়োগের সার্কুলার হয়, তখন আমার বড় মেয়ের জামাই ইসমাইল হোসেন ফোনে সাদিয়াকে আবেদন করতে বলেন। সাদিয়া তখন আবেদন করতে চায় না। তার দুলা ভাইকে বলে টাকা ছাড়া চাকুরি হবে না, শুধু শুধু আবেদন করে কী লাভ। তারপরও দুলাভাইয়ের কথা অনুযায়ী সাদিয়া দুই শ টাকা নিয়ে আবেদন করে। পরে লাইনে দাঁড়ালে তার চাকুরিটা হয়। এখন বিশ্বাসই হচ্ছে না টাকা ছাড়াও সরকারী চাকুরি হয়।

পুলিশের কনস্টেবল পদে আগে থেকেই বিনা টাকায় নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন নাটোরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন। মাত্র এক শ টাকার বিনিময়ে চাকরি পাওয়া যাবে পুলিশের এমন ঘোষণার পর অনেকেই বিষয়টি হাস্যকর বলেছেন। কিন্তু বিনা টাকায় চাকরি দিয়ে সে কথা রেখেছেন পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন। বিনা টাকায় চাকরি পেয়ে আনন্দের বন্যা চলছে এখন হতদরিদ্র সাদিয়া পরিবারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

অননুমোদিত দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ

পুলিশ কনস্টেবল হলেন গৃহকর্মীর মেয়ে

আপডেট টাইম : ০২:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ নাটোরের সিংড়া উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের হতদরিদ্র জবদুল প্রামাণিকের মেয়ে সাদিয়া সুলতানা। প্রত্যন্ত এলাকার গ্রামের মাটির ঘরেই বেড়ে ওঠা তার। বাবার দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর ঘরে সাদিয়ার মা সহ ৫ জনের বসবাস। বাবা দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। খোঁজ রাখেন না তাদের। মা হাজেরা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার আর সাদিয়ার পড়াশুনার খরচ বহন করেন।

চোখে আনন্দ অশ্রু আর শত কষ্ট ছাপিয়ে এভাবেই পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাওয়ার বর্ণনা দিচ্ছিলেন তিনি।

সাদিয়া সুলতানা বলেন, বড় দুলাভাই দুই শ টাকা দেওয়ার পর সে টাকা দিয়েই আবেদন করি। যেদিন লাইনে দাঁড়াবো, সেদিন মায়ের অন্যের বাড়িতে কাজ করে আনা দুই শ টাকা নিয়ে নাটোরে গিয়ে পুলিশের লাইনে দাঁড়াই। এরপর শারীরিক, লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। এখন চাকুরি পাওয়ার পর মনে হচ্ছে মায়ের দুই শ টাকাই আমার জন্য আর্শিবাদ।

সে এবার চলনবিল মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। চার বোনের মধ্যে সাদিয়া সবার ছোট সাদিয়া ।

তার মা হাজেরা বেগম বলেন, প্রথমে যখন পুলিশ নিয়োগের সার্কুলার হয়, তখন আমার বড় মেয়ের জামাই ইসমাইল হোসেন ফোনে সাদিয়াকে আবেদন করতে বলেন। সাদিয়া তখন আবেদন করতে চায় না। তার দুলা ভাইকে বলে টাকা ছাড়া চাকুরি হবে না, শুধু শুধু আবেদন করে কী লাভ। তারপরও দুলাভাইয়ের কথা অনুযায়ী সাদিয়া দুই শ টাকা নিয়ে আবেদন করে। পরে লাইনে দাঁড়ালে তার চাকুরিটা হয়। এখন বিশ্বাসই হচ্ছে না টাকা ছাড়াও সরকারী চাকুরি হয়।

পুলিশের কনস্টেবল পদে আগে থেকেই বিনা টাকায় নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন নাটোরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন। মাত্র এক শ টাকার বিনিময়ে চাকরি পাওয়া যাবে পুলিশের এমন ঘোষণার পর অনেকেই বিষয়টি হাস্যকর বলেছেন। কিন্তু বিনা টাকায় চাকরি দিয়ে সে কথা রেখেছেন পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন। বিনা টাকায় চাকরি পেয়ে আনন্দের বন্যা চলছে এখন হতদরিদ্র সাদিয়া পরিবারে।