ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুক্তাগাছায় ৩০ বছরেও চালু হয়নি বিসিক শিল্পনগরী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৪৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ জুন ২০১৯
  • ৩০৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় শিল্পনগরী স্থাপনের কাজ শুরু হয় ১৯৮৯ সালে। এ লক্ষে পাঁচ একর বিশ শতক জমি অধিগ্রহণ করে মাটি ভরাট করা হয়।

তবে ৩০ বছরেও শিল্পনগরী চালু হয়নি। জমি অধিগ্রহণের আড়াই যুগেও বিসিক শিল্পনগরী বাস্তবে রূপ না পাওয়ায় ক্রমেই এর জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছর পড়ে আছে শিল্পনগরী গড়ে তোলার বিশাল খালি জায়গা।

সরকার আসে সরকার যায়, কেউ নজর দেয়নি এটি বাস্তবে গড়ে তোলার। নির্বাচন এলেই ঘোষণা দেয়া হয়- পাস করলেই বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবেন তারা। এর পর আর খবর নেন না জনপ্রতিনিধিরা এর বাস্তবায়নে।

এভাবেই চলছে ত্রিশ বছর। কবে নাগাদ এর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে এটাও এখন অনিশ্চিত। অথচ বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার সব ধরনের সুবিধা রয়েছে এ এলাকায়। মুক্তাগাছা উপজেলার সাতাশিয়া নামক এলাকায় বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

১৯৮৯ সালে ৫ একর ২০ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তৎকালীন সময় ১৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকায় জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরে ওই জমিতে মাটি ভরাটের কাজও করা হয়। এতে ব্যয় হয় আরো প্রায় ২৭ লাখ টাকা। সরকারের বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করা হলেও এর পর আর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি এটির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে।

জমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাটের বিশাল এ মাঠ এখন গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। ক্রমেই এর জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। অবৈধভাবে মাছ ব্যবসায়ীরা ড্রাম ফেলে ও পানি ভরাটের কাজ করছেন মাঠ দখল করে। বাঁশের বেড়া দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কলাবাগান ও বিভিন্ন ফসল আবাদ।

ক্রমেই এর জায়গা এখন ছোট হয়ে আসছে। এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে আড়াই যুগ ধরে। অথচ গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সব ধরনের সুবিধা রয়েছে বিসিক শিল্পনগরীর এলাকায়। শিল্পনগরী গড়ে তোলার অনুকূল পরিবেশও রয়েছে এটিকে ঘিরে। এত কিছুর পরও জমি অধিগ্রহণের দীর্ঘ ৩০ বছর পার হয়েছে। কোনো সরকারই এটির বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

এতে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন পিছিয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা বিসিকের সব ধরনের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ময়মনসিংহ জেলায় যে কয়টি পুরনো পৌরসভা ও শহর রয়েছে, তার মধ্যে মুক্তাগাছা অন্যতম। মুক্তাগাছা পৌরসভা ১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা হয়।

পৌরসভা ঘোষিত হওয়ার পর এটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। ময়মনসিংহ শহরের বাইরে মুক্তাগাছায় প্রথম কিছু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। সেজন্য শিল্পোদ্যোক্তাদের অনুরোধেই এখানে একটি বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। বিসিক শিল্পনগরী চালু না হওয়ায় হতাশ ব্যবসায়ী মহল।

ময়মনসিংহ বিসিক সূত্রে জানা যায়, জেলা শহরের বাইরে ১৩টি উপজেলার মধ্যে একমাত্র মুক্তাগাছায় বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। মুক্তাগাছা উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে সাতাশিয়া এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করা হয়।

এর পর শিল্পনগরী স্থাপনের কাজে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইউএনও সুবর্ণা সরকার বলেন, বিসিক শিল্পনগরীর বাস্তবায়নে ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি অল্প সময়ের ভেতরে চারদিকে বাউন্ডারির কাজসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তাগাছায় ৩০ বছরেও চালু হয়নি বিসিক শিল্পনগরী

আপডেট টাইম : ১২:৪৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ জুন ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় শিল্পনগরী স্থাপনের কাজ শুরু হয় ১৯৮৯ সালে। এ লক্ষে পাঁচ একর বিশ শতক জমি অধিগ্রহণ করে মাটি ভরাট করা হয়।

তবে ৩০ বছরেও শিল্পনগরী চালু হয়নি। জমি অধিগ্রহণের আড়াই যুগেও বিসিক শিল্পনগরী বাস্তবে রূপ না পাওয়ায় ক্রমেই এর জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছর পড়ে আছে শিল্পনগরী গড়ে তোলার বিশাল খালি জায়গা।

সরকার আসে সরকার যায়, কেউ নজর দেয়নি এটি বাস্তবে গড়ে তোলার। নির্বাচন এলেই ঘোষণা দেয়া হয়- পাস করলেই বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবেন তারা। এর পর আর খবর নেন না জনপ্রতিনিধিরা এর বাস্তবায়নে।

এভাবেই চলছে ত্রিশ বছর। কবে নাগাদ এর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে এটাও এখন অনিশ্চিত। অথচ বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার সব ধরনের সুবিধা রয়েছে এ এলাকায়। মুক্তাগাছা উপজেলার সাতাশিয়া নামক এলাকায় বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

১৯৮৯ সালে ৫ একর ২০ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তৎকালীন সময় ১৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকায় জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরে ওই জমিতে মাটি ভরাটের কাজও করা হয়। এতে ব্যয় হয় আরো প্রায় ২৭ লাখ টাকা। সরকারের বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করা হলেও এর পর আর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি এটির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে।

জমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাটের বিশাল এ মাঠ এখন গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। ক্রমেই এর জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। অবৈধভাবে মাছ ব্যবসায়ীরা ড্রাম ফেলে ও পানি ভরাটের কাজ করছেন মাঠ দখল করে। বাঁশের বেড়া দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কলাবাগান ও বিভিন্ন ফসল আবাদ।

ক্রমেই এর জায়গা এখন ছোট হয়ে আসছে। এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে আড়াই যুগ ধরে। অথচ গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সব ধরনের সুবিধা রয়েছে বিসিক শিল্পনগরীর এলাকায়। শিল্পনগরী গড়ে তোলার অনুকূল পরিবেশও রয়েছে এটিকে ঘিরে। এত কিছুর পরও জমি অধিগ্রহণের দীর্ঘ ৩০ বছর পার হয়েছে। কোনো সরকারই এটির বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

এতে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন পিছিয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা বিসিকের সব ধরনের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ময়মনসিংহ জেলায় যে কয়টি পুরনো পৌরসভা ও শহর রয়েছে, তার মধ্যে মুক্তাগাছা অন্যতম। মুক্তাগাছা পৌরসভা ১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা হয়।

পৌরসভা ঘোষিত হওয়ার পর এটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। ময়মনসিংহ শহরের বাইরে মুক্তাগাছায় প্রথম কিছু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। সেজন্য শিল্পোদ্যোক্তাদের অনুরোধেই এখানে একটি বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। বিসিক শিল্পনগরী চালু না হওয়ায় হতাশ ব্যবসায়ী মহল।

ময়মনসিংহ বিসিক সূত্রে জানা যায়, জেলা শহরের বাইরে ১৩টি উপজেলার মধ্যে একমাত্র মুক্তাগাছায় বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। মুক্তাগাছা উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে সাতাশিয়া এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করা হয়।

এর পর শিল্পনগরী স্থাপনের কাজে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইউএনও সুবর্ণা সরকার বলেন, বিসিক শিল্পনগরীর বাস্তবায়নে ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি অল্প সময়ের ভেতরে চারদিকে বাউন্ডারির কাজসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হবে।