ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জিয়াকে ‘কৃষক পিতা’ বলেছিলেন শাইখ সিরাজ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০১৯
  • ৩৮২ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ চ্যানেল আইয়ের বার্তা পরিচালক শাইখ সিরাজ জিয়াউর রহমানকে ‘কৃষক পিতা’ উপাধি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত সুপারিশের বিস্তারিত পাওয়া গেছে। ১৯৯৫ সালের ২৬ মে তৎকালীন মাটি ও মানুষের উপস্থাপক শাইখ সিরাজ এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ঐ বছর এই প্রস্তাব দেওয়ার বিনিময়ে শাইখ সিরাজ ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পদক’ হাতিয়ে নিয়েছিলেন। বর্তমানে এই পদকের নাম পরিবর্তন করে ‘বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক’ রাখা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নথিতে দেখা যায়, শাইখ সিরাজ ২৬ মে ১৯৯৫ সালে রাষ্ট্রপতি কৃষি পদক প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেন। আবেদনে তিনি ‘মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি কীভাবে কৃষিক্ষেত্রে অবদান রাখছেন তার ফিরিস্তি দেন। আবেদনে তিনি নিজেকে ‘জিয়া সৈনিক’ বলে উল্লেখ করেন। আবেদনে খাল কাটাসহ জিয়ার উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি দিয়ে শাইখ সিরাজ লিখেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কৃষি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তাকে কৃষক পিতা উপাধি দেয়া উচিত।’ শাইখ সিরাজের এই আবেদনে সুপারিশ করেন তৎকালীন মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের (বর্তমানে মৎস্য ও প্রানী সম্পদ) আবদুল্লাহ আল নোমান। মন্ত্রী সুপারিশ বলেন ‘শাইখ সিরাজ জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ একজন ব্যক্তি। তার মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানটি কৃষি ক্ষেত্রে গুরেুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।’ আবেদনটি কৃষি মন্ত্রণালয়ে স্বাভাবিক ক্যাটাগরিতে নথিযুক্ত হয়। কিন্তু তৎকালীন যুগ্নসচিব (প্রশাসন) এই আবেদনটি অগ্রহণযোগ্য বলে নাকচ করার সুপারিশ করেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব আবদুর রাজ্জাক নথিতে বলেন,‘রাষ্ট্রপতির কৃষি পদক পাবার যোগ্যতার তালিকায় বলা হয়েছে কৃষিতে সরাসরি অবদান রাখা কৃষক এবং গবেষকরা এই পুরস্কার প্রাপ্তির যোগ্য। আলোচ্য আবেদনকারী দুটির একটি শর্তও পূরণ করেন না বিধায় তাকে এই পুরস্কার দেয়া সমীচিন নয়।’ এই সুপারিশ সচিব পর্যন্ত পৌছে। সচিব তাকে বিবেচনায় না নেয়ার সুপারিশ করে চুড়ান্ত তালিকা মন্ত্রীর দপ্তরে অনুমোদনের জণ্য পাঠান। তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব:) মজিদ উল হক, শাইখ সিরাজের নাম বাদ দিয়ে প্রস্তাবিত পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকার সামারী প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করেন। এই সময় ৩০ মে জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনে শাইখ সিরাজ উপস্থাপিত উপস্থাপিত মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠান হয় ‘কৃষকের বন্ধু জিয়া’ শিরোনামে। ওই অনুষ্ঠানে শাইখ সিরাজ আবার জিয়াকে কৃষকের পিতা উল্লেখ করেন।

এরপর বদলে যায় দৃশ্যপট। পুরস্কার প্রাপ্তদের নামের সুপারিশ সংক্রান্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের ফাইল (ইবি/৩৪/পুরস্কার/৯/৯১) প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর ছাড়া ফেরত আসে। উপরে নোটসীটে শাইখ সিরাজের নাম উল্লেখ করে পুনরায় ফাইল প্রেরণের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব। এরপর মন্ত্রণালয় আবার শাইখ সিরাজের নামযুক্ত করে। এভাবেই ১৯৯৫ সালে রাষ্ট্রপতির কৃষি পদক হাতিয়ে নিয়েছিলেন শাইখ সিরাজ। প্রায় একই কায়দায় গত বছর স্বাধীনতা পদক ও ছিনতাই করেন তিনি। পার্থক্য হলো, সে সময় তিনি ‘জিয়া সৈনিক’ হয়ে ঐ পুরস্কার বাগিয়েছিলেন, আর এখন ‘বঙ্গবন্ধু সৈনিক’ হিসেবে রাজাকার পুত্র হয়েও হাতিয়ে নিয়েছেন স্বাধীনতা পুরস্কার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়াকে ‘কৃষক পিতা’ বলেছিলেন শাইখ সিরাজ

আপডেট টাইম : ১২:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ চ্যানেল আইয়ের বার্তা পরিচালক শাইখ সিরাজ জিয়াউর রহমানকে ‘কৃষক পিতা’ উপাধি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত সুপারিশের বিস্তারিত পাওয়া গেছে। ১৯৯৫ সালের ২৬ মে তৎকালীন মাটি ও মানুষের উপস্থাপক শাইখ সিরাজ এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ঐ বছর এই প্রস্তাব দেওয়ার বিনিময়ে শাইখ সিরাজ ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পদক’ হাতিয়ে নিয়েছিলেন। বর্তমানে এই পদকের নাম পরিবর্তন করে ‘বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক’ রাখা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নথিতে দেখা যায়, শাইখ সিরাজ ২৬ মে ১৯৯৫ সালে রাষ্ট্রপতি কৃষি পদক প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেন। আবেদনে তিনি ‘মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি কীভাবে কৃষিক্ষেত্রে অবদান রাখছেন তার ফিরিস্তি দেন। আবেদনে তিনি নিজেকে ‘জিয়া সৈনিক’ বলে উল্লেখ করেন। আবেদনে খাল কাটাসহ জিয়ার উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি দিয়ে শাইখ সিরাজ লিখেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কৃষি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তাকে কৃষক পিতা উপাধি দেয়া উচিত।’ শাইখ সিরাজের এই আবেদনে সুপারিশ করেন তৎকালীন মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের (বর্তমানে মৎস্য ও প্রানী সম্পদ) আবদুল্লাহ আল নোমান। মন্ত্রী সুপারিশ বলেন ‘শাইখ সিরাজ জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ একজন ব্যক্তি। তার মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানটি কৃষি ক্ষেত্রে গুরেুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।’ আবেদনটি কৃষি মন্ত্রণালয়ে স্বাভাবিক ক্যাটাগরিতে নথিযুক্ত হয়। কিন্তু তৎকালীন যুগ্নসচিব (প্রশাসন) এই আবেদনটি অগ্রহণযোগ্য বলে নাকচ করার সুপারিশ করেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব আবদুর রাজ্জাক নথিতে বলেন,‘রাষ্ট্রপতির কৃষি পদক পাবার যোগ্যতার তালিকায় বলা হয়েছে কৃষিতে সরাসরি অবদান রাখা কৃষক এবং গবেষকরা এই পুরস্কার প্রাপ্তির যোগ্য। আলোচ্য আবেদনকারী দুটির একটি শর্তও পূরণ করেন না বিধায় তাকে এই পুরস্কার দেয়া সমীচিন নয়।’ এই সুপারিশ সচিব পর্যন্ত পৌছে। সচিব তাকে বিবেচনায় না নেয়ার সুপারিশ করে চুড়ান্ত তালিকা মন্ত্রীর দপ্তরে অনুমোদনের জণ্য পাঠান। তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব:) মজিদ উল হক, শাইখ সিরাজের নাম বাদ দিয়ে প্রস্তাবিত পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকার সামারী প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করেন। এই সময় ৩০ মে জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনে শাইখ সিরাজ উপস্থাপিত উপস্থাপিত মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠান হয় ‘কৃষকের বন্ধু জিয়া’ শিরোনামে। ওই অনুষ্ঠানে শাইখ সিরাজ আবার জিয়াকে কৃষকের পিতা উল্লেখ করেন।

এরপর বদলে যায় দৃশ্যপট। পুরস্কার প্রাপ্তদের নামের সুপারিশ সংক্রান্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের ফাইল (ইবি/৩৪/পুরস্কার/৯/৯১) প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর ছাড়া ফেরত আসে। উপরে নোটসীটে শাইখ সিরাজের নাম উল্লেখ করে পুনরায় ফাইল প্রেরণের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব। এরপর মন্ত্রণালয় আবার শাইখ সিরাজের নামযুক্ত করে। এভাবেই ১৯৯৫ সালে রাষ্ট্রপতির কৃষি পদক হাতিয়ে নিয়েছিলেন শাইখ সিরাজ। প্রায় একই কায়দায় গত বছর স্বাধীনতা পদক ও ছিনতাই করেন তিনি। পার্থক্য হলো, সে সময় তিনি ‘জিয়া সৈনিক’ হয়ে ঐ পুরস্কার বাগিয়েছিলেন, আর এখন ‘বঙ্গবন্ধু সৈনিক’ হিসেবে রাজাকার পুত্র হয়েও হাতিয়ে নিয়েছেন স্বাধীনতা পুরস্কার।