ঢাকা ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকৃতিকে ভালোবেসে ৭৯ বছর বিদ্যুৎহীন আছেন অধ্যাপিকা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ মে ২০১৯
  • ৩৩৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণে স্বেচ্ছায় বিদ্যুৎ ছাড়া জীবন কাটাচ্ছেন ভারতের পুনের প্রাক্তন অধ্যাপিকা হেমা সানে। পুনের বুধওয়ার পেথের একটি ছোট্ট কুঁড়েঘরে বাস করেন হেমা। বিদ্যুৎ ব্যবহার না করার পেছনে তার একমাত্র কারণ প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসা।

হেমা বলেন, একসময় তো বিদ্যুৎ ছিল না। তখন তো মানুষ বেঁচে থেকেছে। আমিও বিদ্যুৎ ছাড়াই দিব্যি রয়েছি। হেমা সানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী তার কুকুর, দুই বিড়াল, এক নেউল এবং অনেক অনেক পাখি।

হেমা বলেন, এটি ওদেরই সম্পত্তি, আমার নয়। আমি ওদের দেখাশোনা করার জন্যই এখানে আছি। মানুষ আমাকে বোকা বলে, আমি উন্মাদ হতেই পারি; কিন্তু এটা আমার কাছে কোনো ব্যাপার নয়। কারণ এটাই আমার জীবনের ‘অদ্ভুত’ পথ।

হেমা সানে সাবিত্রীবাঈ ফুলে পুনে বিশ্ববিদ্যালয়ে বোটানিতে পিএইচডি করেন এবং বহু বছর ধরে তিনি পুনের গারওয়ারে কলেজে অধ্যাপনা করেন।

বিভিন্ন ধরনের গাছ এবং পাখিবেষ্টিত তার এই বাসায় সকাল শুরু হয় পাখিদের আওয়াজে, রাত নামে লম্ফের আলোতে।

উদ্ভিদবিদ্যা ও পরিবেশ বিষয়ে হেমা সানে অনেক বইও লিখেছেন। এমনকি আজও যখনই তিনি তার বাড়িতে একা থাকেন, তখনই তিনি নতুন বই লেখেন। পরিবেশ সম্পর্কে তার গবেষণা এমনই যে কোনো পাখি বা বৃক্ষ তার কাছে অজানা নয়।

হেমা সানে আরও বলেন, আমি সারাজীবনে কখনও বিদ্যুতের প্রয়োজন অনুভব করিনি। লোকেরা প্রায়ই আমাকে জিজ্ঞেস করে যে আপনি কীভাবে বিদ্যুৎ ছাড়াই বাঁচেন। আমি ওদের পাল্টা জিজ্ঞেস করি বিদ্যুৎ নিয়ে আপনি কীভাবে থাকেন?

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রকৃতিকে ভালোবেসে ৭৯ বছর বিদ্যুৎহীন আছেন অধ্যাপিকা

আপডেট টাইম : ০৪:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ মে ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণে স্বেচ্ছায় বিদ্যুৎ ছাড়া জীবন কাটাচ্ছেন ভারতের পুনের প্রাক্তন অধ্যাপিকা হেমা সানে। পুনের বুধওয়ার পেথের একটি ছোট্ট কুঁড়েঘরে বাস করেন হেমা। বিদ্যুৎ ব্যবহার না করার পেছনে তার একমাত্র কারণ প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসা।

হেমা বলেন, একসময় তো বিদ্যুৎ ছিল না। তখন তো মানুষ বেঁচে থেকেছে। আমিও বিদ্যুৎ ছাড়াই দিব্যি রয়েছি। হেমা সানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী তার কুকুর, দুই বিড়াল, এক নেউল এবং অনেক অনেক পাখি।

হেমা বলেন, এটি ওদেরই সম্পত্তি, আমার নয়। আমি ওদের দেখাশোনা করার জন্যই এখানে আছি। মানুষ আমাকে বোকা বলে, আমি উন্মাদ হতেই পারি; কিন্তু এটা আমার কাছে কোনো ব্যাপার নয়। কারণ এটাই আমার জীবনের ‘অদ্ভুত’ পথ।

হেমা সানে সাবিত্রীবাঈ ফুলে পুনে বিশ্ববিদ্যালয়ে বোটানিতে পিএইচডি করেন এবং বহু বছর ধরে তিনি পুনের গারওয়ারে কলেজে অধ্যাপনা করেন।

বিভিন্ন ধরনের গাছ এবং পাখিবেষ্টিত তার এই বাসায় সকাল শুরু হয় পাখিদের আওয়াজে, রাত নামে লম্ফের আলোতে।

উদ্ভিদবিদ্যা ও পরিবেশ বিষয়ে হেমা সানে অনেক বইও লিখেছেন। এমনকি আজও যখনই তিনি তার বাড়িতে একা থাকেন, তখনই তিনি নতুন বই লেখেন। পরিবেশ সম্পর্কে তার গবেষণা এমনই যে কোনো পাখি বা বৃক্ষ তার কাছে অজানা নয়।

হেমা সানে আরও বলেন, আমি সারাজীবনে কখনও বিদ্যুতের প্রয়োজন অনুভব করিনি। লোকেরা প্রায়ই আমাকে জিজ্ঞেস করে যে আপনি কীভাবে বিদ্যুৎ ছাড়াই বাঁচেন। আমি ওদের পাল্টা জিজ্ঞেস করি বিদ্যুৎ নিয়ে আপনি কীভাবে থাকেন?